বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ১৮ ১৪৩২, ১২ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

৪৬তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ বিএনপি আমলে র‌্যাবকে ‘রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি’, দাবি বাবরের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার সর্বোচ্চ সীমা কমলো আওয়ামী লীগ থেকে এসে যোগ দেন, দায়-দায়িত্ব আমাদের: জামায়াতের লতিফুর রংপুর-১: জাপা প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল এনইআইআর চালু, প্রতিবাদে বিটিআরসি কার্যালয়ে মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলা, ভাঙচুর ২৮৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমান, ভাই ও ছেলেদের বিরুদ্ধে চার মামলা করছে দুদক নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে কোরান ছুঁয়ে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি পাবলিক প্লেসে ধূমপান-তামাক সেবনে জরিমানা ২ হাজার ই-সিগারেট, ভ্যাপ নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারি পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরে ২৫ ভবন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরাইল মাদকবাহী নৌকায় হামলায় নিহত ৮

শিশু

কুড়িগ্রামে মৃদু শৈত্য প্রবাহে মানুষের ভোগান্তি

 প্রকাশিত: ১৭:৩৩, ১ জানুয়ারি ২০২৬

কুড়িগ্রামে মৃদু শৈত্য প্রবাহে মানুষের ভোগান্তি

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে মৃদু শৈত্য প্রবাহের প্রভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে শীতে মানুষের কষ্ট অনেক বেড়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবলচন্দ্র সরকার জানান, জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বাতাসে ৯৯ শতাংশ আর্দ্রতা ছিল।

ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে ভোর থেকে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতে কাজে বের হতে পারছেন না দিনমজুর, নৌকার মাঝি, কৃষিশ্রমিক ও ভ্যানচালকরা। এতে তাদের আয়-ইনকাম বন্ধ হয়ে গেছে বলা যায়। ফলে সেসব পরিবারের সদস্যদের খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। 

উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন সাহেবের আলগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন জানান, প্রায় ১০০ দশমিক ৯৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নের ৩২টি চরে প্রায় ৪২ হাজার মানুষ বসবাস করেন। নামাজের চর, আইরমারী, দইখাওয়া চরসহ পুরো ইউনিয়ন নদীবেষ্টিত হওয়ায় হিমেল বাতাস ও প্রচণ্ড শীতে মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সীমাহীন কষ্টে রয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল হলেই দুই থেকে তিনশ মানুষ আমার বাড়িতে ভিড় করছে কম্বলের আশায়। কিন্তু বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ১৫০টি কম্বল, যা ৯টি ওয়ার্ডে বিতরণ করা হয়েছে। ৪২ হাজার মানুষের জন্য ১৫০টি কম্বল একেবারেই অপ্রতুল।

শুধু চরাঞ্চল নয়, কুড়িগ্রাম শহরের বস্তিবাসীরাও কম্বলের আশায় ঘুরছেন বিভিন্ন দপ্তরে। শহরের কাজীপাড়া বস্তি এলাকার অবরন (৬৫) বলেন, তিন দিন ধরে জেলা প্রশাসকের অফিসে যাচ্ছি। তবে এখনও কম্বল পাইনি।

একই এলাকার করিম মিয়া (৬৮) ও রমজান (৫৬) জানান, শীতে শরীর কাঁপে, ঘরে গায়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। একটি কম্বল পেলে কষ্ট খানিক কমতো।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, জেলার প্রায় ২৪ লাখ মানুষের মধ্যে দরিদ্র প্রায় ১৭ লাখ মানুষের শীত নিবারণে সংকট রয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ শীতে দুর্ভোগে পড়েছে। 

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলায় ২২ হাজার কম্বল বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে। শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম চরাঞ্চলে শীতবস্ত্র না পৌঁছানোয় শীতে কাঁপছে হাজারো অসহায় মানুষ। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই শীতে কুড়িগ্রামের দরিদ্র মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।