বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ১৮ ১৪৩২, ১২ রজব ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে কোরান ছুঁয়ে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি

 প্রকাশিত: ১৪:১১, ১ জানুয়ারি ২০২৬

নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে কোরান ছুঁয়ে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল ও ব্যয়বহুল শহর নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি।

নতুন বছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর নিউ ইয়র্কের বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে আড়ম্বরহীন এক অনুষ্ঠানে মেয়র হিসেবে অভিষেক হয় তার।

উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া অভিবাসী মামদানি (৩৪) নগরীটির প্রথম মুসলিম মেয়র, প্রথম দক্ষিণ এশীয় মেয়র এবং সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র হিসেবে ঐতিহাস সৃষ্টি করলেন।

ফক্স নিউজ জানিয়েছে, মামদানির প্রচারণা শিবির বুধবার নিশ্চিত করেছিল মেয়র হিসেবে অভিষেক অনুষ্ঠানে কোরান শরিফ ছুঁয়ে শপথ নেবেন তিনি। এটিও একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

শপথ নেওয়ার পর স্বঘোষিত এই ডেমোক্র্যাট সমাজতন্ত্রী নিউ ইয়র্কের ১১২তম মেয়র হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন বলে সিএনএন জানিয়েছে।

ব্যক্তিগত পরিসরে অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠানে মামদানির সিরীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী রামা দুয়াজি তার পাশে ছিলেন।

নিউ ইয়র্ক রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেইমস তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। লেটিশাকে আগে থেকেই ‘রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছিলেন তিনি।

শপথ অনুষ্ঠানটি হয়েছে ম্যানহ্যাটনের সিটি হল পার্কের নিচে ভূগর্ভস্থ পুরনো, বন্ধ হয়ে যাওয়া সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে। ১৯৪৫ সালে এই ভুগর্ভস্থ স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। এটি এখন একটি পর্যটন স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই আয়োজনের একটি প্রতীকি তাৎপর্য রয়েছে। মামদানির ট্রানজিশন টিমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সাবওয়ে স্টেশনটি নিউ ইয়র্ক নগরীকে প্রতিদিন সচল রাখা কর্মজীবী মানুষদের প্রতি তার ‘প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন’ ঘটিয়েছে।

নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি (৩৪) বৃহস্পতিবার থেকেই দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তার অভিষেক ঘিরে নিউ ইয়র্কের বাসিন্দাদের মধ্যে আশা ও উদ্বেগের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

নিউ ইয়র্কের আইন অনুযায়ী মেয়রের চার বছরব্যাপী মেয়াদ নির্বাচনের পরবর্তী ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়। এ দিন কে নগরীর দায়িত্বে আছেন তা নিয়ে অস্পষ্টতা কাটাতে মধ্যরাতে শপথ নেওয়া এখানে একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক রাজ্যের সাবেক আইনপ্রণেতা মামদানি বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ রাখার পাশাপাশি সবার জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা ও চাইল্ডকেয়ারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার এসব কর্মসূচী যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে নির্বাচনী বৈতরণী পার করার পথ দেখাতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।