গালফস্ট্রিম বিরোধে কানাডীয় বিমানের স্বীকৃতি বাতিলের হুমকি
গালফস্ট্রিম ব্যবসায়িক জেটকে অনুমোদন না দেওয়ার জেরে, কানাডায় তৈরি সব বিমানের যুক্তরাষ্ট্রে সনদ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কানাডা ‘ভুল, অবৈধ ও ধারাবাহিকভাবে’ গালফস্ট্রিমের নতুন মডেলগুলোর সনদ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ সব মডেলের মধ্যে রয়েছে গালফস্ট্রিম ৫০০, ৬০০, ৭০০ ও ৮০০।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘গালফস্ট্রিম— একটি মহান আমেরিকান কোম্পানি— যথাযথভাবে বহু বছর আগেই এর স্বীকৃতি পাওয়ার কথা ছিল, তা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কানাডায় তৈরি বম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল এক্সপ্রেসসহ কানাডার সব বিমানের সনদ বাতিল করছি।’
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া কানাডার সব বিমানের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন তিনি।
তবে ট্রাম্প কী প্রক্রিয়ায় একতরফাভাবে বিমানগুলোর সনদ বাতিল করতে পারেন বা এই বাতিলের বাস্তব রূপ কী হবে— তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন মন্ত্রণালয় (ডিওটি) ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বিষয়টি হোয়াইট হাউসের দিকে পাঠায়।
তবে এএফপি’র মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
—‘উল্লেখযোগ্য প্রভাবের আশঙ্কা’—
কানাডার কুইবেকভিত্তিক বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বম্বার্ডিয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের ওই পোস্টের বিষয়টি ‘নোট করেছে’ এবং এ বিষয়ে কানাডা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ‘কানাডায় তৈরি হাজার হাজার ব্যক্তিগত ও বেসামরিক জেট প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উড়ছে। বিমান চলাচল ও যাত্রীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব এড়াতে আমরা আশা করছি, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।’
গ্লোবাল এক্সপ্রেস একটি ব্যবসায়িক জেট হলেও, কানাডায় তৈরি ‘সব’ বিমানের সনদ বাতিলের ট্রাম্পের হুমকির আওতায় সিআরজে আঞ্চলিক জেট ও এয়ারবাস এ২২০-ও পড়তে পারে।
এ সব বিমান যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় এয়ারলাইন স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইটে ব্যবহার করে।
এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের প্রতিবেশী কানাডার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মৌখিক ও বাণিজ্যিক আক্রমণের সর্বশেষ উদাহরণ।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীন সফর করে কয়েকটি অর্থনৈতিক চুক্তি সই করার পর, কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
কার্নি হুমকিটিকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন।
তিনি বলেন, আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির পর্যালোচনার প্রেক্ষাপটে এ সব মন্তব্য দেখা উচিত।
ট্রাম্পের খাতভিত্তিক শুল্কে কানাডা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বিশেষ করে গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম খাত সবচেয়ে বেশি চাপে আছে।
তবে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশের বেশি শুল্কমুক্ত রয়েছে।
জাস্টিন ট্রুডোর তুলনায় ট্রাম্পের সঙ্গে কার্নির সম্পর্ক ছিল তুলনামূলক ভালো।
ট্রাম্প প্রায়ই ট্রুডোকে ‘গভর্নর’ বলে কটাক্ষ করতেন এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক দিনে কার্নি ও ট্রাম্পের সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দেয়।
গত সপ্তাহে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।
ওই বক্তব্যে বিরল এক স্থায়ী করতালি পান তিনি এবং তা বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়।
এর জবাবে দাভোসে নিজের ভাষণে ট্রাম্প কার্নিকে ‘কথা বুঝে বলার’ পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে।’
পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আবারও কার্নিকে ‘গভর্নর’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।