মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ৩০ ১৪৩২, ২৪ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের সব চ্যানেল খোলা: ভারতের সেনাপ্রধান চতুর্থ দিনে আপিল মঞ্জুর ৫৩ জনের, না মঞ্জুর ১৭ চুয়াডাঙ্গায় সেই অভিযানে যাওয়া সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি মোবাইল আমদানিতে শুল্ক কমল, দামি স্মার্টফোনে ৫৫০০ টাকা কমার আশা টেকনাফে গুলিবিদ্ধ শিশু: ঢাকায় মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে তলব বাংলাদেশের অবস্থান বদলাতে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগের ঘোষণা ‘প্লট দুর্নীতি’: হাসিনা, টিউলিপ, রূপন্তীর মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন শুরু, প্রধান উপদেষ্টার উদ্বোধন কিশোরগঞ্জ-২: রঞ্জন জামায়াতে, ছেলে খেলাফতে, মুক্তিযোদ্ধা ভাই স্বতন্ত্র শাবিতে নির্বাচন হবে? রাতভর বিক্ষোভ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ২৫% শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ইরানের ওপর হামলার কথা বিবেচনা করছে ভারতে এই প্রথম আফগান দূতাবাসের দায়িত্বে তালেবান কূটনীতিক যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো উপায়ে’ গ্রিনল্যান্ড দখলে নেবে: ট্রাম্প ১১৬ রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার

জাতীয়

হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ: যা বলছে পিবিআই

 প্রকাশিত: ১৭:৫৮, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ: যা বলছে পিবিআই

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা নিয়ে ‘চাপে পড়েছে’ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই বলছে, মূলত ওই মামলাটিতে সাহেদ আলী নামে যে ব্যক্তির উপর হামলা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ বর্ণনা করা হয়েছে সেই ব্যক্তিকেই ‘বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায়নি’।

সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ‘আহতদের হদিস না পেয়ে’ ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে পিবিআই। ‘তথ্যগত ভুল’ থাকার কথা উল্লেখ করে গত ৫ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক রয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়কার ওই মামলায় পিবিআইয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট ‘তথ্যগত ভুল’ দাখিল করা নিয়ে মঙ্গলবার একটি ব্যাখ্যা পাঠিয়েছে পিবিআই।

বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই বলেছে, "সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলার (ধানমন্ডি থানার মামলা নং—০১, তারিখ—০৩/০৯/২০২৪ খ্রিঃ) ফাইনাল রিপোর্ট আদলাতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদের শিরোনামটি ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। পরিপূর্ণ তথ্য এই যে, গত ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর শরিফ (৩৭) নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় হত্যা চেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। শরীফের বাবার নাম সিরাজ, বাসা হাজারীবাগ থানাধীন ট্যানারি এলাকায়।

“মামলার অভিযোগে আহত (ভিকটিম) হিসেবে সাহেদ আলী (২৭), পিতা মো. কুদ্দুস, ৩৮ ট্যানারী মোড়, হাজারীবিগ এর পূর্ণাঙ্গ পরিচয়সহ নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজের আহত হিসেবে আরো ৯ জনের শুধুমাত্র নাম উল্লেখ করা হয়। ঘটনাস্থল ধানমন্ডি ২৭ এর মিনা বাজারের আশপাশের এলাকা এবং ঘটনার সময় ৪ অগাস্ট সকাল ১১টা বলে উল্লেখ করা হয়। আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের নাম উল্লেখ করেন বাদী। ভিকটিম সাহেদ আলী তার ছোট ভাই বলে এজাহারে উল্লেখ করেন তিনি (যদিও ঠিকানা ভিন্ন)।"

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিম সাহেদ আলীর সন্ধানে এজাহারের উল্লেখিত ঠিকানায় এবং বাদীর ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারেন যে, সাহেদ আলী নামে কেউ উক্ত ঠিকানায় কখনো বসবাস করেন নাই এবং ভিকটিম বাদীর ভাই নয়। ভিকটিমের এজাহারে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায় যে, জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া এবং এর কোন মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত নেই। ভিকটিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমান্ত স্কয়ার উল্লেখ করায় সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট কমিটির সাথে পত্র যোগাযোগের মাধ্যমে এবং সরাসরি যোগাযোগ করেও ওই ভিকটিম সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই। অন্যান্য ভিকটিমদের তথ্য যাচাই করার জন্য ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজ এর অধ্যক্ষের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, উল্লেখিত ছাত্র—ছাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় তাদের তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয় নাই।

"বাদীকে একাধিকবার নোটিশ প্রদান করে এবং সরাসরি বাদীর সাথে সাক্ষাৎ করে যে কোন ভিকটিম উপস্থাপন করতে বলা হলেও তিনি কোনো ভিকটিম হাজির করতে পারেন নাই। তাছাড়া একাধিকবার বলা সত্তেও বাদী ভিকটিমদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ঠিকানা প্রদান করেন নাই। ঘটনাস্থলের সাক্ষ্য প্রমাণেও ওই সময় ওই স্থানে কোন ঘটনা ঘটে নাই মর্মে প্রমাণিত হয়। সার্বিক বিবেচনায় মামলাটির চুড়ান্ত রিপোর্ট তথ্যগত ভুল দাখিল করা হয়।"

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলছে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাসহ সকল মামলা আন্তরিকতার সাথে তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ১৭টি জিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট ও ৬৭ টি সিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালাতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

এই মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

এ মামলায় থানা পুলিশ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারা হলেন¬–শাকিল হোসেন ইমরান, কামরুল হাসান ওরফে কামু, মারুফ হোসেন ও মাসুদ রানা বেপারী।