বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কামিন্স, নেই স্মিথও, চমক রেনশ
প্রথমে আশা ছিল বিশ্বকাপের শুরু থেকেই পাওয়া যাবে প্যাট কামিন্সকে। পরে জানানো হলো, বিশ্বকাপের মাঝামাঝি দলে যোগ দেবেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই আশাতেও গুড়েবালি। চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরিই ছিটকে গেলেন অভিজ্ঞ পেসার।
বিগ ব্যাশে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে বিশ্বকাপ সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত জায়গা পাননি স্টিভেন স্মিথও। আরেকটি বড় চমক আছে অস্ট্রেলিয়ার চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। আগে ঘোষিত দল থেকে বাদ পড়েছেন ম্যাথু শর্ট। এই অলরাউন্ডারের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন ম্যাট রেনশ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য অস্ট্রেলিয়ার একটি স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছিল আগে। তবে তখনই বলে দেওয়া হয়েছিল, এটি প্রাথমিক দল। দলে পরিবর্তন আনার শেষ তিন ৩১ জানুয়ারিতেই চূড়ান্ত দল ঘোষণা করল তারা। আগের দল থেকে যেখানে পরিবর্তন দুটি।
কামিন্সের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার বেন ডোয়ার্শিস। গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর থেকে পিঠের নিচের অংশের চোটে ভুগছেন কামিন্স। গত সাড়ে ছয় মাসে স্রেফ একটি ম্যাচ তিনি খেলেছেন, অ্যাশেজের অ্যাডিলেইড টেস্টে। কদিন আগে তার স্ক্যান করানো হয় এবং সেটির ফল ‘ইতিবাচক’ বলেই জানানো হয়েছিল। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এখন বলছে, সেরে উঠতে আরও সময় লাগবে তার।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আর ম্যাচ খেলেননি কামিন্স। এবার বিশ্বকাপে না থাকার পর এই সংস্করণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ভবিষ্যতও এখন অনিশ্চয়তার মোড়ে।
কামিন্স ছিটকে গেলেও অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় স্বস্তির খবর, চোট কাটিয়ে ফেরার পথে থাকা অন্য তিন ক্রিকেটার জশ হেইজেলউড, ন্যাথান এলিস ও টিম ডেভিড ফিট হয়ে উঠেছেন।
শর্ট দল থেকে বাদ পড়ে গেলেন ফর্ম হারিয়ে। যদিও তিনি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্পিন বোলিংও করেন, বিকল্প কোনো অলরাউন্ডারকে নেয়নি অস্ট্রেলিয়া। এখানে সুযোগ পেয়েছেন রেনশ। বেশ কিছুদিন ধরেই ঘরোয়া ক্রিকেটে সব সংস্করণে দারুণ ফর্মে আছেন এই বাঁহাতি। তার স্পিন খেলার দক্ষতায়ও দারুণ উন্নতি হয়েছে গত কিছুদিনে। এবারের বিগ ব্যাশে ৩২৪ রান করেছেন তিনি ১৫৩.৫৫ স্ট্রাইক রেটে।
অ্যাশেজ শেষে বিগ ব্যাশে ফিরে মাত্র ৬ ইনিংসেই ২৯৯ রান করেছেন তিনি ৫৯.৮০ গড় ও ১৬৭.৯৭ স্ট্রাইক রেটে।
তবে বিগ ব্যাশে স্মিথ ওপেন করেছেন। শর্টের বদলে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকরা চেয়েছেন মিডল অর্ডারের জন্য বাঁহাতি একজন ব্যাটসম্যানকে, যিনি স্পিন সামলাতে পারেন ভালো। এখানেই সুযোগ পেয়ে গেছেন রেনশ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে রেনশর টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছে দুদিন আগে পাকিস্তান সফরে।
১১ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান। এই গ্রুপে আছে জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা ও ওমান।
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দল: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনোলি, টিম ডেভিড, বেন ডোয়ার্শিস, ক্যামেরন গ্রিন, ন্যাথান এলিস, জশ হেইজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাট কুনেমান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাট রেনশ, মার্কাস স্টয়নিস, অ্যাডাম জ্যাম্পা।