বিএনপি আমলে র্যাবকে ‘রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি’, দাবি বাবরের
সাবেক চার দলীয় জোট সরকারের আলোচিত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর দাবি করেছেন, তাদের আমলে র্যাবকে কখনো ‘রাজনৈতিকভাবে’ ব্যবহার করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে শেরেবাংলা নগরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ কথা বলেন।
বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাবর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ওই সময়ই ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ পুলিশের এলিট ফোর্স র্যাব গঠিত হয়।
পরে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে ব্যাপক হারে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ওঠে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিএনপির পর আওয়ামী লীগের সময়ও এর ধারাবাহিকতা দেখা যায়। এমনকি র্যাব ভেঙে দেওয়ারও সুপারিশ করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতের পর তার প্রশংসা করতে গিয়ে বাবর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে’ কাজ করার সুযোগ তার সে সময় হয়েছিল।
“যখন আমি যা চেয়েছি, নির্দ্বিধায় তাই উনি আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। আমি বলছি, যে এটা করার জন্য… আপনারা দেখেছেন, যে র্যাব গঠনের ব্যাপারে, এবং র্যাবকে কিন্তু তখন রাজনৈতিকভাবে একদিনের জন্য বা এক ঘণ্টার জন্য আমরা ব্যবহার করি নাই।
“এক ঘণ্টার জন্য আমরা ব্যবহার করি নাই, কেউ বলতে পারবেন না, আপনারা প্রমাণ দেখাতে পারবেন না। এবং উনি (খালেদা জিয়া) সেই সুযোগটা দিয়েছিলেন।”
অপরাধী বিএনপির নেতাকর্মী হলেও খালেদা জিয়া তাতে ‘ছাড় দেননি’ বলে দাবি করেন বাবর।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ২৮ মে লুৎফুজ্জামান বাবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। জরুরি অবস্থার সেই দুই বছর এবং পরে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে কয়েকটি মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে দুটি মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়, একটিতে হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আপিল শুনানি শেষে একে একে এসব মামলায় তিনি খালাস পান।
দীর্ঘ কারাবাসের পর ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পান লুৎফুজ্জামান বাবর। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোণা-৪ আসন থেকে এবার নির্বাচনও করছেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে তিনি তার ‘নেত্রীর’ কবর জিয়ারত করতে এসেছেন।
খালেদা জিয়া দেশের জনগণের, জানমালের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘আপসহীন ছিলেন’ মন্তব্য করে সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে আরো অনেক ঘটনা আমার ভিতরে আছে, যেটা আমি দেখি, আমার অনুভূতির ভিতরে আছে। সেই দেশপ্রেম আমি আর কারো মধ্যে আমি এখন পর্যন্ত পাই নাই।
“উনার ছেলে, আমাদের বর্তমান অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান (তারেক রহমান), উনার মধ্যেও আমি দেখেছি সেই একই জিনিস। যেমনটা ছিল উনার বাবার (জিয়াউর রহমান) ।
খালেদা জিয়ার পাশাপাশি তারেক রহমানের জন্য দোয়া চেয়ে বাবর বলেন, “আমার নেতা (তারেক) বলছেন, উনার একটা প্ল্যান আছে। প্ল্যানের মধ্যে দুইটা অংশ উনি কিন্তু ইতিমধ্যে বলেছেন।
“এক হচ্ছে দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন করা, দুর্নীতি নিরসন করা। এই দুইটা কিন্তু উনি অলরেডি জাতির সামনে নিজেকে প্লেস করেছেন।”
বিএনপি এবং তারেক রহমান যেন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন, সেজন্যও সবার দোয়া চান বাবর।