ইরান তেল রপ্তানিতে বাধা দিলে ‘২০ গুণ কঠোর’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে "এক লিটার তেলও" রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস।
মঙ্গলবার তেহরানের এই হুমকির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করলে ইরানে আরও ২০ গুণ কঠোর হামলা চালানো হবে।
গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে এবং তার নির্ধারিত চার সপ্তাহ সময়সীমার আগেই এই সংঘাত শেষ হবে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মুজতাবা খামেনির নিযুক্তির মাধ্যমে তেহরান তাদের অনমনীয় অবস্থানের জানান দিলেও, ট্রাম্পের ‘দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার’ আশ্বাসে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন এবং শেয়ার বাজারে চাঞ্চল্য দেখা গেছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল বাধাগ্রস্ত করলে মার্কিন হামলা তীব্রতর হবে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। ট্রাম্প সোমবার সন্ধ্যায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি তেল প্রবাহ সচল রাখার জন্য যথেষ্ট।
তবে তিনি ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে হুমকি দিয়ে বলেন, “ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করতে কিছু করে, তবে তাদের ওপর এ যাবৎকালের চেয়ে ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।”
অন্যদিকে, রেভল্যুশনারি গার্ডসের মুখপাত্র ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বাজে কথা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, “আমরাই নির্ধারণ করব এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নেই।
পিবিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী আলোচনার ‘তিক্ত অভিজ্ঞতা’ থেকে তারা বুঝতে পেরেছেন যে ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস করা যায় না।
আরাকচি বলেন, “তিন দফা আলোচনার পর আমেরিকান প্রতিনিধিরাই বলেছিলেন, আমরা অনেক অগ্রগতি করেছি। তবুও তারা আমাদের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নিল। তাই আমেরিকানদের সঙ্গে কথা বলা এখন আমাদের এজেন্ডায় নেই।”
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত ১,৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার তেহরানের একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রস আধানম গ্যাব্রিয়াসুস সতর্ক করেছেন যে, এই আগুনের ফলে খাদ্য, পানি এবং বাতাস দূষিত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল থাকায় তেল উত্তোলন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল। তবে সোমবার ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৯ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন এবং ৬৭ শতাংশ মানুষ মনে করছেন সামনে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়বে।