সোমবার ১৫ জুন ২০২৬, আষাঢ় ১ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক

‘ইরানের পরমাণু অস্ত্র থাকলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকতো না’

 প্রকাশিত: ১৪:১৬, ১৫ জুন ২০২৬

‘ইরানের পরমাণু অস্ত্র থাকলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকতো না’

ইরানের হাতে যদি পরমাণু অস্ত্র থাকতো, তাহলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারতো না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একইসঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ-অসন্তোষ প্রকাশ করে তাকে ‘খুবই কঠিন মানুষ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবন্ধে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার জন্য নেতানিয়াহুর কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে অবাধ নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।

একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আপত্তি সত্ত্বেও তিনি দেশটিকে ‘পারমাণবিক ধ্বংসের’ হাত থেকে রক্ষা করেছেন।

হোয়াইট হাউস থেকে প্রায় ২৮ মিনিটের ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, ইরান চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তিনি আবারও সামরিক অভিযান শুরু করবেন।

তার নীতি-নির্ধারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে শুরু হতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে তার সামরিক পদক্ষেপ এবং পরবর্তীতে তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর ইরানি বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত বাস্তবতাকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বদলে দিয়েছে।

ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তারা হয় সমঝোতা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন, নয়তো অন্তত অবরোধে হস্তক্ষেপ করেননি।

শি জিনপিং সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “তিনি নিরেট ভদ্রলোক। তিনি কোনো ট্যাংকার পাঠাননি, যার দুই পাশে ২০টি করে ডেস্ট্রয়ার থাকবে, অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করার জন্য। এমন কিছু হলে চীনা ও মার্কিন নৌবাহিনী সম্ভাব্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারত।”

তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, নেতানিয়াহুর পদক্ষেপ চূড়ান্ত সমঝোতাকে প্রায় ভেস্তে দেওয়ার উপক্রম করেছিল।

নেতানিয়াহু সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “তিনি খুবই কঠিন একজন মানুষ। এবং সত্যি বলতে কী, এ কাজের জন্য তার আমাদের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ইরানের যদি একটি পরমাণু অস্ত্র থাকত, তাহলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকত না।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক ব্যবস্থা নেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করবে।