সোনালী ব্যাংক আগের চেয়ে ‘অনেক ভালো’ অবস্থানে: এমডি শওকত
সংস্কার, বিশেষ পরিকল্পনা ও ঋণ আদায় জোরদার করায় সোনালী ব্যাংকের আর্থিক কাঠামো আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে গেছে বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান।
তিনি বলেছেন, “সোনালী ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা অনেক বেশি। এই আস্থার কারণেই তারা বেশি আমানত রাখে।”
মঙ্গলবার মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর সোনালী ব্যাংকে আর এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি দাবি করে শওকত আলী খান বলেন, “সোনালী ব্যাংক এখন বরোয়ার (ঋণ গ্রহীতা) ঠিক করতে অনেক সচেতন। আমাদের আমানতকারীরা আমাদের জন্য ব্লেসিং (আশীর্বাদ)।”
সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের ঘটনায় ২০১২ সালে হল-মার্ক গ্রুপের মালিক, কর্মকর্তা এবং সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটির রায় হয়েছে।
ব্যাংকটির বর্তমান এমডি শওকত আলী বলেন, আর্থিক স্বাস্থ্যের সব সূচকে অতীতের চেয়ে ‘অনেক ভালো’ অবস্থানে চলে যাওয়ায় চলতি বছর নাগাদ সোনালী ব্যাংকে কোনো ধরনের প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি থাকবে না।
২০২৫ সালে খেলাপিদের কাছ থেকে নগদ ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা আদায় করার তথ্য দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। সেবছর শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকেই মিলেছে ৭৪৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে হলমার্ক গ্রুপ দিয়েছে ৩০০ কোটি টাকা।
অর্থ আদায়ে হলমার্ক গ্রুপের মেশিনারিজ ও সম্পদ নিলামের মাধ্যমে বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী।
তিনি বলেন, “আমরা ঋণ গ্রহীতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। অর্থ আদায়ে আইনিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আদায় কার্যক্রম চলমান আছে।
“নীতি সহায়তার আওতায় অপারেশনে না থাকা ব্যবসায়ীদের ফিরিয়ে আনতে ঋণ পুনঃতফসিল করা হচ্ছে। এগুলো করা হচ্ছে, পুরো ব্যাংকিং নর্মসের মধ্যে।”
আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে সোনালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ৪১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৭ কোটি টাকা। নিরীক্ষা শেষে নিট মুনাফা ১১০০ থেকে ১৭০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন শওকত আলী।
বিদায়ী বছর শেষে খেলাপির হার ১৬ শতাংশে নেমেছে জানিয়ে সোনালী ব্যাংকের এমডি বলছেন, আগামী বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার এক অঙ্কে অর্থ্যাৎ ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গত সেপ্টম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের ঋণ স্থিতি ছিল এক লাখ ৪ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আমানতের স্থিতি ছিল এক লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা।
মোট আমানতের মধ্যে অর্ধেকের বেশি স্বল্প সুদের জানিয়ে শওকত আলী বলেন, “আস্থার কারণে সোনালী ব্যাংকের আমানত এখনো বাড়ছে। আগামী বছরে ঋণের অঙ্কও বাড়বে।”