বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ১৮ ১৪৩২, ১২ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

৪৬তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ বিএনপি আমলে র‌্যাবকে ‘রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি’, দাবি বাবরের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার সর্বোচ্চ সীমা কমলো আওয়ামী লীগ থেকে এসে যোগ দেন, দায়-দায়িত্ব আমাদের: জামায়াতের লতিফুর রংপুর-১: জাপা প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল এনইআইআর চালু, প্রতিবাদে বিটিআরসি কার্যালয়ে মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলা, ভাঙচুর ২৮৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমান, ভাই ও ছেলেদের বিরুদ্ধে চার মামলা করছে দুদক নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে কোরান ছুঁয়ে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি পাবলিক প্লেসে ধূমপান-তামাক সেবনে জরিমানা ২ হাজার ই-সিগারেট, ভ্যাপ নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারি পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরে ২৫ ভবন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরাইল মাদকবাহী নৌকায় হামলায় নিহত ৮

শিশু

শিশুরাও ভিটামিন ডি স্বল্পতায় ভোগে

 প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ১ জানুয়ারি ২০২৬

শিশুরাও ভিটামিন ডি স্বল্পতায় ভোগে

ব্যাংক কর্মকর্তা নায়লা খানম। তার তিন বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। নাম শান্ত। ছেলে বড় হচ্ছে। কিন্তু মা খেয়াল করলেন তার সন্তানটির পা দুটি স্বাভাবিক না, সামান্য বাঁকা। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সমস্যা আরো প্রকোট হচ্ছে। আর দেরি না করে ছেলেকে নিয়ে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। চিকিৎসক দেখে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেন। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক জানালেন, তার শিশুটি ভিটামিন ডি স্বল্পতায় ভুগছে। 

শিশুটির মা নায়লা খানম জানান, শিশু হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে চিকিৎসাকদের তত্ত্বাবধানে তার ছেলের চিকিৎসা করিয়েছিলেন। চিকিৎসকরা শান্তকে নিয়মিত ভিটামিন ডি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুটির মা জানান, ওর বয়স এখন সাড়ে চার বছর। পায়ের সমস্যা অনেকটাই ঠিক হয়ে গেছে। ওর শরীরে এখন ভিটামিন ডির ঘাটতিও নেই।

শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগীয় প্রধান ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগী অধ্যাপক রবি বিশ্বাস। আমার দেশের সাথে আলাপচারিতায় রবি বিশ্বাস জানান, ‘পা বাঁকা হয় রিকেট হলে। আর রিকেট হয় ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে। এই হাসপাতালে বহু শিশু আসে ভিটামিন ডি-এর স্বল্পতা নিয়ে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে শুধু শিশুদের নয়, এ দেশের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি আছে। এটি একটি জাতীয় সমস্যা বলেও উল্লেখ করছেন চিকিৎসক রবি বিশ্বাস। 

তিনি আরো বলেন, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কারণে শিশুদের রিকেট হলে হাড় নরম ও দুর্বল হয়, কঙ্কাল বিকৃত হয়। বয়স্করা ‘অস্টিওম্যালাসিয়া’ রোগে আক্রান্ত হয়, এতে হাড়ে ব্যথা হয় ও মাংসপেশি দুর্বল হয়। দীর্ঘদিন ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভুগলে বয়স্ক নারী-পুরুষ ‘অস্টিওপোরোসিসে’ আক্রান্ত হয়। এতে হাড় পাতলা হয়, হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। 

অস্টিওপোরোসিসে ভুগলে মাংসপেশী দুর্বল হয়ে পড়ে, এর ফলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে থাকা মানুষ লাগাতার ব্যথায় ভুগতে থাকে। এসব মানুষের উদ্বেগ ও বিষণ্নতা বেশি দেখা দেয়। অন্যদিকে শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফেট কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হতে সহায়তা করে ভিটামিন ডি।

ভিটামিন ডি কম থাকা শিশু শহরে বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিশুর এই ঘাটতি আছে। গ্রামে এই হার ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে বয়স অনুপাতে যেসব শিশুর ওজন বেশি, তাদের ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও বেশি।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন ডি এক ধরনের অণুপুষ্টি কণা বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। এই অণুপুষ্টি কণা মানুষের সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, কিন্তু প্রতিদিনই তা দরকার। মানুষের চাহিদার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ভিটামিন ডি আসে খাদ্য থেকে। বাকি ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের উৎস সূর্যের আলো। 

তারা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে ভিটামিন ডি ব্যবহারের উপদেশ সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দেশে ভিটামিন ডি-এর স্বল্পতা নিয়ে নানা ধারণা প্রচলিত আছে। একটি ধারণা আছে যে, সূর্যের আলোতে যারা বেশি থাকে, তাদের ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হয় না। কিন্তু গবেষণায় তা প্রমাণিত হয়নি। 

দেখা গেছে, শহরের মানুষের মতো গ্রামের মানুষও এর ঘাটতিতে আছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের অর্ধেক শিশু ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভুগছে। সূর্যের আলো বাস্তবে কতটা কাজে লাগে, কী কাজে লাগে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা অনেকেরই নেই।

ঢাকার মাতুয়াইল মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহমুদা হোসেন বলেন, শহরে প্রায় সবার মধ্যেই ভিটামিন-ডি-এর ঘাটতি জনিত সমস্যা আছে। তবে বাংলাদেশে ঠিক কত মানুষ ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভুগছেন তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। 

তিনি বলেন, ‘এটি সত্যি তেমন কোনো গবেষণা আমরা পাইনি। কিন্তু করোনার সময়কাল বিবেচনা করলেও অনুধাবন করা যায় যে গ্রাম বা শহরে মাঠে-ঘাটে যারা কায়িক শ্রমের কাজ করে, তাদের মধ্যে এ সমস্যা কম। কারণ তারা সরাসরি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকে’।

২০১৯ সালে প্রকাশিত উপকূলের জেলা কক্সবাজারের ১৪০ জন মৎস্যজীবীর ওপর অন্য এক গবেষণায় দেখা যায়, ৭০ শতাংশ মৎস্যজীবী ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি আছে। মৎস্যজীবীরা সাধারণত প্রায় অনাবৃত শরীরে সূর্যের আলোতে থেকে মাছ ধরেন। এসব মৎস্যজীবী ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সূর্যের আলোতে থেকে মাছ ধরেন। তাদের বয়স ছিল ১৯ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। গবেষকেরা তাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ নির্ণয় করেছিলেন।

বাংলাদেশে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড মেটাবলিক ডিজঅর্ডারের দুজন গবেষক এবং ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের একজন গবেষক গবেষণাটি করেছিলেন। গবেষণাটি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আইএমসি জার্নাল অব মেডিকেল সায়েন্সে ছাপা হয়েছিল।  

গবেষক ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে ছোট আকারে হলেও আরও কয়েকটি গবেষণায় ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। কোনো গবেষণায় পরিস্থিতি আরও খারাপ পাওয়া গেছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১০০ শতাংশ পোশাকশিল্পের কর্মী এবং ৯৭ শতাংশ কৃষি ও নির্মাণ-শ্রমিকের এই ঘাটতি রয়েছে। ঋতু বন্ধ হওয়া যেসব নারী কিছু সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের আছে আসেন, দেখা গেছে তাদের ৮২ শতাংশের ভিটামিন ডির ঘাটতি আছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, বিশ্বের অন্তত একশ কোটি মানুষেরই ভিটামিন-ডির ঘাটতি আছে এবং তারা এ সমস্যাকে গ্লোবাল হেলথ প্রবলেম বলে আখ্যা দেয়। সংস্থাটি বলছে, আর এ সংকট মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় সঠিক নিয়ম ও সময় দিয়ে সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকা।

একটি বৈশ্বিক সমস্যা

ভিটামিন ডি-এর অভাব জনিত সমস্যা শুধুমাত্র দরিদ্র দেশগুলোতে সীমাবদ্ধ, তা কিন্তু নয় বরং এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যাও বটে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেমন ভারত, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবে নারী পুরুষ উভয় ক্ষেত্রে বিভিন্ন বয়স এবং আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে গবেষণা চালানো হয়েছে যেখানে দেখা গেছে ভিটামিন ডি-এর অভাব ভারতে শতকরা ৫৯ ভাগ সৌদি আরবে শতকরা ৬০ ভাগ এবং পাকিস্তানে ৭৩ভাগ। 

পুরো ইউরোপেই এই সমস্যাটি খুবই সচরাচরদৃষ্ট, উত্তরাংশে শতকরা ২০ ভাগ এবং বাকি অংশগুলোতে ৩০ থেকে ৬০ মানুষের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা যায়। 

বাংলাদেশ পরিস্থিতি

বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও এই দিকটি উপেক্ষিত রয়ে গিয়েছে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত বলে বাংলাদেশ প্রচুর রৌদ্রালোক পায়। কিন্তু তারপরেও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকার পেছনে অন্যান্য ফ্যাক্টর নিশ্চয় রয়েছে। একটি হিসেবে দেখা যায় বাংলাদেশের প্রায় শতকরা ৮০ভাগ শিশু ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভুগছে। 

আরেক গবেষণায় দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী ১-৬ মাস বয়সী শিশুদের এক-তৃতীয়াংশই ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভুগছে। শূণ্য থেকে এক বছর বয়সী ৩১ দশমিক ৯ ভাগ শিশুদের রক্তে ২৫ হাইড্রক্সি ভিটামিনের মাত্রা ডেফিশিয়েন্ট অর্থাৎ ২০ ন্যানোগ্রাম/মিলিলিটারের নিচে এবং ৫২ দশমিক ২ ভাগ শিশুদের মাঝে ইন্সাফিশিয়েন্ট অর্থাৎ ২০-৩০ ন্যানোগ্রাম/মিলিলিটার। দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মাঝে ডেফিশিয়েন্ট এবং ইন্সাফিশিয়েন্টের হার যথাক্রমে ৩৮ দশমিক ২ ভাগ এবং ৫০ ভাগ। 

এছাড়া দেখা গিয়েছে, ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের মাঝে এই ডেফিশিয়েন্সি ৪৬ দশমিক ৮ ভাগ এবং ইন্সাফিশিয়েন্সি ৫১ দশমিক ৯ ভাগ। ‘বাংলাদেশী জনগণের মাঝে ভিটামিন ডি-এর অবস্থা’ নামক একটি গবেষণা বলছে, ৮৬ ভাগ মানুষের হাইপোভিটামিনোসিস ডি রয়েছে।

‘বাংলাদেশি জনগণের ভিটামিন ডি-এর অভাব এবং আর্থসামাজিক অবস্থা’ নামক আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, নিম্ন আর্থসামাজিক অবস্থার শতকরা ৫০ ভাগ মহিলার হাইপোভিটামিনোসিস ডি রয়েছে, যেখানে উচ্চ আর্থসামাজিক অবস্থায় এই হার শতকরা ৩৮ ভাগ। 

সূর্যের আলো ভিটামিন ডি-এর প্রাকৃতিক উৎস সেটা আমরা কম-বেশি সবাই জানি। কিন্তু ভিটামিন ডি পেতে দিনের ঠিক কোন সময়ের রোদ গায়ে লাগাতে হবে সে বিষয়ে অনেকেই সঠিক তথ্য জানেন না। এ বিষয়টি নিয়ে বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ও পুষ্টিবিদ মোহসেনা আক্তার তিনি জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টার মধ্যে যে সময়টা, সেই সময়ের রোদ ভিটামিন ডি-এর খুব ভালো উৎস।

বয়সভেদে প্রত্যেক মানুষের দেহে ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজনীয়তারও তারতম্য রয়েছে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক কমপক্ষে ৪০০ থেকে ৬০০ আইইউ (একটি আন্তর্জাতিক ইউনিট, যা চর্বি দ্রবণীয় ভিটামিন পরিমাপে ব্যবহৃত হয়) ভিটামিন ডি গ্রহণ করা দরকার। আর যদি সূর্যের সংস্পর্শে কম থাকা হয়, তবে ভিটামিন ডি গ্রহণের পরিমাণ হবে ১০০০ আইইউ। ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে তা গ্রহণ করতে হবে। সাধারণত সূর্যের আলো, প্রয়োজনীয় খাবারদাবার ও সাপ্লিমেন্টস গ্রহণ করলে ভিটামিন ডি-এর অভাব পূরণ হয়। 

তিনি আরো বলেন, ভিটামিন ডি-এর উৎস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং মানুষের আচার-ব্যবহার পরিবর্তনের জন্য প্রচারণা বাড়ানো, ভিটামিন ডি-এর সকল উৎস (মাছ, ডিম ও কড লিভার অয়েল)-এর সহজলভ্যতা এবং সহজপ্রাপ্যতা বৃদ্ধি,শহর অঞ্চলকে বিশেষ দৃষ্টিতে রেখে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট সরবরাহ করা,ভিটামিন ডি-এর উৎস বৃদ্ধি করার জন্য সাপ্লিমেন্টেশন এবং ফর্টিফিকেশনের ওপর জোর দেয়া, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে শিশু-বয়স্ক সবাই। দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভুগছে। দরকার ব্যাপক জনসচেতনতা কর্মসূচি।