রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ১ ১৪৩২, ২৬ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ‘লুটপাটের’ অভিযোগ শাহজাহান চৌধুরীর রাজশাহীতে জমেছে রেশমি পোশাকের বিকিকিনি, দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মধ্যরাতের পর থেকে ইসরায়েলে ইরানের পঞ্চম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ২ ইস্পাহানে কারখানায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৫ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: সংঘাতের বলি হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ পারমাণবিক রকেট লঞ্চারের পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার ইরানি বিপ্লবী গার্ডের ঘোষণা: নেতানিয়াহুকে খুঁজে হত্যা করবে। ঈদের আগে শেষ বৈঠকে সংসদ দেশে প্রথমবারের মতো ট্রেনে স্টারলিংকের ইন্টারনেট চালু চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘোষণা সিরিজ জয়ের লড়াইয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান খার্কে আরও হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান

ইসলাম

অপবাদ ও মানসিক অত্যাচার জঘন্য জুলুম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৯, ১৫ মার্চ ২০২৬

অপবাদ ও মানসিক অত্যাচার জঘন্য জুলুম

মানুষের শরীরকে আঘাত করলে তার ক্ষত দেখা যায়; কিন্তু কথার আঘাত, মিথ্যা অপবাদ, তিরস্কার ও ষড়যন্ত্রের আঘাত অনেক সময় চোখে দেখা যায় না, তবুও তা মানুষের হূদয়, মানসিকতা ও আধ্যাত্মিক জীবনকে তিলে তিলে ক্ষতবিক্ষত করে। ইসলামের দৃষ্টিতে এই ধরনের অত্যাচার অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। কারণ এটি শুধু মানুষের মানসিক শান্তিই নষ্ট করে না, বরং তার ঈমান, আত্মবিশ্বাস ও জীবনশক্তিকেও দুর্বল করে দেয়।

এই জন্যই হয়ত মহান আল্লাহ সামনে পেছনে তিরস্কারকারীদের অভিশাপ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, দুর্ভোগ সেই ব্যক্তির জন্য, যে সম্মুখে ও পশ্চাতে মানুষের নিন্দা করে। (সুরা হুমাযাহ, আয়াত : ১)

এই আয়াতে ‘হুমাযাহ’ ও ‘লুমাযাহ’ দ্বারা সেই সব লোককে বোঝানো হয়েছে যারা মানুষের সম্মান নষ্ট করে, বিদ্রূপ করে, অপবাদ ছড়ায় এবং অন্যকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়, আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সামাজিক ভাবে সর্বত্র অপমান করার চেষ্টা করে। এটা নিছক একটি সামাজিক অপরাধ নয়, মহান আল্লাহর নিকটও বড় গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কৃত কোনো অন্যায় ছাড়াই কষ্ট দেয়, নিশ্চয় তারা বহন করবে অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপ।’ (সুরা আহযাব, আয়াত : ৫৮)

দুনিয়াবী দৃষ্টিকোণ থেকেও এই জুলুম মানুষকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মানুষ যখন বারবার অপমান, তিরস্কার, কুদৃষ্টি ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়, তখন তার মধ্যে কয়েকটি মারাত্মক প্রভাব দেখা দেয়, তার আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়, ভয় ও দুশ্চিন্তা বাড়ে, একাকিত্ব ও হতাশা জন্ম নেয়, এমনকি কারো কারো ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতাও দেখা দেয়। আর ইসলামে কাউকে কষ্ট দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, মুসলিম (প্রকৃত) সেই, যার মুখ ও হাত থেকে মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে। আর (প্রকৃত) মুহাজির সেই, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে পরিত্যাগ করে। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৮৪)

হাদিসের ভাষ্য দ্বারা বোঝা যায়, মানুষ মুখ দিয়েও একে অপরকে অত্যাচার করে। যেমন —নিন্দা, অপবাদ, কটূক্তি, তিরস্কার, তাচ্ছিল্য, এসবও বড় ধরনের অন্যায় এবং ইসলাম বিরোধী কাজ। 

অন্যকে হেয় করার বা দাবিয়ে রাখার এই জঘন্য পদ্ধতি কাফেররা অবলম্বন করত। তারা আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) সত্য নবী জেনেও ‘যাদুকর’, ‘পাগল’, ‘মিথ্যাবাদী’ বলে অপবাদ দিত। যাতে মানুষের তার দেখানো হেদায়েতের পথে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত থাকে। তাদের এসব অন্যায় আচরণ, কুটচাল, গোপন ও প্রকাশ্য ষড়যন্ত্রে মহানবী (সা.) ব্যথিত হতেন। তাইতো মহান আল্লাহ কোরআনের আয়াত নাজিল করে তাঁকে সান্তনা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর অবশ্যই আমি জানি যে, তারা যা বলে তাতে তোমার অন্তর সঙ্কুচিত হয়। সুতরাং তুমি তোমার রবের প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ কর এবং সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হও। আর তোমার রব্বের ইবাদাত করতে থাক তোমার সুনিশ্চিত ক্ষণের (অর্থাত্ মৃত্যুর) আগমন পর্যন্ত।’ (সুরা হিজর, আয়াত : ৯৭-৯৯)

এই আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বন্ধুকে সান্তনা দিতে গিয়ে কয়েকটি বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন, এক. যে মহান আল্লাহ তার সাথে হওয়া প্রতিটি অন্যায় গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করছেন, কাফেররা সাময়িক অপ্রতিরোধ্য মনে হলেও তাদের ধ্বংস আসন্ন। দুই. দুষ্ট লোকের আচরণে কষ্ট পেয়ে এতটা ভেঙে পড়া যাবে না যে নিজের ইবাদত ও মৌলিক কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বরং আমৃত্যু নিজের ইবাদত ও মূল দায়িত্বে অটল থাকতে হবে। আল্লাহর প্রশংসা ও ইবাদত করে তাঁর বিশেষ রহমতের ছায়ায় আশ্রয় নিতে হবে। আল্লাহ সবকিছু ঠিক করে দেবেন ইনশাআল্লাহ এবং সব হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খ নেবেন। 

দুনিয়ার চোখে মাজলুমকে দুর্বল মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এ ব্যাপারে সতর্ক করতে গিয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মজলুমের দোয়া থেকে সাবধান থেকো; কারণ তার দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই।’

(আবু দাউদ, হাদিস ১৫৮৪)

মহান আল্লাহ সবাইকে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন।