মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ৩০ ১৪৩২, ২৪ রজব ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ২৫% শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প

 প্রকাশিত: ১৩:০২, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ২৫% শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসি লিখেছে, এ পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হল, যখন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ টানা তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে।

ইরানের সঙ্গে ‘বাণিজ্য করা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না ‍দিয়ে ট্রাম্প সোশাল মিডিয়ায় বলেছেন, এ শুল্ক ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হয়েছে।

ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। এর পরেই রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত।

তেহরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর পরই বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন তিনি।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সোমবার বলেন, বিমান হামলাসহ সামরিক বিকল্পগুলো এখনো বিবেচনায় রয়েছে।

ট্রাম্প সোমবার ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যে কোনো দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সব ধরনের বাণিজ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই আদেশ চূড়ান্ত।”

বিবিসি লিখেছে, হোয়াইট হাউস শুল্ক সংক্রান্ত অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, কোন কোন দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাও জানানো হয়নি।

ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দ্রুত অবমূল্যায়নের ক্ষোভ থেকে ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসন অবসানের দাবিতে রূপ নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা ইরানে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্যের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে।

তবে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি বলেছে, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিবিসিসহ বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরানের ভেতর থেকে প্রতিবেদন করতে পারছে না।

ট্রাম্প হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে বলেছেন, রোববার ইরানি কর্মকর্তারা তাকে ‘আলোচনার জন্য ফোন করেছিলেন’।

তিনি এও বলেছেন, “বৈঠকের আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।”

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এর সঙ্গে সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিও অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের দোকানিরা রাস্তায় নেমে আসেন, খোলা বাজারে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের আরেক দফা তীব্র পতনের প্রতিবাদ জানান তারা।

গত এক বছরে ইরানের মুদ্রার মান সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে, আর মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৪০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। এর ফলে রান্নার তেল ও মাংসের মত নিত্যপণ্যের দাম হঠাৎ করে অনেক বেড়ে গেছে।