সদুপদেশের প্রথম হকদার পরিবার
দাওয়াতের প্রথম ক্ষেত্র হচ্ছে পরিবার। নবী-রাসুলরা দাওয়াতের ক্ষেত্রে নিজ পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুয়ত লাভের পর সর্বপ্রথম ইসলাম কবুল করেছিলেন তার স্ত্রী খাদিজাতুল কুবরা (রা.)। ইবরাহীম (আ.) নিজ পিতা আজরকে দাওয়াত দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, Èআপনি কি (আল্লাহকে বাদ দিয়ে) মূর্তিগুলিকে উপাস্য গণ্য করে নিয়েছেন? আমি তো দেখছি আপনি ও আপনার সম্প্রদায় স্পষ্ট ভ্রানি্তর মধ্যে আছেন।' (সুরা আনআম, আয়াত : ৭৪)
লোকমান (আ.) তার ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেন, হে বত্স! আল্লাহর সাথ কাউকে শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক সবচেয়ে বড় পাপ।' (সুরা লোকমান, আয়াত : ১৩)
তিনি আরো বলেন, Èহে বত্স! সালাত কায়েম করো, সত্ কাজের আদেশ দাও ও অসত্কাজে নিষেধ করো এবং বিপদে ধৈর্যধারণ করো। নিশ্চয়ই এটি শ্রেষ্ঠ কর্মসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর অহংকারবশে তুমি মানুষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না এবং জমিনে উদ্ধতভাবে চলাফেরা করো না।
নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও অহংকারীকে ভালোবাসেন না। তুমি পদচারণায় মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং তোমার কণ্ঠস্বর নীচু কর। নিশ্চয়ই সবচেয়ে বিকট স্বর হলো গাধার কণ্ঠস্বর।' (সুরা লোকমান, আয়াত : ১৬-১৯)
উক্ত আয়াতগুলোতে লোকমান (আ.) তার সন্তানের উদ্দেশ্যে মোট ১৬টি বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন। যা একজন সন্তানের জীবন পরিচালনা ও আখেরাতে মুক্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বীয় উম্মতের সব পিতা-মাতার উদ্দেশ্যে তাদের সন্তানদের সাত বত্সর বয়সে সালাত শিক্ষার তাগিদ দিয়ে বলেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের আদেশ দাও এবং যখন তারা ১০ বছর বয়সে উপনীত হয় তখন ছালাতের জন্য তাদেরকে প্রহার কর এবং তাদের শয্যা পৃথক করে দাও।' (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)
আর এই দাওয়াতের মূল উদ্দেশ্য হবে আখেরাতে নাজাত লাভ তথা জাহান্নামের মর্মন্তুদ শাসি্ত থেকে নিজেকে ও নিজ পরিবারকে বাঁচানো। আল্লাহ বলেন, হে মুমিনরা! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে বাঁচাও, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হূদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতারা। আল্লাহ যা আদেশ করেন তারা তা অমান্য করে না। তারা তা-ই করে, যা করতে তাদের আদেশ করা হয়।' (সুরা তাহরিম, আয়াত : ৬)
কিন্তু দুঃখজনক যে আমরা আমাদের পরিবার সম্পর্কে উদাসীন। নিজেরা ধর্ম পালন করলেও পরিবারের প্রতি বেখেয়াল। বেহায়াপনা ও বেলেল্লাপনায় হাবুডুবু খাচ্ছে সমাজের অধিকাংশ পরিবার। এই করুণ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পরিবারে দাওয়াত ও তাবলিগের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি নিজেদের কর্মে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
পরিবারের অধীনস্তরা কর্তা ব্যক্তির কর্ম দেখে শিখবে। অনেক পিতা-মাতা আছেন, যারা ছেলে-মেয়েদের শুধু আদেশ করেন, কিন্তু নিজে সে আমলটি করেন না; ছেলে-মেয়েদের ইসলামী পোশাকের কথা বলেন, কিন্তু নিজের পোশাক ইসলামী নয়। এ ক্ষেত্রে এই আদেশ বা দাওয়াত কখনো ফলপ্রসূ হবে না। আগে নিজে সংশোধন হতে হবে। অতঃপর পরিবারে তা বাস্তবায়নের জন্য নসিহত করতে হবে। মহান আল্লাহ সহায় হোন।