শনিবার ২০ জুন ২০২৬, আষাঢ় ৬ ১৪৩৩

ব্রেকিং

বিক্ষোভ-অবরোধে অচল বলিভিয়া, জরুরি অবস্থা ঘোষণা অগাস্টে চালু হচ্ছে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন: রেলমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘বাজি’ ধরলে কখনো ‘পস্তাতে হবে না’: রাষ্ট্রদূত হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের শর্ত ঘোষণা করল ইরান ২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২৬ জুন মালয়েশিয়ার সঙ্গে চীন মিলিয়ে ছয় দিনের প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেনজীরকে ফেরাতে দুবাইয়ে কাগজ গেছে তিন দিনের মধ্যে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে নেমে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু আমি না থাকলে ইসরায়েল চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেত: ট্রাম্প প্রথমার্ধের তিন গোলে ব্রাজিলের স্বস্তির জয়

খেলা

কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় আব্দুস সাদেক আর নেই

 প্রকাশিত: ১৯:১৭, ২০ জুন ২০২৬

কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় আব্দুস সাদেক আর নেই

বাংলাদেশের কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় আব্দুস সাদেক আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

মরহুমের প্রথম জানাজা আজ বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে।

আব্দুস সাদেকের ছোট ভাই দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এছাড়া তার বড় ছেলে টি স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ইশতিয়াক সাদেক।

আব্দুস সাদেক শুধু অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের তারকা খেলোয়াড়ই ছিলেন না, ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায়ও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের (ঢাকা আবাহনী লিমিটেড) প্রথম ফুটবল অধিনায়ক এবং হকি অধিনায়ক ছিলেন তিনি। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন।

তার বাবা অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান ব্রিটিশ আমলে খ্যাতিমান সাঁতারু ছিলেন।

খেলোয়াড়ি জীবনে আব্দুস সাদেক পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে ইউরোপ সফর করেন। ১৯৬৯ সালে দেড় মাসব্যাপী ইউরোপ সফরে তিনি ও তার সতীর্থরা জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডে খেলেন। ফেরার পথে মিসরের বিপক্ষেও একটি ম্যাচে অংশ নেন। ওই সফরে মাঠের নৈপুণ্যে দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন আব্দুস সাদেক।

ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ১৯৭৭ সালে আবাহনীর প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব নেন তিনি। দায়িত্ব নিয়েই গড়েন ইতিহাস। তার অধীনে ওই মৌসুমে কোনো ম্যাচেই হারেনি আবাহনী। তিনটি ম্যাচ ড্র ছাড়া বাকি সবগুলোতেই জয় পায় দলটি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে আবাহনী। স্বাধীন বাংলাদেশে এটিই ছিল কোনো দলের প্রথম অপরাজিত লিগ শিরোপা জয়।

প্রশিক্ষকের দায়িত্ব ছাড়ার পর ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আব্দুস সাদেক। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় ১৯৮৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া কাপ হকি টুর্নামেন্ট।

যদিও ওই আসরের আয়োজক হওয়ার কথা ছিল জাপানের। তবে এশিয়ান হকি ফেডারেশনের বৈঠকে তার উপস্থাপনা ও যুক্তিতে মুগ্ধ হয়ে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানের সমর্থনে আয়োজক হওয়ার মর্যাদা লাভ করে বাংলাদেশ।

১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জাতীয় হকি দল গঠিত হলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন আব্দুস সাদেক। ওই সিরিজে বাংলাদেশ একটি ম্যাচে জয়, একটি ম্যাচে ড্র এবং একটি ম্যাচে পরাজয় বরণ করে।

এরপর ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়। সেই আসরে জাতীয় হকি দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন আব্দুস সাদেক।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে। তার অবদান ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।