রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ১ ১৪৩২, ২৬ রমজান ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

খার্কে আরও হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান

 প্রকাশিত: ১১:৪৩, ১৫ মার্চ ২০২৬

খার্কে আরও হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান

ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্ক দ্বীপে আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আর হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করতে মিত্রদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আর খার্ক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর হামলার পর এর জবাব দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ইরান।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ রোববার ১৬তম দিনে প্রবেশ করার পরও থামার কোনো ইঙ্গিত মেলেনি, জানিয়েছে রয়টার্স।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খার্ক দ্বীপের অধিকাংশ ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়ে গেছে আর আরও হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

এনবিসি নিউজকে তিনি বলেছেন, “শুধু মজা করার জন্য আমরা আরও কয়েকবার হামলা চালাতে পারি।”

এই সংঘাত শেষ করতে একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য তেহরানকে প্রস্তুত মনে হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ভালো না।”

এসব মন্তব্যে ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্রতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যিনি এর আগে বলেছিলেন, খার্কে মার্কিন বাহিনী শুধু সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে। তার এসব মন্তব্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সম্ভাবনাকেও দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর প্রচেষ্টা নিলেও ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের জন্য একটি কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যানেলটি বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে থাকায় বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ সবচেয়ে বড় বিঘ্নের মুখোমুখি হয়েছে আর এতে জ্বালানির দাম চড়ছে।

শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোসে্‌ট ট্রাম্প লিখেছেন, “বিশ্বের যে দেশগুলো হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পেয়ে থাকে তাদের এই অবশ্যই এই পথটির যত্ন নিতে হবে আর আমরা তাদের সাহায্য করবো- অনেক! সবকিছু যেন দ্রুত, মসৃণ ও ভালোভাবে চলে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ওই দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ও করবে।”

যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর পর উভয়পক্ষ দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

ইরান অনমনীয় মনোভাব দেখিয়েই যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিমান হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।

ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্বার্থে ও ইসরায়েলে আঘাত হানা অব্যাহত রেখেছে। শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে সেখানে কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে।

একইদিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে ইরাক ছাড়তে বলেছে। শুক্রবার রাতে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেয় তারা।

ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিকদের বন্দর, ডকইয়ার্ড ও ‘আমেরিকানদের আস্তানাগুলো’ থেকে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। মার্কিন বাহিনী এসব এলাকা থেকে ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। শুক্রবার রাতে ইরানের খার্ক দ্বীপে হামলা তাদের ভূখণ্ড থেকে চালানো হয়েছে, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে আরব আমিরাত।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন সব স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যস্থল’ বলে ঘোষণা করেছে আর সব মার্কিন শিল্প কারখানাগুলোকে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।