বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৬ ১৪৩২, ১০ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

আমের জন্য হিমাগার হবে: রাজশাহীতে তারেক আগে একাত্তর নিয়ে মাফ চান, পরে ভোট চান: মির্জা ফখরুল তারা কেন আগে থেকেই লাঠিসোঁটা জড়ো করল: শেরপুরের সংঘাত নিয়ে বিএনপি হাদি হত্যা: ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ নির্বাচন: রিটার্ন জমার সময় বাড়ল আরও এক মাস শেরপুরের ঘটনায় উদ্বেগ, সংযমের আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যু: থমথমে ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী জামায়াতের আমিরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা ভোটের পোস্টার মুদ্রণ নয়: ছাপাখানাকে ইসি সোনা-রুপার দামে টানা রেকর্ড, ভরিতে বাড়ল ১৬ হাজার

রাজনীতি

তারা কেন আগে থেকেই লাঠিসোঁটা জড়ো করল: শেরপুরের সংঘাত নিয়ে বিএনপি

 প্রকাশিত: ১৫:৫৩, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

তারা কেন আগে থেকেই লাঠিসোঁটা জড়ো করল: শেরপুরের সংঘাত নিয়ে বিএনপি

শেরপুরে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি।

দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, “আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি, যেখানে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতের যিনি প্রার্থী রয়েছেন; তাকে বারবার পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও হাত জোড় করে সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি ওই রাস্তা দিয়ে না যান।

“এই সংঘাত কি এড়ানো যেত না? নির্ধারিত সময়ের আগে জামায়াতের নেতাকর্মীরা কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল? তারা কেন সেখানে আগে থেকেই লাঠিসোঁটা জড়ো করল? সবার সম্মিলিত অনুরোধ উপেক্ষা করে দলটির প্রার্থী কেন সংঘাতের পথ বেছে নিলেন, এসব বিষয় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।”

বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচনের পরিচালনা অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বুধবার রাতে শেরপুরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। তাতে গুরুতর আহত হন জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলার সেক্রেটারি রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মাহদী আমিন বলেন, “শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে সব প্রার্থীদের অংশগ্রহণে গতকাল নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে প্রত্যেকটি দলের জন্য বসার আসন নির্ধারিত ছিল।

“জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীবৃন্দ সব আসন তথা চেয়ার দখল করে রেখেছিলেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের তাদের নির্ধারিত আসনে বসতে দিচ্ছিলেন না। প্রশাসন বারবার আহ্বান জানানোর পরেও তারা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।”

তিনি বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেরপুরে যে সহিংসতা ও সংঘাত আমরা দেখেছি, সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

“গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের সবার প্রত্যাশা ছিল এমন একটি নির্বাচন, যেখানে পরিবেশ হবে উৎসবমুখর; সংঘাতময় নয়।”

এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, “আমাদের একটি বড় লক্ষ্য হলো—নির্বাচন যেন বিতর্কমুক্ত থাকে, নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ থাকে এবং নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যেন কোনো সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে।”

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, “তার পরও শেরপুরে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত।

“কীভাবে সংঘাত শুরু হলো, কারা সেখানে মদদ দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন কেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পারল না, এসব বিষয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন জাগছে।”

শেরপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন দেশের কোথাও না ঘটে, সেজন্য পদক্ষেপ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।