গ্যাসের দাম বেড়েছে কৃত্রিম সংকটে: রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি
গ্যাসের বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তাতে করপোরেট ব্যবসায়ীদের দায় দেখছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
সংগঠনটির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেছেন, “দেশে এখন লুটেরা, সাম্রাজ্যবাদীরা এখন এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা করছে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বেশিরভাগ রেস্তেরাঁ গ্যাস পাচ্ছে না। যারা কিনছে, তারা ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেছে।
‘‘এ অবস্থায় পেট্রোবাংলা ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে রয়েছে। এছাড়াও সরকারের কোনো উপদেষ্টা এ নিয়ে কথা বলছে না; কোনো কার্যক্রম নেই। শুধু ভোক্তা অধিদপ্তর লোক দেখানো কিছু জরিমানা করছে। তাতে আরও হিতে বিপরীত হয়েছে।”
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এলএনজি গ্যাস বেসরকারি খাতে তুলে দেওয়ার কারণে সংকট দিন দিন বাড়ছে অভিযোগ করে ইমরান হাসান বলেন, “বিগত সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দেখিয়ে রেস্তোঁরা খাতে পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয়। তবে এ খাতে মাত্র ৫ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হতো।
“সেটা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমলাদের যোগসাজশে আমদানি করা এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা বেসরকারি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পাইপলাইনের গ্যাস বন্ধ করার মাধ্যমে। যারা বর্তমানে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে একচেটিয়া ব্যবসা চালাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “প্রতিটি ক্ষেত্রে করপোরেট সিন্ডিকেট একচেটিয়াভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ করছে, যার প্রভাব এলপিজি ও জ্বালানিসহ অনেক খাতেই স্পষ্ট।”
ইমরান হাসান বলেন, “এলপিজিসহ রেস্তোরাঁ খাতের বিদ্যমান সব সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে সব রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। আমাদের বন্ধ করে দিতে হবে।’’
সরবরাহ সংকটের কারণে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সংকট চলছে এক মাসের বেশি সময় ধরে। আকারভেদে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সরকার এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেই দরে বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সংকট কাটিয়ে উঠতে বাকিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির সুযোগ দিয়েছে সরকার।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি বলেন, “নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁ খাতে। ফলে দেশের রেস্তোরাঁ সেবার আজ এক গভীর সংকটময় সময় অতিক্রম করছে।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তীব্র জ্বালানি সংকট, ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের হয়রানি, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যে দিশেহারা পরিস্থিতি, নিয়ম বহির্ভূত স্ট্রিট ফুডের দৌরাত্ম্য বাড়ায় রেস্তোরাঁ ব্যবসা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা, “জেলা প্রশাসকের সনদ, সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সসহ নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিয়মের কারণে ছোট উদ্যোক্তারা ব্যবসায় টিকতেই পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে লাইসেন্স বন্ধ থাকলেও অর্থের বিনিময়ে তা দেওয়া হচ্ছে, যা দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছে।”