শনিবার ১০ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৭ ১৪৩২, ২১ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

৫ অগাস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই না: তারেক রহমান তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের মানুষ: ফখরুল আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন তাসনিম জারা প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ ‘মব’ দমন না হলে ভোট সুষ্ঠু হওয়ার ‘সম্ভাবনা নেই’: জাপা মহাসচিব আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সিরিয়ার হামলা যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন বিরোধী অভিযান জোরদার ইউক্রেন ইস্যুতে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ইসিতে চলছে আপিল শুনানি নরসিংদী কারাগারের লুট হওয়া ২৭ অস্ত্র-গুলি লাপাত্তা, ভোট নিয়ে শঙ্কা কনকনে শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়, ফের দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান গোলমালকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে চাইছে: আয়াতুল্লাহ খামেনি

অর্থনীতি

সরকারি সাহায্য নেওয়ার তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীরা ১৯তম |

 প্রকাশিত: ২১:৪৬, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

সরকারি সাহায্য নেয়ার তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের অবস্থান ১৯তম

 

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের মধ্যে কোন দেশের নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি সরকারি সহায়তা নিচ্ছেন—এমন একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

এই তালিকায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের অবস্থান উঠে এসেছে ১৯তম স্থানে, যেখানে ৫৪.৮ শতাংশ পরিবার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন সুবিধার ওপর নির্ভরশীল।

 

রোববার (৪ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ ‘ইমিগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার রেসিপিয়েন্ট রেটস বাই কান্ট্রি অব অরিজিন’ শিরোনামে এই তালিকা শেয়ার করেন তিনি।

 

১২০টি দেশ ও অঞ্চলের অভিবাসীদের তথ্য নিয়ে তৈরি ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম।

 

দক্ষিণ এশিয়ার আরও চারটি দেশের নাম রয়েছে এই তালিকায়। এর মধ্যে ভুটান শীর্ষে রয়েছে—দেশটির অভিবাসী পরিবারগুলোর ৮১ দশমিক ৪ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আর্থিক সহায়তা নেয়। এ ছাড়া আফগানিস্তান রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে (৬৮ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার), পাকিস্তান ৬০তম স্থানে (৪০ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার) এবং নেপাল ৯০তম স্থানে (৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার)।

 

এই তালিকায় ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাম নেই, অর্থাৎ ওই দুই দেশের অভিবাসী পরিবারগুলো তুলনামূলকভাবে খুব কম সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে থাকে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার–এর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০০০ সালে যেখানে বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০ হাজার, ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে। অর্থাৎ এই সময়ে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৬৯ শতাংশ।

 

তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয় বাড়েনি। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাংলাদেশি পরিবারের গড় বার্ষিক আয় ৭৮ হাজার ৪০০ ডলার, যেখানে সামগ্রিকভাবে এশীয় পরিবারগুলোর গড় আয় ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের গড় আয় (৩৫ হাজার ৪০০ ডলার) সামগ্রিক এশীয় গড়ের (৫২ হাজার ৪০০ ডলার) তুলনায় অনেক কম।

 

দারিদ্র্যের হারের দিক থেকেও বাংলাদেশিরা পিছিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এশীয়দের মধ্যে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার যেখানে ১০ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে তা ১৪ শতাংশ। পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, এই তুলনামূলক উচ্চ দারিদ্র্যের হারই সম্ভবত সরকারি সহায়তার ওপর বাংলাদেশিদের নির্ভরতা বাড়িয়েছে।

 

ট্রাম্পের শেয়ার করা তালিকা অনুযায়ী, যেসব দেশের অভিবাসী পরিবার সবচেয়ে বেশি হারে সরকারি সুবিধা নেয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভুটান (৮১.৪%), ইয়েমেন (৭৫.২%), সোমালিয়া (৭১.৯%), মার্শাল আইল্যান্ডস (৭১.৪%), ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র (৬৮.১%), আফগানিস্তান (৬৮.১%), কঙ্গো (৬৬%), গিনি (৬৫.৮%), সামোয়া (৬৩.৪%) এবং কেপ ভার্দে (৬৩.১%)।

 

অন্যদিকে, সবচেয়ে কম হারে সরকারি সুবিধা নেওয়া দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে—বারমুডা (২৫.৫%), সৌদি আরব (২৫.৭%), ইসরায়েল/ফিলিস্তিন (২৫.৯%), আর্জেন্টিনা (২৬.২%), দক্ষিণ আমেরিকা (২৬.৭%), কোরিয়া (২৭.২%), জাম্বিয়া (২৮%), পর্তুগাল (২৮.২%), কেনিয়া (২৮.৫%) এবং লিথুয়ানিয়া (২৯.২%)।