বুধবার ২৪ জুন ২০২৬, আষাঢ় ১১ ১৪৩৩

ব্রেকিং

জলবায়ু কার্যক্রমকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখি: বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী তালিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ত দিন, লক্ষ্য ‘বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ’ সরকার আওয়ামী লীগকে ‘পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখছে’: নাহিদ ইসলাম ডা. জাহেদকে দিল্লি বিমানবন্দরে বাধা নিয়ে যা জানাল ভারত এবার দলীয় প্রতীক হারানোর ঝুঁকিতে মমতার তৃণমূল রাষ্ট্রীয় কাজ সংসদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়: মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে স্পিকার বিপৎসীমার উপরে তিস্তা নদীর পানি শাহবাগ, ধানমন্ডিসহ ঢাকার সাত জায়গায় বিজিবি মোতায়েন হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৩ মৃত্যু জামায়াতপন্থি ১৭ জন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ‘প্রমাণ’ পেলে ব্যবস্থা নেবে জামায়াত জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডিতে সাংবাদিক পেটানোর অভিযোগ আ.লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত আদালতের: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আশুরা ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ডিএমপি আওয়ামী লীগের ২৬ জনসহ একদিনে ১১৮ গ্রেপ্তার: ডিএমপি ইরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড় করছে যুক্তরাষ্ট্র মেসি ৫ এমবাপে ৪ হলান্ড ৪, তিন তারকার তুমুল লড়াই

জাতীয়

বিআরআইয়ের পর জিডিআই: ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নতুন অধ্যায়

 প্রকাশিত: ২১:৪০, ২৩ জুন ২০২৬

বিআরআইয়ের পর জিডিআই: ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নতুন অধ্যায়

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) অংশগ্রহণের প্রায় এক দশক পর এবার বেইজিংয়ের আরেক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে (জিডিআই) যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর চলমান চীন সফরে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে রয়েছেন। আগামী ২৫ জুন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

বৈঠক শেষে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা, অ্যাকশন প্ল্যান ও নোট বিনিময় হতে পারে। এর মধ্যে জিডিআই’তে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সমঝোতা সই হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিডিআইয়ে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করবে।

চীন ২০২১ সালে জিডিআই ঘোষণার পর থেকেই বাংলাদেশকে এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

গত কয়েক বছরে দুই দেশের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। অবশেষে দীর্ঘ আলোচনার পর বাংলাদেশ এ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর উন্নয়ন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন উৎস খুঁজছে। জিডিআইয়ের মাধ্যমে অবকাঠামো, ডিজিটাল রূপান্তর, জলবায়ু অভিযোজন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

জিডিআই কী?
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই) ঘোষণা করেন। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়ন সক্ষমতা বাড়ানো।

জিডিআইয়ের আওতায় আটটি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, মহামারি মোকাবিলা ও ভ্যাকসিন সহযোগিতা, উন্নয়ন অর্থায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও সবুজ উন্নয়ন, শিল্পায়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সংযোগ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন।

চীন বলছে, জিডিআই কোনো সামরিক বা নিরাপত্তা জোট নয়; বরং এটি উন্নয়ন সহযোগিতাকেন্দ্রিক একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম।

বাংলাদেশকে কবে প্রস্তাব দেয় চীন?
চীন ২০২১ সালে জিডিআই ঘোষণা করার পর থেকেই বাংলাদেশকে এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানায়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে ঢাকায় এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ-চীন পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের সফরগুলোতে জিডিআই নিয়মিত আলোচ্য বিষয় ছিল। গত কয়েক বছরে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ চলে আসছে।

কেন জিডিআইতে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ?
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি কারণে বাংলাদেশ জিডিআইতে যুক্ত হতে আগ্রহী।

প্রথমত, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন বাড়বে। জিডিআইয়ের মাধ্যমে অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ জ্বালানি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অংশ। ফলে জিডিআইতে যুক্ত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তৃতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল রূপান্তরের মতো খাতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চায়। জিডিআই এসব খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় ঢাকা এতে সম্ভাবনা দেখছে।

তবে বাংলাদেশ এখনো চীনের নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ, যেমন গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভে (জিএসআই) যোগ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সূত্র মতে, ঢাকা উন্নয়ন সহযোগিতাকে নিরাপত্তা রাজনীতি থেকে আলাদা রাখতেই আগ্রহী।

বিশ্বের কত দেশ যুক্ত হয়েছে?
চীনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০০টির বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা জিডিআইকে সমর্থন জানিয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘে গঠিত ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস অব জিডিআই’-এ ৮০টির বেশি দেশ অংশ নিয়েছে। চীন বলছে, জিডিআই ধীরে ধীরে একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জিডিআইতে যুক্ত হলে তা ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে এবং উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করবে। তবে একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতির ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জও বাংলাদেশের সামনে থাকবে।

শি জিনপিংয়ের চার বৈশ্বিক উদ্যোগ
চীনা প্রেডিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ রয়েছে। এই চারটি উদ্যোগ হলো—গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই), গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ (জিএসআই), গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ (জিসিআই) এবং গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ (জিজিআই)। তবে বাংলাদেশ এখন শুধু প্রথমটিতেই যোগ দিতে আগ্রহী। বাকি উদ্যোগে যুক্ত হবে কি না, পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, চীনা প্রেসিডেন্টের বৈশ্বিক উদ্যোগ জিডিআইয়ে যুক্ত হতে বেইজিং অনেক আগেই ঢাকাকে প্রস্তাব দিয়েছে।

তিনি বলেন, চীন বহুদিন ধরেই আহ্বান জানিয়ে আসছে, যেন আমরা জিডিআইতে যুক্ত হই। আমরা ইতোমধ্যে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যুক্ত আছি, যা মূলত জিডিআইয়েরই অংশ। তাই জিডিআইয়ে আমাদের যুক্ত হতে কোনো বাধা দেখছি না এবং সরকারও বিষয়টি বিবেচনা করছে।

পররাষ্ট্রসচিব যা বলছেন
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের বৈশ্বিক চার উদ্যোগের মধ্যে কোনোটিতে বাংলাদেশ যুক্ত হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেছেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ আছে। সে চারটি উদ্যোগে যোগ হওয়ার বিষয়টা আমরা মোটামুটি ‘কনসিডার’ করছি।

তিনি বলেন, আমরা সফরের পরে বলতে পারব যে, কয়টি উদ্যোগে আমরা যোগ দিচ্ছি বা যোগ দিচ্ছি না। তবে, আমরা এ কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমরা এই চার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিশ্ব নিয়ে নতুন চিন্তাভাবনা করছেন, সেটাকে আমরা মনে করি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরে যান। ২২ জুন মালয়েশিয়া থেকে চীন সফরে গেছেন তিনি। আগামী ২৬ জুন চীন সফর শেষে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।