শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৭ ১৪৩২, ১১ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

টোকিওর ব্যস্ত সড়কে বিরল ডাকাতি, নগদ ২৭ লাখ ডলার লুট চীনের সঙ্গে চুক্তিকে যুক্তরাজ্যের জন্য ‘বিপজ্জনক’ বললেন ট্রাম্প। গালফস্ট্রিম বিরোধে কানাডীয় বিমানের স্বীকৃতি বাতিলের হুমকি ট্রাম্পের গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই: তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর নারী সমাবেশ স্থগিত বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া: পশ্চিমবঙ্গকে জমি ছাড়ার আদেশ আদালতের শেরপুরের ঘটনায় ওসি-ইউএনও প্রত্যাহার আমের জন্য হিমাগার হবে: রাজশাহীতে তারেক আগে একাত্তর নিয়ে মাফ চান, পরে ভোট চান: মির্জা ফখরুল তারা কেন আগে থেকেই লাঠিসোঁটা জড়ো করল: শেরপুরের সংঘাত নিয়ে বিএনপি হাদি হত্যা: ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ নির্বাচন: রিটার্ন জমার সময় বাড়ল আরও এক মাস শেরপুরের ঘটনায় উদ্বেগ, সংযমের আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যু: থমথমে ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী জামায়াতের আমিরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা ভোটের পোস্টার মুদ্রণ নয়: ছাপাখানাকে ইসি সোনা-রুপার দামে টানা রেকর্ড, ভরিতে বাড়ল ১৬ হাজার

আন্তর্জাতিক

গালফস্ট্রিম বিরোধে কানাডীয় বিমানের স্বীকৃতি বাতিলের হুমকি

 প্রকাশিত: ১৩:৪৭, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

গালফস্ট্রিম বিরোধে কানাডীয় বিমানের স্বীকৃতি বাতিলের হুমকি

গালফস্ট্রিম ব্যবসায়িক জেটকে অনুমোদন না দেওয়ার জেরে, কানাডায় তৈরি সব বিমানের যুক্তরাষ্ট্রে সনদ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কানাডা ‘ভুল, অবৈধ ও ধারাবাহিকভাবে’ গালফস্ট্রিমের নতুন মডেলগুলোর সনদ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ সব মডেলের মধ্যে রয়েছে গালফস্ট্রিম ৫০০, ৬০০, ৭০০ ও ৮০০।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘গালফস্ট্রিম— একটি মহান আমেরিকান কোম্পানি— যথাযথভাবে বহু বছর আগেই এর স্বীকৃতি পাওয়ার কথা ছিল, তা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কানাডায় তৈরি বম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল এক্সপ্রেসসহ কানাডার সব বিমানের সনদ বাতিল করছি।’

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া কানাডার সব বিমানের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন তিনি।

তবে ট্রাম্প কী প্রক্রিয়ায় একতরফাভাবে বিমানগুলোর সনদ বাতিল করতে পারেন বা এই বাতিলের বাস্তব রূপ কী হবে— তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন মন্ত্রণালয় (ডিওটি) ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বিষয়টি হোয়াইট হাউসের দিকে পাঠায়। 

তবে এএফপি’র মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

—‘উল্লেখযোগ্য প্রভাবের আশঙ্কা’—

কানাডার কুইবেকভিত্তিক বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বম্বার্ডিয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের ওই পোস্টের বিষয়টি ‘নোট করেছে’ এবং এ বিষয়ে কানাডা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ‘কানাডায় তৈরি হাজার হাজার ব্যক্তিগত ও বেসামরিক জেট প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উড়ছে। বিমান চলাচল ও যাত্রীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব এড়াতে আমরা আশা করছি, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।’

গ্লোবাল এক্সপ্রেস একটি ব্যবসায়িক জেট হলেও, কানাডায় তৈরি ‘সব’ বিমানের সনদ বাতিলের ট্রাম্পের হুমকির আওতায় সিআরজে আঞ্চলিক জেট ও এয়ারবাস এ২২০-ও পড়তে পারে। 

এ সব বিমান যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় এয়ারলাইন স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইটে ব্যবহার করে।

এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের প্রতিবেশী কানাডার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মৌখিক ও বাণিজ্যিক আক্রমণের সর্বশেষ উদাহরণ।

এর আগে সপ্তাহের শুরুতে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীন সফর করে কয়েকটি অর্থনৈতিক চুক্তি সই করার পর, কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। 

কার্নি হুমকিটিকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন। 

তিনি বলেন, আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির পর্যালোচনার প্রেক্ষাপটে এ সব মন্তব্য দেখা উচিত।
ট্রাম্পের খাতভিত্তিক শুল্কে কানাডা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। 

বিশেষ করে গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম খাত সবচেয়ে বেশি চাপে আছে। 

তবে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশের বেশি শুল্কমুক্ত রয়েছে।

জাস্টিন ট্রুডোর তুলনায় ট্রাম্পের সঙ্গে কার্নির সম্পর্ক ছিল তুলনামূলক ভালো। 

ট্রাম্প প্রায়ই ট্রুডোকে ‘গভর্নর’ বলে কটাক্ষ করতেন এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক দিনে কার্নি ও ট্রাম্পের সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দেয়।

গত সপ্তাহে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। 

ওই বক্তব্যে বিরল এক স্থায়ী করতালি পান তিনি এবং তা বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়।

এর জবাবে দাভোসে নিজের ভাষণে ট্রাম্প কার্নিকে ‘কথা বুঝে বলার’ পরামর্শ দেন। 

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে।’ 

পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আবারও কার্নিকে ‘গভর্নর’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।