শেরপুরের ঘটনায় উদ্বেগ, সংযমের আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের
শেরপুরে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বৃহস্পতিবার সরকারপ্রধানের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সহিংসতায় যে কোনো প্রাণহানি “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং গভীরভাবে দুঃখজনক।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আর মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে। এ অবস্থায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ সকল রাজনৈতিক দলকে “দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন এবং সমর্থকদের সংযম নিশ্চিত করার” আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, “একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণহানির কোনো স্থান নেই।”
বুধবার রাতে শেরপুরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতকর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। তাতে গুরুতর আহত হন জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলার সেক্রেটারি রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রেজাউল ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন। তার মৃত্যুর জন্য বিএনপিকে দায়ী করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছে জামায়াত।
অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, শেরপুরের ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।
সব রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনি প্রচারে যুক্ত ব্যক্তিদের শান্তি বজায় রেখে, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার “একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন” নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর দেশের ভবিষ্যৎ “সকল পক্ষের সংযম, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক আচরণের ওপর” নির্ভরশীল।