বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ১৮ ১৪৩২, ১২ রজব ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

নববর্ষের বার্তায় রাশিয়ার সঙ্গে ‘অপরাজেয় জোট’-এর প্রশংসা কিমের

 প্রকাশিত: ১৩:২৪, ১ জানুয়ারি ২০২৬

নববর্ষের বার্তায় রাশিয়ার সঙ্গে ‘অপরাজেয় জোট’-এর প্রশংসা কিমের

নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বিদেশের মাটিতে লড়াইরত নিজের সেনাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে তাঁদের এই সহযোগিতা গড়ে তুলেছে এক ‘অপরাজেয় জোট’। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়। সিউল থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

দক্ষিণ কোরিয়া ও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রায় চার বছর ধরে চলা আগ্রাসনে সহায়তা দিতে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে পিয়ংইয়ং।

দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাবে, এ পর্যন্ত অন্তত ৬০০ উত্তর কোরীয় সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার।

বিশ্লেষকদের মতে, এর বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা, সামরিক প্রযুক্তি এবং খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ পাচ্ছে উত্তর কোরিয়া।

রাষ্ট্রীয় কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, ‘ভিনদেশের মাটিতে’ যুদ্ধরত সেনাদের কিম অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি জাতীয় মর্যাদার ‘বীরোচিত’ প্রতিরক্ষার জন্য তাঁদের প্রশংসা করেন এবং ‘সাহসী হতে’ নির্দেশ দেন।

কেসিএনকে কিম বলেন, ‘নববর্ষকে স্বাগত জানাতে যখন পুরো দেশ উৎসবের আবহে, ঠিক এই মুহূর্তেও ভিনদেশের যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসের সঙ্গে লড়ে যাওয়া তোমাদের কথা আমি আরও বেশি করে মনে করছি।’

তিনি বলেন, ‘তোমাদের পেছনে রয়েছে পিয়ংইয়ং ও মস্কো।’

রাশিয়ার সঙ্গে ‘অপরাজেয় জোট’ আরও শক্তিশালী করার জন্য সেনাদের প্রশংসা করেন কিম। তিনি তাঁদের ‘ভ্রাতৃপ্রতিম রুশ জনগণের জন্য’ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এ বছর বিদেশের মাটিতে আরো সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিতও দেন উত্তর কোরীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘বিদেশি যুদ্ধক্ষেত্রে তোমরা যে উল্লেখযোগ্য কীর্তি গড়বে,’ সেটিই তার প্রমাণ।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, নববর্ষ উপলক্ষে পিয়ংইয়ংয়ের মে ডে স্টেডিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভাষণ দেন কিম।

কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রি সল জু এবং কন্যা জু অ্যা। ধারণা করা হয়, জু অ্যাই তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ জোট কিমের সরকারের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তার পথ খুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সংলাপের প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করতে পারছেন।

কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল এএফপিকে বলেন, ‘রাশিয়ায় সেনা মোতায়েনসহ বিদেশে সামরিক অভিযান বা সহযোগিতা এখন আর ব্যতিক্রম নয়। এটি উত্তর কোরিয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা নীতির অংশ হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্ট, সেনা মোতায়েন থেকে পাওয়া ‘অর্থনৈতিক ও সামরিক সুবিধা’ কিম অভ্যন্তরীণ দর্শকের কাছে জাতীয়তাবাদী আবেদনে উপস্থাপন করতে পারছেন।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ইউরোপের সাম্প্রতিক দশকগুলোর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িত উত্তর কোরীয় সেনাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ বলে মাঠপর্যায়ের তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ও ইউক্রেনের হাতে আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনার বর্ণনা অনুযায়ী, বন্দি হওয়ার বদলে আত্মহত্যা করতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার পর ইউক্রেনের হাতে আটক ওই দুই সেনা বর্তমানে কিয়েভের হেফাজতে রয়েছেন। তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।