মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬, আষাঢ় ২ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক

ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি

 প্রকাশিত: ১৩:৫৭, ১৬ জুন ২০২৬

ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি

মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তারের পর দেশে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক পুলিশিং সংস্থা ইন্টারপোল। সংস্থাটির রেড নোটিশের ভিত্তিতে বেনজীরকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ।

এই প্রেক্ষাপটে জনমনে কৌতূহল জেগেছে, বেনজীরের মতো এমন আর কোন বাংলাদেশি আসামির নামে রেড নোটিশ আছে। ওয়ান্টেড আসামির তালিকায় থাকা আসামির সংখ্যাই বা কত? 

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ‘ওয়ান্টেড’ আসামি হিসেবে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে সারা বিশ্বের ৬ হাজার ৪৪২ জনের তালিকা রয়েছে।

এর মধ্যে ৫৯ জন রয়েছেন বাংলাদেশি। অবশ্য রেড নোটিশভুক্ত আসামির সংখ্যা আরও বেশি।

ইন্টারপোল সব রেড নোটিশভুক্ত আসামির নাম ওয়ান্টেড তালিকায় প্রকাশ করে না। তবে জারি করা রেড নোটিশ সংস্থার সদস্যভুক্ত প্রায় সব দেশের নিরাপত্তা সংস্থার নেটওয়ার্কে থাকে।

তেমনি বেনজীরের নামে রেড নোটিশ জারি হলেও তা ওয়ান্টেড তালিকায় প্রকাশ করা হয়নি, যাতে আসামি গা-ঢাকা না দিতে পারে।

উল্লিখিত ৫৯ জনকে দেশে-বিদেশে অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ খুঁজছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বেলজিয়াম উল্লেখযোগ্য।

বিদেশি রাষ্ট্র যেসব বাংলাদেশির সন্ধান চেয়েছে তাদের মধ্যে চাঁদপুর সদরের রাজু ঢালীকে খুনের অভিযোগের মামলায় খুঁজছে সিঙ্গাপুর। আফ্রিকার দেশ ইসওয়াতানি খুনের অভিযোগে খুঁজছে ঢাকার মো. মিলন ও লিটন ব্যাপারীকে। খুনের অভিযোগে নোয়াখালীর মিজান মিয়াকে খুঁজছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

মুদ্রা জালিয়াতির অভিযোগে খুলনার আজিজুর রহমান, অজয় বিশ্বাস ও তরিকুল ইসলাম, নোয়াখালীর সবুজ, গোপালগঞ্জের আব্দুল আলীম শরীফ, নারায়ণগঞ্জের মনির ভূঁইয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শফিক উলকে খুঁজছে ভারত। 
ইউরোপের দেশ বেলজিয়াম খুনের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের খোরশেদ আলমকে খুঁজছে।

চোরাচালানির অভিযোগে নাটোরের সিরাজ মোস্তফাকে এবং খুনের অভিযোগে ফেনীর আলা উদ্দিনকে খুঁজছে মালয়েশিয়া। তছরুপের অভিযোগে হানিফকে খুঁজকে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপ। 

যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম ও অস্ত্র মামলায় ফজলুল আমীন জাভেদকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশ যাদের খুঁজছে তাদের মধ্যে আছেন-
হত্যার অভিযোগের মামলায় বাগেরহাটের রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ তাজউদ্দীন ও বাবু আহমেদ রাতুল, চট্টগ্রামের ইউসুফ ও সাজ্জাদ হোসেন খান, ফরিদপুরের নাইম খান ইকরাম, বগুড়ার কালা জাহাঙ্গীর ফেরদৌস, গাজীপুরের নুরুল দীপু ও আহাম্মেদ মজনু, কুমিল্লার খন্দকার আব্দুর রশীদ ও রাশেদ চৌধুরী, ঢাকার নুর চৌধুরী, নবী হোসাইন, জিসান আহমেদ, তৌফিক আলম, প্রকাশ কুমার, জাফর আহমেদ, সালাউদ্দিন মিন্টু, নাজমুল আনসার, শরীফুল হক ডালিম, খুলনার শরীফুল হোসাইন, চট্টগ্রামের আমিনুর রসুল, নেত্রকোনার আব্দুল জাব্বার, বরিশালের গোলাম ফারুক অভি, মুন্সীগঞ্জের রফিকুল ইসলাম, খুলনার হারুন শেখ, নরসিংদীর মোসলেম উদ্দিন খান এবং গাইবান্ধার চন্দন কুমার রায়। 

মানবপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ খুঁজছে কিশোরগঞ্জের জাফর ইকবাল, স্বপন, মিন্টু মিয়া ও তানজীরুল, মাদারীপুরের মোল্লা নজরুল ইসলামকে। 

পর্নোগ্রাফির অভিযোগে টাঙ্গাইলের ওয়াসিম, অস্ত্র মামলায় গিয়াস উদ্দিন, নির্যাতনের মামলায় চট্টগ্রামের অশোক কুমার দাশ, জালিয়াতির অভিযোগে জামালপুরের আমানুল্লাহ শফিক ও আতাউর রহমানকে খুঁজছে বাংলাদেশ সরকার। 

এ ছাড়া হত্যা মামলায় অভিযুক্ত জাহিদ হোসেন খোকন, সৈয়দ মো. হাছান আলী, আবুল কালাম আজাদ ও সৈয়দ মো. হোসেনকেও খুঁজছে বাংলাদেশ সরকার। 

১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারপোল বা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশনের সদস্য বিশ্বের ১৯৬টি দেশ। আন্তর্জাতিক এই সংস্থা বিশ্বকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞদের একটি নেটওয়ার্কে সংযুক্ত ও সমন্বয় করে। 

যদি একটি দেশের আসামি সেখানে অপরাধ করার পর অন্য দেশে চলে যায়, তখন সেই আসামিকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা লাগে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশকে সন্দেহভাজন অপরাধীর যাবতীয় তথ্য দিয়ে রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন করতে হয়।

ইন্টারপোল সদরদপ্তরে আবেদনের পর ওই অভিযুক্তের অপরাধবিষয়ক যাবতীয় কাগজপত্র, মামলার অনুলিপি ইত্যাদি সংগ্রহ করে ইন্টারপোলের কাছে দিতে হয়। ইন্টারপোল সেই কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।