সব সমালোচনার জবাব দিয়ে নির্ভার রোনালদো
সমালোচনার ঢেউ যে কান পর্যন্ত পৌঁছেছিল তা নিয়ে কোনো সংশয় রাখলেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে বড় ভূমিকা রাখার পর গত সপ্তাহটার দিকে ফিরে তাকালেন তিনি। বললেন সেই সময়ের মানসিক অবস্থার কথা। একই সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও জানালেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
হিউস্টনে মঙ্গলবার উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয় পর্তুগাল। জোড়া গোল করে রেকর্ডের কয়েকটি পাতায় জায়গা করে নেন রোনালদো।
প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয় আসরে গোল করলেন পর্তুগাল অধিনায়ক। ইউসেবিওকে (৯) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের কীর্তি গড়লেন তিনি। বিশ্ব মঞ্চে দ্বিতীয় সবচেয়ে বয়সী ফুটবলার হিসেবে তিনি জালের দেখা পেলেন।
ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পরের সমালোচনা মুখর সময়টায় ফিরে গেলেন রোনালদো।
“সৃষ্টিকর্তা তাদের সাহায্য করেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করে। আমি জানতাম, আমার সতীর্থরাও আমাকে সাহায্য করবে। এটা ছিল কঠিন একটা সপ্তাহ, অন্ধকার এক সপ্তাহ। মনে হচ্ছিল যেন আমি ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছি। কিন্তু আমি সেখানে টিকে ছিলাম, যেমনটা আমি সবসময়ই করি। কারণ, আমি যে কোনো কিছুর চেয়ে কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাস করি।”
“আমাকে স্বীকার করতে হবে, এটা কঠিন ছিল কিন্তু আমরা ফিরে এসেছি।”
ষষ্ঠ মিনিটে দলের প্রথম গোলটি করেন রোনালদো। ৩৯তম মিনিটে আরেকটি গোল করেন তিনি। বড় টুর্নামেন্টে ১০ ম্যাচের খরা কাটানোর স্বস্তি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল তাকে দেখে। ২০০৬ আসর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে জালের দেখা পাওয়া মহাতারকা নিশ্চিত ছিলেন, গোল তিনি পাবেনই।
“আমি সবসময়ই ভূমিকা রাখি। আগে কিংবা পরে, আমি থাকবই। আসল কথা হলো কাজ চালিয়ে যাওয়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দল, দলের সঙ্গে এবং নিজেদের পরিবারের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকা। এর বাইরে থেকে যা আসে সেগুলো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না।”
“আমি জানি, যখন আমরা জিতি না, আমরা আক্রমণের মুখে পড়ি, বিশেষ করে আমি।”
ওপেন প্লে থেকে সবশেষ দেশের হয়ে বড় টুর্নামেন্টে রোনালদো গোল করেন ২০২১ সালের ইউরোয়। পাঁচবারের ব্যালন দ’র জয়ী ফুটবলার বিশ্বকাপের গত আসরে নিজের একমাত্র গোলটি করেন পেনাল্টি থেকে।