ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ইরানের ওপর হামলার কথা বিবেচনা করছে
ইরানের সরকার ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ক্রমবর্ধমান চাপে থাকা অবস্থায় দেশটিতে আঘাত হানার বাস্তবতা বিবেচনা করে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তারা জানিয়েছে, বিবেচনা করা ‘অনেকগুলো বিকল্পের’ মধ্যে বিমান হামলা অন্যতম।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আঘাত হানার প্রস্তুতিও নিয়ে চলেছে, জানিয়েছে আল জাজিরা।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটরি ক্যারোলাইন লেভিট সোমবার বলেছেন, “কূটনীতি সবসময়ই প্রথম বিকল্প, কিন্তু সামরিক হামলার পরিকল্পনা বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।”
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যে বিষয়টিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুবই ভালো তা হল তিনি সবসময় সব বিকল্পগুলো সামনে রাখেন। আর বিমান হামলা এগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে। কমান্ডার ইন চিফের (ট্রাম্প) জন্য টেবিলে অনেকগুলো বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে।”
ব্যাপক বিক্ষোভ ও দাঙ্গায় উত্তাল হয়ে আছে ইরান। গত কয়েকদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী দমনপীড়ন শুরু করেছে। এতে ছয়শরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে খবর। ইরানের কর্তৃপক্ষ বলছে, দাঙ্গায় নিরাপত্তা বাহিনীরও বহু সংখ্যক সদস্য নিহত হয়েছেন।
ইরানজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দাবিকৃত নিহতের সংখ্যা যাচাই করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমাবর্ষণ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নেওয়া না হলে ইরানে আরও হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন ট্রাম্প। এখন বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানি সরকারের কঠোর দমনপীড়নকে দীর্ঘদিনের শত্রু দেশটিতে হামলা চালানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন তিনি।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সম্ভবত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হবে। কিন্তু ট্রাম্প তার ইচ্ছার বিরুদ্ধতা করা দেশগুলোতে প্রায়ই সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সোমবার কিছু অনামা মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কিছু সদস্য তেহরানের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করার বা আঘাত হানার অন্য কম গুরুতর বিকল্পগুলো বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্প রোববার জানিয়েছেন, ইরান থেকে ‘ফোন করা হয়েছিল’ আর তারা ‘আলোচনা’ করতে চেয়েছিল।
লেভিট বলেছেন, “ইরানের শাসকদের প্রকাশ্যে যা বলতে শুনছেন তা (ট্রাম্প) প্রশাসন তাদের কাছ থেকে গোপনে যেসব বার্তা পাচ্ছে তার থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট দেখিয়েছেন, যদি এবং যখন তিনি প্রয়োজন মনে করেন তিনি সামরিক বিকল্প ব্যবহার করতে ভয় পান না। আর এটা ইরানই সবচেয়ে ভালো জানে।”
সোমবার রাতে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এক ঘোষণায় জানান, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলো ২৫ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হতে পারে আর এই সিদ্ধান্ত ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হবে।