মঙ্গলবার ২৪ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ৯ ১৪৩২, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৭

ব্রেকিং

পিছু হটলেন ট্রাম্প, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিত ইরানকে সাহায্য করতে সোনা-রূপা নগদ অর্থ দিচ্ছে কাশ্মীরিরা ‘জাল ভোট’ নিয়ে ‘বিএনপি-জামায়াত’ সংঘর্ষে ৪০ বাড়ি ভাঙচুর, মুহুর্মুহু বোমা মার্চের মধ্যে ‘দখলদারদের’ ফুটপাত-সড়ক ছাড়তে বলল পুলিশ তেল সংকটে বগুড়ায় ৭২ পেট্রোল পাম্প বন্ধ, ভোগান্তি চরমে ইরানজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণ: আহভাজে হাসপাতালে হামলা, মৃতের সংখ্যা বাড়ছে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ মৃত্যু: ২ গেইটম্যানের বিরুদ্ধে মামলা ‘ব্যাংক বন্ধ থাকায়’ তেল সংকট, বলছেন পাম্প মালিকরা এক দশক পর পাবনায় ‘চরমপন্থিদের’ পোস্টার, আতঙ্ক ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ইসরায়েলের দুই শহরে ইরানি হামলার পর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ইরান: মাসুদ পেজেশকিয়ান লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সেতু উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল দক্ষিণ কোরিয়ায় কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪ পিএসএল খেলতে পাকিস্তান গেলেন চার বাংলাদেশি ক্রিকেটার

পর্যটন

যাত্রী সঙ্কটে সেন্টমার্টিন যায়নি পর্যটকবাহী জাহাজ

 প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ২৮ নভেম্বর ২০২৪

যাত্রী সঙ্কটে সেন্টমার্টিন যায়নি পর্যটকবাহী জাহাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে আজ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার কথা ছিলো।

তবে যাত্রী সঙ্কটের কারণে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাহাজ মালিক কতৃপক্ষ।

গত সোমবার জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদনের প্রেক্ষিতে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য কেয়ারি সিন্দাবাদ নামের একটি জাহাজকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়। যেটি আজ কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাট থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার কথা ছিলো।

কেয়ারি সিন্দাবাদের কক্সবাজারের ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ সিদ্দিকী বাসস’কে বলেছেন, বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়াস্থ আইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট দিয়ে জাহাজ ছাড়ার অনুমতি ছিল। কিন্তু যাত্রী সংকটের কারণে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে জাহাজ ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না।

নুর মোহাম্মদ সিদ্দিকী জানান, কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৩৫০ জন। কিন্তু বুধবার রাত পর্যন্ত সেন্টমার্টিন যেতে ইচ্ছুক যাত্রীর টিকেট বুকিং দিয়েছে মাত্র তিনজন। তাই যাত্রী সঙ্কটের কারণে বৃহস্পতিবার জাহাজটি না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ১ ডিসেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হবে।

এরআগে বুধবার বিকেলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণ ও সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ ছাড়ার পয়েন্ট নির্ধারণ সংক্রান্ত গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও কক্সবাজার সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াছমিন চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ ছাড়ার পয়েন্ট নির্ধারণে কমিটির প্রথম বৈঠক মঙ্গলবার কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্টিত হয়েছে। বৈঠকে কমিটির সদস্যদের সাথে পরিবেশসহ সার্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনার পর জাহাজ ছাড়ার পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএর ঘাট।

ইউএনও বলেন, তবে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বীপে ২ হাজারের বেশি পর্যটক যাতায়াত করতে পারবে না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নাফ নদীতে ডুবোচর জেগে ওঠার কারণে নাব্যতা সঙ্কটে এবং মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলির কারণে নিরাপত্তার অভাবে আপাতত টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। শুধু কক্সবাজার শহর থেকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবছর সরকারের পক্ষ থেকে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছয় মাস টেকনাফ-সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। বাকি ছয় মাস সাগর উত্তাল থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

গত ১৯ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে সেন্টমার্টিনের পর্যটন নিয়ন্ত্রণে কমিটি গঠন এবং একইসঙ্গে কক্সবাজার থেকে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপগামী জাহাজ চলাচল নিয়ে কিছু দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

কমিটির কর্মপরিধি হিসেবে বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিনগামী জাহাজে ওঠার আগে পর্যটকদের জাহাজ ছাড়ার জায়গা, অর্থাৎ এন্ট্রি পয়েন্টে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তৈরি করা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ট্রাভেল পাস নিতে হবে।

ট্রাভেল পাসধারী পর্যটকদের অনুমোদিত জাহাজে ভ্রমণ নিশ্চিত করবে কমিটি। পর্যটক ও অনুমোদিত জাহাজে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ব্যাগ ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পণ্য পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কমিটি কঠোর থাকবে।

পর্যটকরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছার পর কোন হোটেলে থাকবেন, তা লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি রেজিস্ট্রারে সংরক্ষণ করা হবে। জাহাজ ছাড়ার স্থানে (পয়েন্টে) ও সেন্টমার্টিনের প্রবেশের স্থানে (এন্ট্রি পয়েন্ট) পর্যটকদের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয় সার্বিক বিষয় ও যোগাযোগ সমন্বয় করবে। কাজের সুবিধার্থে কমিটি প্রয়োজনে সদস্য বাড়াতে পারবে।