বিএনপি ছাড়া দেশ সঠিকভাবে পরিচালনা করার মতো দল নেই: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চায় কোন রাজনৈতিক দল দেশ ও জনগণের জন্য কী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিএনপি সেই পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপিই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যার অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশকে সামনের দিকে পরিচালিত করার। বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার মতো কোনো রাজনৈতিক দল নেই।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় বিসিক শিল্পপার্ক মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি চাইলে প্রতিপক্ষকে নিয়ে অনেক কথা বলতে পারতেন, যাতে হাততালি পড়ত। তবে তাতে দেশের বা জনগণের কোনো লাভ হতো না। বিএনপি বরং দেশের বাস্তব সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই কথা বলতে চায়।
তিনি বলেন, বিএনপি সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। দলের কাছে ধর্ম কিংবা জাতপাত মুখ্য নয়, মুখ্য হলো বাংলাদেশের মানুষ। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তবেই দেশ ও মানুষের প্রকৃত সমস্যার সমাধান সম্ভব।
তারেক রহমান বলেন, ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সিরাজগঞ্জের মেরি সারাজীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
এমন হাজারো মানুষ গত ১৬-১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কেউ কেউ জীবনও দিয়েছেন। যারা একসময় জনগণের ভোটাধিকার, কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধেই এই ত্যাগ।
তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের প্রতিদান দিতে হলে শুধু সভা-সমাবেশ যথেষ্ট নয়। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে আগামী ১২ তারিখে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসব খাতকে শক্তিশালী করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। উত্তরাঞ্চলে কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে।
তাঁত ও লুঙ্গি শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই শিল্পের সঙ্গে সিরাজগঞ্জ-পাবনার লাখো মানুষ জড়িত। সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে এখানকার উৎপাদিত পণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছিল, যার সুফল আজও পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতের বিএনপি সরকার নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি মায়ের হাতে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ ও সার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, তরুণ সমাজকে আইটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বিদেশে যেতে আগ্রহীদের জন্য সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এছাড়া মসজিদ, মাদরাসার খতিব-ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থার আশ্বাস দেন তিনি। বলেন, ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয়ী হলে ১৩ তারিখ থেকেই এসব কার্যক্রম শুরু করা হবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়া বিএনপির বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরাও বক্তব্য রাখেন।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর তারেক রহমানের সিরাজগঞ্জ সফরকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। সকাল থেকেই মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন তারা। দুপুরের মধ্যেই বিসিক শিল্পপার্ক মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সিরাজগঞ্জ সফর করেছিলেন তারেক রহমান।