শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত
প্রতি বছরের মতো এ বছরও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বিকাল ৩টায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে এ সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, দিবসটি সুষ্ঠুভাবে উদযাপন এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আজম উদ্দীন তালুকদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে, ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় দিবসটির গুরুত্ব বেড়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারো দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে উদযাপন করা হবে।
আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা শহরের সড়ক দ্বীপসমূহ এবং বিভিন্ন ভাষা সম্বলিত ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হবে। হোটেল, মেট্রোরেল স্টেশন, শিক্ষা ভবন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শাপলা চত্বর, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, ঢাকা শহরের প্রবেশমুখসমূহ, চারুকলা অনুষদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তজার্তিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
এতে জানানো হয়, একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি স্টেশন বন্ধ রাখা হবে। শহীদ মিনারের আশেপাশের রাস্তা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হবে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রাখা হবে জেনারেটরের ব্যবস্থা। একুশে ফেব্রুয়ারি রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় সকল ধরনের সরঞ্জামাদিসহ ফায়ার সার্ভিস টিম প্রস্তুত রাখা হবে। ব্যবস্থা রাখা হবে সুপেয় পানির। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। শহীদ মিনারের আশেপাশে সুবিধাজনক স্থানে কমপক্ষে ২০টি ভ্রাম্যমান টয়লেট স্থাপন করা হবে। অন্যদিকে, শহীদ মিনার এলাকার আশেপাশের এলাকায় ধূলা-বালি রোধ কল্পে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পানি ছিটানো হবে। আজিমপুর গোরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজন করা হবে এবং ভাষা শহীদদের রুহের মাগফেরাতের জন্য দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হবে।
শহীদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। পতাকার সঠিক মাপ ও উত্তোলনের নিয়ম সম্পর্কে সকলকে সচেতন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, সকল বেসরকারি টেলিভিশন/বেতার এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে।