বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৬ ১৪৩২, ১০ শা'বান ১৪৪৭

রাজনীতি

শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যু: থমথমে ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী

 প্রকাশিত: ১৩:২৫, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যু: থমথমে ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী

শেরপুরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এর আগে বুধবার বেলা ৩টার দিকে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে’ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডায় জড়ান; এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অনুষ্ঠানটি ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রেজাউলের মরদেহ বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। জানাজার বিষয়ে দলীয়ভাবে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুজন এখনও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন ভর্তি আছেন। অন্য আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে শেরপুর-৩ আসনের ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বুধবার রাতে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে শেরপুর জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গেটে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, “হামলাটি শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।

ঝিনাইগাতির বাসিন্দা হারুনুর রশিদ দুদু ও তৌহিদুর রহমান বলছিলেন, ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

এদিকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি ও জামায়াতের আহত নেতাকর্মীরা একে অপরকে দায়ী করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি। মামলা হলে আইনহত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।