সঞ্চয়পত্রে মুনাফার সর্বোচ্চ সীমা কমলো
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য জাতীয় সঞ্চয়পত্র ও বন্ডে বিনিয়োগে মুনাফার নতুন হার নির্ধারণ করেছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর।
বছরের প্রথম দিন থেকে কার্যকর ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী জুন পর্যন্ত সঞ্চপত্রের বিপরীতে সাড়ে সাত লাখ টাকা বা তার চেয়ে কম বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ; সর্বনিম্ন হবে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
গত বছরের জুলাইয়ে ছয় মাসের জন্য ঠিক করা মুনাফার হার ছিল ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
নতুন মুনাফার হারে আগামী ছয় মাসের জন্য পেনশন স্কিমে সর্বোচ্চ মুনাফা ধরা হয় ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
সাধারণ সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয় ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা বা তার চেয়ে কম বিনিয়োগের বেলায় পাঁচ বছরের মেয়াদে এ মুনাফা পাওয়া যাবে।
এতোদিন এ মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য বন্ডে বিনিয়োগের সুদহার করা হয় ১২ শতাংশ।
অন্যদিকে সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
সরকার প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর সঞ্চয়পত্রে সুদহার ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুদহার বদলালেও যখন যে স্কিমে বিনিয়োগ করা হবে, তা মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেনার সময়কার সুদহার থাকবে।
একক বা যৌথভাবে সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা বিনিয়োগে এক ধরনের সুদহার মিলবে। তার চেয়ে বেশি বিনিয়োগে অপেক্ষাকৃত কম সুদহার দেয় সরকার।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ৫ বছরের জন্য বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ, এটিই সর্বোচ্চ সুদহার। এতদিন ছিল সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
এ স্কিমে এক থেকে পাঁচ বছরের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে বিনিয়োগ করা যাবে।
বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১ থেকে ৫ বছর, তিন মাস অন্তর অন্তর মুনাফাভিত্তক সঞ্চয়পত্রে ১ থেকে ৩ বছর, পরিবার সঞ্চপত্রে ১ থেকে ৫ বছর ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে ১ থেকে ৩ বছর মেয়াদে বিনিয়োগ করা যাবে।
সঞ্চয় স্কিমে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পরিবার সঞ্চয়পত্র।
প্রবাসীদের জন্য ‘ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট’ বন্ডে ৬ মাস থেকে ৬ বছরের জন্য বিনিয়োগে মুনাফা ধরা হয় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ।
এ বন্ডে বিনিয়োগে চার ধরনের সীমা নির্ধারণ করে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১২ শতাংশ, পরের ধাপে ৩০ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ, এর পরের ধাপে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ ও এর চেয়ে বেশি সীমার বেলায় মুনাফার হার কমে ৯ শতাংশ র্নিধারণ করা হয়।
গত দুই বছর ধরে চলে আসা ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের মুনাফার হারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি এ দুটি বন্ডের মুনাফার হার নির্ধারণ করে সঞ্চয় অধিদপ্তর।
সেই হার বজায় রেখে নতুন প্রজ্ঞাপন দিয়ে ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ডে এক লাখ টাকার সম পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগে ১ থেকে ৩ বছরের জন্য সাড়ে ৬ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ মুনাফা মিলবে।
এক থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিয়োগে ১ থেকে ৩ বছরের জন্য ৫ থেকে ৬ শতাংশ এবং ৫ লাখের বেশি বিনিয়োগে ১ থেকে ৩ বছরের জন্য ৪ থেকে ৫ শতাংশ মুনাফা ধরা হয়।
ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ডেরে চেয়ে এক শতাংশ কম মুনাফা ধরা হয় আরেক বিদেশি মুদ্রায় পরিচালিত ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে।
এ বন্ডে এক লাখ টাকার সম পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১ থেকে ৩ বছরের জন্য সাড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ মুনাফ ধরা হয়।
এক থেকে তিন বছরের জন্য ১ থেকে ৫ লাখের মধ্যে বিনিয়োগে মুনাফা ধরা হয় ৪ থেকে ৫ শতাংশ। আর একই সময়ের জন্য পাঁচে লাখের বেশি বিনিয়োগ হলে মিলবে ৩ থেকে ৪ শতাংশ মুনাফা।
ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা বলতে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বোঝানো হয়।