গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই: তারেক রহমান
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নওগাঁয় নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেছেন, “গত ১৬ বছর আপনাদের এলাকার কোনো উন্নতি হয় নাই। গত ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় নাই। গত ১৬ বছর বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন হয় নাই।
“হ্যাঁ, ঢাকা শহরসহ কয়েকটি শহরে কিছু কিছু বড় বড় ফ্লাইওভার হয়েছে, কিছু কিছু বড় বড় দালান হয়েছে…। মেগা প্রজেক্ট হয়েছে, কিন্তু মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি হয়েছে।
“আমরা চাই গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে; আমরা চাই জেলা শহরের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে; আমরা চাই উপজেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে; আমরা চাই আমাদের ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়া সুনিশ্চিত করতে।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিএনপি নেতা তারেক।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রার্থীরা যখন বিভিন্ন দাবি দাওয়া দিচ্ছিল, তার মধ্যে আরেকটি দাবি দাওয়া ছিল যে—এখানকার মানুষের চিকিৎসার খুব সমস্যা হয়। এই সমস্যা আমি দেখলাম শুধু নওগাঁ জেলায় নয়, আমিতো ভাই প্রায় ১৭ বছর দেশে ছিলাম না। এখন যখন আসলাম, দেখলাম চারিদিকে—শুধু সমস্যা আর সমস্যা।
“সেজন্যই আপনাদের কাছে জিজ্ঞেস করলাম— ভাই ১৭ বছর কি কোনো কামকাজ হয় নাই? তাইতো দেখলাম, এখন কিছুই হয় নাই। যেখানে যাই, শুধু এইটা করতে হবে, ওইটা করতে হবে।”
তারেক রহমান বলেন, “আমরা চাই আমাদের নারীদেরকে স্বাবলম্বী করতে, মা বোনদেরকে স্বাবলম্বী করতে। আমরা চাই আমাদের বেকার যুবক ভাই যারা আছে, তরুণ ভাই যারা আছে, বোনেরা যারা আছে—তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে।
“আমরা চাই, দেশের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করতে—যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করবে, নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে, রাতে নিরাপদে ঘরে যাতে ঘুমাতে পারে। আমরা সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই ইনশাআল্লাহ।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন প্রথমবার সরকার গঠন করলেন, তখন উনি ৫০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন সব উনি মওকুফ করে দিয়েছিলেন…আজকে সকালেই আমি রাজশাহীতে ঘোষণা দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে এখন এই মুহূর্তে যে সকল কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে, আমরা সেই ঋণ সুদসহ পুরাটা মওকুফ করব ইনশাআল্লাহ।”
তারেক রহমান বলেন, “সারা বাংলাদেশের সকল কৃষক ভাইদের কাছে আমরা একটি কার্ড দিব, ‘কৃষক কার্ড’ নাম। এ কার্ডটির নাম ‘কৃষক কার্ড’ শুনছেন এর মধ্যে? এটি আমরা ধীরে ধীরে, একবারে তো পারব না—ধীরে ধীরে আমাদেরকে যেতে হবে; কিন্তু সব রকম প্রান্তিক কৃষক বলেন, ক্ষুদ্র কৃষক বলেন, মাঝারি কৃষক বলেন, বৃহত্তর কৃষক বলেন—সব কৃষক ভাইদের হাতে আমরা আস্তে আস্তে এই কৃষি কার্ডটা পৌঁছে দিব।”
তিনি বলেন, “মায়েদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড নামে একটি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই এবং এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এটি দলমত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাই পাবে।
“একজন কৃষকের স্ত্রী পাবে, একজন ইমাম সাহেবের স্ত্রী পাবে, একজন ভ্যান চালকের স্ত্রী পাবে, একজন স্কুল মাস্টার- প্রাইমারি স্কুল মাস্টার হোক হেডমাস্টার সাহেব হোক—উনার স্ত্রীও পাবে অর্থাৎ সব ধরনের মানুষ পাবে। খেটে খাওয়া মানুষসহ সবাই এটা পাবে, কোনো দলমত থাকবে না—এটা সবাই পাবে।”
‘ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি’
দেশে এখনো ভোটের ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “একটি দলের ষড়যন্ত্র, ওই ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। একটা পক্ষ তো পালিয়ে গিয়েছে দেশ থেকে। কিন্তু আরেকটা পক্ষ আছে যারা…. এই দুই পক্ষ আবার আগে থেকে একসাথেই ছিল। এই দুই পক্ষ কিন্তু বিভিন্ন সময় একসাথেই ছিল, তলে তলে একসাথেই ছিল।
“গত ১৬ বছরেও আপনারা মাঠে ঘাটে কোথাও ওদেরকে পেয়েছেন, আন্দোলন সংগ্রামে তাদেরকে পেয়েছেন ? কোথাও ছিল না। ওই ভেতরে ভেতরে কিন্তু তাদের সাথেই ছিল এরা। এখন এরা আবার ষড়যন্ত্র শুরু করছেবিভিন্ন রকম। এখন আপনাদেরকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে—যাতে ষড়যন্ত্র করে আপনাদের ভোট এদিক-ওদিক না করে। ”
তারেক রহমান বলেন, “ব্যালেট বক্স পাহারা দিতে হবে। ২০০৮ সালে কি হয়েছিল মনে আছে? ২০০৮ সালে কিন্তু ওই যে ম্যাজিক…. এই আছে, এই নাই। একবার খালি বক্স দেখায়, আবার ভরা বক্স দেখাইতেছ; মনে আছে তো? কাজেই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে আপনাদেরকে।”
নওগাঁয় রেললাইন স্থাপন, কৃষি পণ্যের জন্য হিমাগার স্থাপনে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি পূরণে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান নওগাঁ ও জয়পুরহাটের ৮টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে ধানের শীষ ভোট চান। তারা হলেন—মোস্তাফিজুর রহমান (নওগাঁ-১), সামসুজ্জোহা খান (নওগাঁ-২), ফজলে হুদা (নওগাঁ-৩), ইকরামুল বারী টিপু (নওগাঁ-৪), জাহিদুল ইসলাম ধলু (নওগাঁ-৫), শেখ মো. রেজাউল ইসলাম (নওগাঁ-৬); মাসুদ রানা প্রধান (জয়পুরহাট-১) ও আব্দুল বারী (জয়পুরহাট-২)।
নওগাঁ জেলা সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকী নান্নুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনের সঞ্চালনায় দলীয় প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শাহীন শওকত, এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন, এম এ মতিন, মাহবুবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলর নাজমুল হাসানসহ জেলার সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
নওগাঁর সমাবেশ শেষ করে তারেক রহমান নিজের জেলা বগুড়ার পথে রওনা হয়েছেন। রাতে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। এর আগে দুপুরে রাজশাহীতে শাহ মখদুমের (র.) মাজার জিয়ারত করে সেখানকার মাদ্রাসা মাঠে জনসভা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
বিএনপি চেয়ারম্যান উত্তরাঞ্চলের তিন দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন শুক্রবার যাবেন রংপুর। পীরগঞ্জে আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর সেদিন বিকালে রংপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
এরপর শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্প পার্কে এবং বিকালে টাঙ্গাইলের চরজানা বাইপাস এলাকায় তার নির্বাচনি জনসভা রয়েছে। এ সফর কালে বিএনপি চেয়ারম্যান দুইদিন বগুড়ায় হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করবেন।
সিলেটে হযরত শাহ জালাল (র.) ও হযরত শাহ পরাণ (র.) মাজার জিয়ারতের পর গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। সেদিন সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়নগঞ্জে ৭টি সমাবেশ করেন তিনি।
এরপর গত রোববার চট্টগ্রাম থেকে দ্বিতীয় পর্বের প্রচারাভিযান চালান বিএনপি চেয়ারম্যান। সেদিন চট্টগ্রামসহ ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান।
একদিন বাদে মঙ্গলবার ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে বিভাগীয় জনসভা করেন তিনি। তারেক রহমান সেদিন গাজীপুর ও ঢাকার উত্তরায় আরও দুটি সমাবেশে বক্তৃতা করেন।