ঈদ আসে ঈদ যায়
ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘজলে ভিজে গোলাপের পাপড়ি। উত্তরে দলবেঁধে গুঞ্জরা ছাইরঙা মেঘের পসরা হতে ঝুরঝুর করে নামে বৃষ্টি। টিনের চালে টুপটাপ শব্দের খই ফোটে।
নিলিপ্ত ভোরের গায়ে ঈদের বার্তা। আনন্দ, খুশির ভিন্ন আমেজ। অথচ আনন্দের এই উজ্জ্বল দিনেও বেদনার জলধিতে নিম পাতার মতো ভেসে বেড়ায় জীবন–খেয়া। জলজ মেঘের ভেলায় চড়ে আসেনা সুখের প্রজাপতি, সফলতা, প্রাপ্তি কিংবা স্বপ্ন পূরণের নির্মল প্রশান্তি! বেদনারা কেবল জীবনের ছায়া কিংবা প্রতিচ্ছবি হয়ে পাশেই থাকে।
হৃদয়ের প্রাণবন্ততা আর জীবনের উচ্ছলতা তো হারিয়েছে সে কবেই, হেমন্তের কুসুমাস্তীর্ণ বিকেলে, শীতের রাতের গুমোট আঁধারে! সেই থেকে শুধু অপেক্ষা! সূরা আলামনাশরহ কিংবা নুরুল আনোয়ারের প্রসিদ্ধ কবিতার উপর বিশ্বাস রেখে দীর্ঘ ইন্তেজার …!! কিন্তু কাঙ্খিত কামনা যেন বরাবরই বিলম্বিত …!!
নিষ্ঠুর নিয়তির আরেকবার ব্যর্থতা, পরাজয় কিংবা হতাশার ফান্দে আটকে দেয়। জীবনের খেরোখাতায় নতুন পৃষ্ঠা জুড়ে লেখা হয় অপ্রাপ্তির গল্প, বড় অক্ষরে "বিষাদনামা"। প্রাপ্তির সবুজ পাতায় অতীত হয়ে যায় শুভ্র জীবনের সাত ছবক, অনাবিলতার সৌরভ!!
এখন তো শিথানে রাখা প্রাপ্তির গল্প লেখার কলমটি কোথায় যেন হারিয়ে গেছে!
আমি বৃষ্টিস্নাত এবারের ঈদকে ঝাপসা চোখে বরণ করি। কিছুই ভালো লাগেনা। তবুও তো জিয়াফাতুল্লাহ তাই কড়কড়া মাড় দেয়া পুরোনো সাদা জামা, ব্যবহৃত পায়জামা, পুরোনো টুপি, কারওয়ান বাজার থেকে কেনা ১২০ টাকার প্লাস্টিকের "খাপড়া" জুতো জোড়া পরেই ঈদগাহে যাই।
বড্ড উদাসে কাটে এবারের ঈদ। আশপাশে কারো দিকে তাকাতে মন চায় না। প্রকৃতির রঙিন সজীবতা আমার চোখে ধরা পড়ে অদ্ভুত ফ্যাকাশে হয়ে।
মানুষের ঘরে ঘরে জ্বলছে আনন্দের আলো। কতজন প্রিয় মানুষের সাথে ছবি তুলতে ব্যস্ত। আর আমি চুপচাপ, নিথর, নির্বিকার ভঙ্গিতে অপলক শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দেই ঈদের ঝলমলে দুপুর। ঝুমবৃষ্টির শীতল আলিঙ্গনে নকশীকাঁথার কোমলতায় নিজেকে গুটিয়ে পার করি বিষন্ন বিকেল।
কারণ আমার ঈদের আনন্দটা যেন মিইয়ে গেছে কোনো অজানায়
" কিছু শূন্যতা কোনো উৎসব, কোনো আনন্দ দিয়ে পূরণ হয় না "
তবুও হে রব! আপনার সিদ্ধান্তের উপর আস্থা আছে। আর আমি শুধু চাই, এই ব্যথার মাঝেও যেন ঈমান আর সবর অটুট থাকে।