শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৭ ১৪৩২, ১১ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

টোকিওর ব্যস্ত সড়কে বিরল ডাকাতি, নগদ ২৭ লাখ ডলার লুট চীনের সঙ্গে চুক্তিকে যুক্তরাজ্যের জন্য ‘বিপজ্জনক’ বললেন ট্রাম্প। গালফস্ট্রিম বিরোধে কানাডীয় বিমানের স্বীকৃতি বাতিলের হুমকি ট্রাম্পের গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই: তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর নারী সমাবেশ স্থগিত বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া: পশ্চিমবঙ্গকে জমি ছাড়ার আদেশ আদালতের শেরপুরের ঘটনায় ওসি-ইউএনও প্রত্যাহার আমের জন্য হিমাগার হবে: রাজশাহীতে তারেক আগে একাত্তর নিয়ে মাফ চান, পরে ভোট চান: মির্জা ফখরুল তারা কেন আগে থেকেই লাঠিসোঁটা জড়ো করল: শেরপুরের সংঘাত নিয়ে বিএনপি হাদি হত্যা: ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ নির্বাচন: রিটার্ন জমার সময় বাড়ল আরও এক মাস শেরপুরের ঘটনায় উদ্বেগ, সংযমের আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যু: থমথমে ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী জামায়াতের আমিরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা ভোটের পোস্টার মুদ্রণ নয়: ছাপাখানাকে ইসি সোনা-রুপার দামে টানা রেকর্ড, ভরিতে বাড়ল ১৬ হাজার

লাইফস্টাইল

শীতকালে পানি কম পানে কী ঝুঁকি, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

 প্রকাশিত: ১৪:৪৮, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

শীতকালে পানি কম পানে কী ঝুঁকি, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

শীতকালে ঘাম কম হওয়া এবং তৃষ্ণার অনুভূতি দুর্বল থাকার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করতে অবহেলা করেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ঠান্ডা আবহাওয়াতেও শরীরের পানির চাহিদা কমে না। বরং শীতকালে কম পানি পান করলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীর কম ঘামলেও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে নিয়মিত আর্দ্রতা হারাতে থাকে। এই সময়টায় হিটার ব্যবহার ও গরম পোশাক পরার কারণেও শরীর থেকে তরল পদার্থ ক্ষয় হয়, যা অনেক সময় চোখে পড়ে না। ফলে পিপাসা কম লাগলেও শরীর ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। 

ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি 

অপর্যাপ্ত পানি পানের ফলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে। এর লক্ষণ হিসেবে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, শুষ্ক মুখ, প্রস্রাবের রঙ হলুদ হয়ে যাওয়া এবং মাথা ঘোরার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। শীতকালে পিপাসা কম অনুভূত হওয়ায় এই সমস্যা ধীরে ধীরে তৈরি হয়, যা অনেকেই বুঝতে পারেন না। 

ত্বক শুষ্ক এবং ফেটে যাওয়া 

পানি কম পান করার আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে ত্বকে। শীতের শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে পানির অভাব যুক্ত হলে ত্বক আরও শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। ঠোঁট ফাটা, হাত শুষ্ক হওয়া ও চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ডিহাইড্রেশনের ফল। 

হজমের সমস্যা 

এছাড়া কম পানি পান করলে হজমজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, পানি মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এর অভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের অস্বস্তি বাড়তে পারে, বিশেষ করে শীতকালে যখন খাবার তুলনামূলকভাবে ভারী হয়। 

কিডনির উপর চাপ বৃদ্ধি

কিডনির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পর্যাপ্ত পানি না পেলে কিডনিকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, ফলে শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণ ব্যাহত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ। কম পানি পান করলে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে ঠান্ডা, ফ্লু ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

প্রতিদিন কি পরিমাণ পানি পান করা উচিত? 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণত প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন। তবে ব্যক্তিভেদে, শারীরিক কার্যকলাপ ও আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে এই পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। শীতকালে পিপাসা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করা জরুরি বলে জোর দিয়েছেন তারা। 

এছাড়া শীতকালে বেশি করে পানি পানের অভ্যাস করতে সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পান করা, কাছে পানির বোতল রাখা, হালকা গরম পানি পান করা এবং খাদ্যতালিকায় স্যুপ, শাকসবজি ও ফলমূলের মতো পানি সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

সব মিলিয়ে, শীতকালে কম পানি পান করলে শুষ্ক ত্বক, পানিশূন্যতা, হজমের সমস্যা, কিডনির জটিলতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সুস্থ থাকতে শীতকালেও গ্রীষ্মের মতোই পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।