রোববার ২১ জুন ২০২৬, আষাঢ় ৭ ১৪৩৩

খেলা

১১ বলে ফিফটির বিশ্বরেকর্ড, ফাইনালে লঙ্কান বোলিং গুঁড়িয়ে সুরিয়াভানশির ২৯ বলে ৯৪

 প্রকাশিত: ১৩:৪৫, ২১ জুন ২০২৬

১১ বলে ফিফটির বিশ্বরেকর্ড, ফাইনালে লঙ্কান বোলিং গুঁড়িয়ে সুরিয়াভানশির ২৯ বলে ৯৪

জায়গা বানিয়ে খেলার চেষ্টায় ঠিকমতো পারলেন না বৈভাব সুরিয়াভানশি। ধরা পড়লেন তিনি মিড অফ ফিল্ডারের হাতে। চোখেমুখে আর অভিব্যক্তিতে হতাশা ফুটে উঠল স্পষ্ট। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক নিরোশান ডিকওয়েলা ছুটে এস পিঠ চাপড়ে সান্ত্বনা দিলেন। উল্লাসে মেতে ওঠা বোলারের পাশ দিয়ে সুরিয়াভানশি ড্রেসিং রুমের পথে হাঁটা দিলেন বিরস বদনে। ৬ রানের জন্য হলো না সেঞ্চুরি।

আক্ষেপ ওই সেঞ্চুরি না হওয়াতেই। নইলে ততক্ষণে সুরিয়াভানশি যা করেছেন, তাতে লঙ্কান বোলারদের নাকের জল চোখের জল এক হয়ে যাওয়ার কথা। ১১ বলে ফিফটি করে ভেঙে দিয়েছেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির ২১ বছর পুরোনো রেকর্ড। আউট হয়ে ফেরার সময় তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ২৯ বলে ৯৪!

শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় ‘এ’ দলের টুর্নামেন্টের ফাইনালে রোববার ইনিংসটি উপহার দেন সুরিয়াভানশি।

ফাইনালের আগ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি সুরিয়াভানশি। আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে এক ম্যাচে ২২ বলে ৪৪ ও আরেক ম্যাচে ২৮ বলে ৩৮ করেছিলেন। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই ছিলেন ব্যর্থ। আইপিএলে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা খানিকটা মিইয়ে এসেছিল ‘এ’ দলের এই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সে।

এই আসরে বেশি আলোচনায় ছিলেন তিনি বরং বিতর্কে জড়িয়ে। লঙ্কানদের সঙ্গে আগের ম্যাচেই সুপার ওভারের রোমাঞ্চে হেরে যাওয়ার পর মাঠে কথার লড়াইয়ের জের ধরে এক পর্যায়ে বিশেন হালাম্বাগের দিকে তেড়ে যান তিনি। এই ঘটনায় তার শাস্তিও হয়, যদিও তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

ব্যাটিং পারফরম্যান্স আর বিতর্কের ঘটনায় সব মিলিয়ে একটু নেতিবাচক আবহও ছড়িয়েছিল তার ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো। কিন্তু ফাইনালে ব্যাটের তাণ্ডবেই সব আড়াল করে দিলেন তিনি।

ডাম্বুলায় এ দিন প্রথম ওভারে দুটি বল খেলে দুটিতেই চার মেরে যাত্রা শুরু হয় সুরিয়াভানশির। তৃতীয় ওভারে মোহামেদ শিরাজকে গুঁড়িয়ে তিন ছক্কা ও দুই চারে রান নেন ২৬। তিন ওভারেই পঞ্চাশ পেরিয়ে যায় ভারত ‘এ’ দল।

পরের ওভারে একটি চারের পর টানা দুটি ছক্কায় পূর্ণ করেন ফিফটির রেকর্ড।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটি এতদিন ছিল ১২ বলে। ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার কৌশাল্য উইরারাত্নে গড়েছিলেন রেকর্ডটি।

ফিফটির পরের বলেই চার মারেন আরেকটি। চার-ছক্কার ঝড় তার চলতেই থাকে। নবম ওভারে লঙ্কান দলপতি সাহান আরাচ্চিগের বলে নান্দনিক এক ছক্কা মারেন এক্সট্রা কাভার দিয়ে। কিন্তু ওই ওভারেই থামতে হয় তাকে। শ্রীলঙ্কার হয়ে পাঁচটি ওয়াডে খেলা অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার দলকে বড় স্বস্তি এনে দেন সুরিয়াভানশিকে বিদায় করে।

৯৪ রান করে তিনি যখন ফিরছেন, ৮.৫ ওভারে ভারতের রান তখন ১৩২!

এই য়ে গত এক মাসে চার দফায় অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করলেন তিনি। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের শেষ চার ম্যাচের তিনটিতে তিনি করেন ৩৮ বলে ৯৩, ২৯ বলে ৯৭ ও ৪৭ বলে ৯৬। সামনেই তাকে জাতীয় দলের হয়ে দেখা যাবে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে।