রোববার ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২১ ১৪৩২, ১৫ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

ঢাকা-১৭ আসনেও তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ দেশে কোটি কোটি ‘নকল ফোন’, বন্ধ হচ্ছে না এখনই ‘বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছি, এসআইকে জ্বালিয়েছি’ বললেন বৈষম্যবিরোধী নেতা শরীয়তপুরে ছুরিকাঘাতের পর শরীরে আগুন, দগ্ধ খোকন দাসের মৃত্যু ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী আটক: ট্রাম্প আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঢাকা-১৩: বিএনপির ববি হাজ্জাজ ও খেলাফতের মামুনুলসহ ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির-বিএনপির মিল্টন, ঢাকা-১০ আসনে রবির মনোনয়ন বৈধ ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির নাহিদ ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা মায়ের দেখানো পথেই দেশ এগিয়ে নেবেন তারেক রহমান: রিজভী কলকাতার স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দিতে বললো বিসিসিআই জানুয়ারিজুড়ে থাকবে শীতের দাপট, আরও নামতে পারে তাপমাত্রা

স্পেশাল

কালের সাক্ষী শতর্বষী তিন গম্বুজ জামে মসজিদ

 প্রকাশিত: ১৫:১৪, ২ সেপ্টেম্বর ২০২২

কালের সাক্ষী শতর্বষী তিন গম্বুজ জামে মসজিদ

কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের মেহার গ্রামে প্রায় শতর্বষ আগে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী তিন গম্বুজ জামে মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজও।

মসজিদটির ভিতর ও বাহিরে রয়েছে অপূর্ব সৌন্দর্য বিভিন্ন কারুকাজ করা। চিনামাটির প্লেট ভাঙ্গা দ্বারা বিভিন্ন ডিজাইনে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। চারপাশের ওয়ালগুলো ৩ ফুট পুরো। যার কারনে শীতকালে মসজিদের ভিতর গরম আর গরমকালে ঠান্ডা অনুভূতি হয়। এটি চুনশুড়কির তৈরি। ভেতরের মিম্বরটিতে রয়েছে সুনিঁপুণ হাতে নির্মিত অপূর্ব কারুকাজ। যে কেউ একবার দেখলে পরে মন ভরে যায়।

মসজিদের দেয়ালে নির্মাণ সন লেখা রয়েছে ১৩৩১ বাংলা ও ১৯২৫ ইংরেজি সনে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন সময়ে জমিদারি প্রথা চালু থাকার কারনে উপজেলার মহিচাইল গ্রামের জমিদার শ্রী ভৈরব চন্দ্র সিংহয়ের অনুমতিক্রমে মেহার গ্রামের তৎকালীন প্রভাবশালী দানবীর ব্যক্তি হাজী নজর মামুদ এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। হাজী নজর মামুদের নাতী হাজী রমিজ, হাজী আ. খালেক বাসসকে বলেন, মসজিদটি নির্মাণ কাজের সময় জমিদার শ্রী ভৈরব চন্দ্র সিংহ হাতী চড়ে এসে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। জমিদার শ্রী ভৈরব চন্দ্র সিংহ তখন একজন প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন। যার জমিদারির আওতাধীন এলাকা ছিল চান্দিনা, বরুড়া, দেবিদ্বার ও দাউদকান্দি এলাকা নিয়ে। তৎসময়ে জমিদারি প্রথা চালু থাকার কারনে জমিদারের নির্দেশ মোতাবেক সব কাজ হতো। মসজিদটি নজর মামুদ হাজী বাড়ি জামে মসজিদ নামেই পরিচিত। সে সময়ে হাজী নজর মামুদ পায়ে হেঁটে মক্কা শরীফ গিয়ে হজ করেছেন। তখন এলাকায় মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য কোন মসজিদ ছিল না। তাই তিনি এলাকার মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য নিজ উদ্যোগে মসজিদটি নির্মাণ করেন।

মসজিদটির সামনে রেখেছেন মুসুল্লীদের ধর্মীয় আলোচনা করার জন্য বসার স্থান। মসজিদটির দক্ষিণ পাশে মসজিদের মুসুল্লীদের অযুও গোসল করার জন্য তৎসময়ে তিনি ১২০ শতক জায়গায় একটি পুকুর খনন করে যান। যাতে রয়েছে পাকা ঘাট। তিনি মসজিদটি নির্মাণ করে ভবিষ্যতে মসজিদ পরিচালনার জন্য, প্রতি রমজান মাসের ক্বদরের রাতে মসজিদের মুসুল্লীদের খাবার ও মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জ্বিনের খরচসহ অন্যান্য ব্যয়ভার বহন করার জন্য মসজিদের নামে ২৬৪ শতক জায়গা ওয়াকফ করে দিয়ে যান। হাজী নজর মামুদের দুইছেলে ছিল, আপ্তরদ্দী ও মিছির আলী। হাজী সাহেবের মৃত্যুর পর তার দুই ছেলে মসজিদের সবধরনের দেখাশোনা করতেন। ছেলেদের মৃত্যুর পর তার ছেলের ঘরের নাতীরা মসজিদটি এখন দেখাশোনা করছেন। বর্তমান সময়ে এসে মসজিদের মুসুল্লীদের স্থানসংকুলান না হওয়ায় তার নাতীরা মসজিদের সামনের খালী জায়গাটি মসজিদের সাথে সংযুক্ত করে সম্প্রসারণ করে মুসুল্লীদের নামাজের জায়গা তৈরি করেন। তার পাঁচ নাতীর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। এখন দুই নাতী ও নাতীর ঘরের পৌতিরা মসজিদটি নিয়মিত দেখাশোনা করছেন।