বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৬ ১৪৩২, ১০ শা'বান ১৪৪৭

জাতীয়

প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা

 প্রকাশিত: ১৩:৩০, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশে আশ্রিত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনই চলমান সংকটের একমাত্র কার্যকর ও টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেছেন, “সমস্যাটির শুরু যেহেতু মিয়ানমারে, তাই এর স্থায়ী সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরগুলোতে প্রযুক্তির সংস্পর্শে বেড়ে উঠছে এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম। এটি কারও জন্যই ভালো খবর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজ দেশে ফেরানো নিশ্চিত করা।”

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) নতুন প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে তার দপ্তর জানিয়েছে।

এসময় ইভো ফ্রেইজেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আন্তর্জাতিক সহায়তার ‘নাটকীয় হ্রাস’র প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। পাশাপামি শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জন্য আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি ও জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “রোহিঙ্গা সংকটটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনো প্রাপ্য গুরুত্ব পাচ্ছে না, যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত এক বছরে বিষয়টি সামনে আনতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ নিয়েছে।”

তিনি বলেন, গত রোজায় জাতিসংঘ মহাসচিবের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এই মানবিক সংকট নতুন করে নজর কেড়েছে।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “শিবিরে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান কখনোই সমাধান হতে পারে না, কারণ এতে ইতোমধ্যেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নতুন করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকে ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।

ইউনূস বলেন, ভাসানচর দ্বীপের অনেক শরণার্থী আশ্রয়স্থল ত্যাগ করে মূল ভূখণ্ডের জনসংখ্যার সঙ্গে মিশে গেছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ইভো ফ্রেইজেন বলেন, নতুন ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন।

“তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্রান্ডি ২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন।”

আলোচনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গও আসে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

“আমরা নির্বাচন পরিচালনায় একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করতেই আমাদের সব প্রচেষ্টা। প্রথমবার ভোট দিতে আসা ও নতুন ভোটারদের জন্য আমরা এই প্রক্রিয়াকে আনন্দদায়ক, উৎসবমুখর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।”

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।