মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ৩০ ১৪৩২, ২৪ রজব ১৪৪৭

জাতীয়

শাবিতে নির্বাচন হবে? রাতভর বিক্ষোভ

 প্রকাশিত: ১৩:০৫, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

শাবিতে নির্বাচন হবে? রাতভর বিক্ষোভ

নির্বাচন কমিশনের জারি করা প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতভর বিক্ষোভের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাকসু নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি-না সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ‘স্পষ্ট অবস্থান’ জানানোর দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশন দেশের সব পেশাজীবী ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করলে বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে শাবি ক্যাম্পাস।

প্রথমে ছাত্রদল ভিসির বাসভবন ও গোলচত্বরে এবং ছাত্রশিবির শাকসু নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। পরে নির্বাচনে সব প্যানেলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা শাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের (আইআইসিটি ভবন) সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে থাকে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন মধ্যরাত গড়ালে শাকসু নির্বাচন কমিশনাররা সেখানে উপস্থিত হন। পরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম প্রশাসনিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

আলোচনায় উপ-উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “প্রজ্ঞাপনটি নির্বাচন কমিশন জারি করেছে। উপাচার্য বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি ক্যাম্পাসে ফিরলে এর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এ সময় শিক্ষার্থীরা ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না-সে বিষয়ে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর চান।

শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ উপ-উপাচার্যের উদ্দেশে বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বৈরথ নেই। আমাদের শিক্ষার্থীদের একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার জন্যই আমরা এখানে আসছি।

“উপাচার্য জরুরি মুহূর্তে আপনার সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দিয়ে গেছেন। আপনি এখনই উপাচার্যকে ফোন করে বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে।”

এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ বক্তব্যের সঙ্গে ‘একাত্মতা’ পোষণ করেন। এরপর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম উপাচার্য অধ্যাপক সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীকে ফোন করেন এবং শিক্ষার্থীদের দাবির কথা জানান।

পরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলেন, “উপাচার্য জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ২টা পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার তার সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। ফলে বিকাল ২টার পর নির্বাচন কমিশনে যেতে পারবেন।”

আলোচনায় সভা শেষে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি-না সে বিষয়ে ‘স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানোর সময় বেঁধে দেন।

সভায় অংশ নেওয়া বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো. নাসিম বলেন, “আমাদের যে গম্ভীর আলোচনা সেটা হয়ে গেছে। এখানে আর কোনো আলোচনার দরকার নেই। আজকে আমরা ৫টায় জানব, যে ভিসি স্যার ‘ইয়েস’ নিয়ে আসছে নাকি ‘নো’ নিয়ে আসছে।

“যদি ইয়েস নিয়ে আসে তাহলে প্রচারণা আজকে যেভাবে চলছে এভাবেই চলতেই থাকবে। যদি নো নিয়ে আসে, আমরা ওটা ডিসেন্ট করব।”

তিনি বলেন, “একটা ইঙ্গিত দিয়ে যাই, যে ভিসি নির্বাচন কমিশন থেকে ইয়েস নিয়ে আসতে পারে না, তাদেরকে আমরা ইয়েস বলব কি-না এটা ভেবে দেখব।”

এ সময় উপস্থিত সব শিক্ষার্থীরা তার এ বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন।