পুলিশের হাতে বুয়েট শিক্ষার্থী রাফিদের নির্যাতনের অভিযোগ

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে পদযাত্রায় অংশ নেওয়া বুয়েট শিক্ষার্থী রাফিদের মাটিতে ফেলে লাথি ও হেলমেট দিয়ে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী রাফিদ জামান খান অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনের সময় তাঁকে মাটিতে ফেলে পুলিশ বুট দিয়ে লাথি মারে ও হেলমেট দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
গত বুধবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে পদযাত্রার সময় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ছোড়ে। একপর্যায়ে লাঠিপেটা শুরু করে। ওই সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এক শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরতে দেখা যায়—যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবির শিক্ষার্থী রাফিদ জামান খান, তিনি বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাফিদ বলেন, পেছন থেকে ডিসি মাসুদ আলম তাঁর মুখ চেপে ধরেন এবং মাটিতে ফেলে দেন। এরপর তাঁকে ‘খুবই আনপ্রফেশনালভাবে’ আচরণ করা হয়। রাফিদের ভাষায়, “মাটিতে ফেলার পরে আমাকে বুট দিয়ে লাথি মেরেছে, পিটিয়েছে, এমনকি একজন হেলমেট দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেছে।”
ঘটনার দিন পুলিশের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষে না জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাফিদ। তিনি জানান, সড়কে বসে ছিলেন যাতে পুলিশ তাঁদের আক্রমণাত্মক মনে না করে। কিন্তু টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিনি বলেন, “একপর্যায়ে আমি আটকা পড়ে যাই এবং একটানা মার খেতে থাকি।”
এ ঘটনায় ডিএমপি দাবি করেছে, ছবিটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার ও ডিসমিসল্যাব নিশ্চিত করেছে, ছবিটি আসল, এআই-জেনারেটেড নয়। রাফিদও বলেছেন, “এটা কোনোভাবেই এআই জেনারেটেড না।”
পুলিশের এ হামলার ঘটনায় বুধবার রাতে শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।