আমের জন্য হিমাগার হবে: রাজশাহীতে তারেক
চাষিদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে আমের জন্য হিমাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “এই যে এখানে আম বাগান, আমাদের এই যে চাঁপাই শহর, রাজশাহীর যে আম বাগান— আমাদের এখানে আমকে সংরক্ষণ করার জন্য কোনো হিমগার নেই।
“আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে একটি আছে, কীভাবে আমকে সংরক্ষণ করা যায়, আরও বেশি কিছুদিন রাখা যায়; সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা আমের জন্য হিমগার তৈরি করতে চাই এই এলাকায়।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর মাদ্রসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “যদি আপনাদের সমর্থন থাকে, আরেকটি কাজ করতে চাই ধানের শীষ সরকার গঠন করলে ইনশাআল্লাহ। আমরা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজে হাত দিতে চাই।
“পদ্মা ব্যারেজ যদি ইনশাআল্লাহ আমরা তৈরি করতে পারি, পুরা এই এলাকার মানুষের উপকার হবে—রাজশাহীসহ নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সবাই। ইনশাআল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজের কাজে হাত দিব।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “কতগুলো পুরনো পরিকল্পনা, যেগুলোকে আমরা নতুন করে চালু করব—শহীদ জিয়ার সেই খাল খনন কর্মসূচি। সাথে আমরা পদ্মা ব্যারেজের কাজেও ইনশাআল্লাহ হাত দিব যত দ্রুত সম্ভব।
“কিন্তু তার জন্য আপনাদেরসহ এই পুরো অঞ্চলের উত্তর অঞ্চলের প্রতিটি মানুষকে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। কারণ এই বরেন্দ্র প্রকল্পের সুবিধা রাজশাহী থেকে শুরু করে সেই ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষকরা সুবিধা পেয়ে থাকে, পায় না? সেই পর্যন্ত চলে গিয়েছে এ প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা।”
তারেক রহমান বলেন, “এই যে বরেন্দ্র প্রকল্প, যেটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন, এই বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার পরেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দেশ খাদ্যে দ্বিগুণ উৎপাদন করে, দ্বিগুণ খাদ্য উৎপাদন করে। এখন সেই বরেন্দ্র প্রকল্প প্রায় আজ বন্ধ বন্ধ অবস্থায়।
“…কিন্তু বিগত ১৬ বছর আমরা দেখেছি যে, এটাতে কোনো কাজই হয় নাই। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই বরেন্দ্র প্রকল্প সবচেয়ে বড় প্রকল্প ছিল, যাদের নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় ১০০০ কোটি টাকা। কিন্তু সেই বরেন্দ্র প্রকল্পকে ধামাচাপা রেখে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা এই বরেন্দ্র প্রকল্পকে চালু করতে চাই সঠিকভাবে আবার। এই এলাকার খালগুলোকে আমরা খনন করতে চাই, পদ্মা নদীকে আমরা খনন করতে চাই।”
১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ
বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “কৃষক যদি আজকে ভালো থাকে, তাহলে অবশ্যই দেশের মানুষ ভালো থাকবে। কৃষক যদি আজকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, তাহলে দেশের মানুষও সহজেই কৃষি উৎপাদিত যে সকল পণ্য আছে—সেগুলো তারা সহজেই তাদের ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করতে পারবে।
“এবং সেজন্যই কৃষক ভাইদেরকে সহযোগিতা করার জন্য আমরা ঠিক ফ্যামিলি কার্ড যেমন মায়েদের হাতে পৌঁছে দিতে চাই, কৃষক ভাইদের জন্য আমরা কৃষি কার্ড একটি পৌঁছে দিতে চাই। প্রত্যেক কৃষক ভাইদের কাছে যার (কার্ডের) মাধ্যমে তারা ব্যাংকের ঋণসহ যার মাধ্যমে তারা সরকারের পক্ষ থেকে কীটনাশক ঔষধ, বীজ সহ সার সহ এই সুবিধাগুলো সরাসরি আমরা কৃষক ভাইদের হাতে পৌঁছে দিতে চাই।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা হিসাব-নিকাশ করে দেখেছি এবং তারপরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত যাদের কৃষি ঋণ এই মুহূর্ত পর্যন্ত আছে, ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করব ইনশাআল্লাহ।”
বিএনপি নেতা তারেক রহমান রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে ধানের শীষ ভোট চান। তারা হলেন— শরীফ উদ্দীন (রাজশাহী-১), মিজানুর রহমান মিনু (রাজশাহী-২), মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন (রাজশাহী-৩), ডি এম ডি জিয়াউর রহমান (রাজশাহী-৪), নজরুল ইসলাম, আবু সাইদ চাঁদ (রাজশাহী-৫); শাহ্জাহান মিঞা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১), আমিনুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২), হারুনুর রশীদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩); ফারজানা শারমীন (নাটোর-১), এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু (নাটোর-২), আনোয়ারুল ইসলাম (নাটোর-৩) ও আব্দুল আজিজ (নাটোর-৪)।
মাদ্রাসা মাঠের সমাবেশ শেষ করে তারেক রহমান সড়ক পথে যাবেন নওগাঁতে। বিকাল সাড়ে ৫টায় শহরের এটিম মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাত সাড়ে ৭টায় বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান উত্তরাঞ্চলের তিন দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন শুক্রবার যাবেন রংপুর। পীরগঞ্জে আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর সেদিন বিকালে রংপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
এরপর শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্প পার্কে এবং বিকালে টাঙ্গাইলের চরজানা বাইপাস এলাকায় তার নির্বাচনি জনসভা রয়েছে। এ সফর কালে বিএনপি চেয়ারম্যান দুইদিন বগুড়ায় হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করবেন।
সিলেটে হযরত শাহ জালাল (র.) ও হযরত শাহ পরাণ (র.) মাজার জিয়ারতের পর গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। সেদিন সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়নগঞ্জে ৭টি সমাবেশ করেন তিনি।
এরপর গত রোববার চট্টগ্রাম থেকে দ্বিতীয় পর্বের প্রচারাভিযান চালান বিএনপি চেয়ারম্যান। সেদিন চট্টগ্রামসহ ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান।
একদিন বাদে মঙ্গলবার ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে বিভাগীয় জনসভা করেন তিনি। তারেক রহমান সেদিন গাজীপুর ও ঢাকার উত্তরায় আরও দুটি সমাবেশে বক্তৃতা করেন।