বিশ্বকাপ ২০২৬ : ৪৮ দল সর্ম্পকে যা জানা দরকার (দ্বিতীয় ৪টি গ্রুপ)
বিশ^কাপে গ্রুপ ভিত্তিক দলগুলোর অবস্থান সম্পর্কে এখানে জানানো হলো :
গ্রুপ-ই : জার্মানী, কুরাসাও, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর
টানা দুটি হতাশাজনক বিশ্বকাপের পর কোচ জুলিয়ান নাগলেসম্যানের জার্মানী দলের জন্য কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানো প্রায় বাধ্যতামূলক লক্ষ্য। এর চেয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে সেটি হবে বাড়তি সাফল্য। তবে গ্রুপ ‘ই’-তে ‘ডি মানশাফট’-এর জন্য পথ মোটেও সহজ হবে না।
উইলিয়ান পাচো, পিয়েরো হিনকেপি ও মোয়েসেস কেইসেডোকে নিয়ে ইকুয়েডরের এমন একটি রক্ষণভাগ রযয়ছে, যার সঙ্গে খুব কম জাতীয় দলই পাল্লা দিতে পারে। এই শক্তিশালী ডিফেন্সিভ ভিত্তির ওপর ভর করে ইকুয়েডর নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এবং এমনকি কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানোর লক্ষ্য স্থির করতে পারে।
এরপর আছে আইভরি কোস্ট, যাদের দলে আক্রমণভাগে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে আফ্রিকান নেশন্স কাপে তারা অনেকদুর পর্যন্ত যাওয়ার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছে। কোচ এমার্স ফায়ের জন্য নকআউট পর্বে উঠতে না পারা বিশাল ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ তার হাতে আরও এগিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে।
গ্রুপের তুলনামূলক দুর্বল দল কুরাসাও কেবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেই সন্তুষ্ট থাকবে না। অভিজ্ঞ কোচ ডিক এ্যাডভোকাটের নেতৃত্বে তারা প্রতিপক্ষদের কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইবে। পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম গোল করে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্নও দেখছে।
সূচী :
১৪ জুন : জার্মানী বনাম কুরাসাও, আইভরি কোস্ট বনাম ইকুয়েডর
২০ জুন : জার্মানী বনাম আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর বনাম কুরাসাও
২৫ জুন : ইকুয়েডর বনাম জার্মান, কুরাসাও বনাম আইভরি কোস্ট
গ্রুপ-এফ : নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন, তিউনিশিয়া
আরেকটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতাতাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ গ্রুপে তিনটি দলই যথার্থভাবেই দাবি করতে পারে যে কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানো তাদের সামর্থের মধ্যেই রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের ফুটবল ফেডারেশন আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ঘোষণা করেছে যে তাদের লক্ষ্য সেমিফাইনালে পৌঁছানো। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোচ রোনাল্ড কোম্যানও একই লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এশিয়ার অন্যতম শক্তিধর দল জাপানও বেশ আত্মবিশ্বাসী। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়, এবং তারা মনে করে না যে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবে যে দলটি কখনও শেষ ষোলো পেরোতে পারেনি, তাদের জন্য বাস্তবতা হবে অন্তত কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানো। বিশেষ করে বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত ফরম্যাটে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোট কাটিয়ে উঠতে পারলে ‘সামুরাই ব্লুদের জন্য সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
অন্যদিকে সুইডেন আক্রমণভাগে আলেক্সান্দার ইসাক ও ভিক্টও গায়োকেরেসের মতো তারকাদের ওপর নির্ভর করতে পারবে। তারা যদি রক্ষণভাগকে শক্তভাবে সংগঠিত রাখতে পারে তাহলে কয়েকটি দলকে চমকে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে।
তিউনিশিয়া সাধারণত সুসংগঠিত এমন একটি দল যাদের হারানো কঠিন। তবে সাম্প্রতিক আফ্রিকান নেশন্স কাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর তাদের জন্য গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাওয়াটাই উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূচী :
১৪ জুন : নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান, সুইডেন বনাম তিউনিশিয়া
২০ জুন : নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন, তিউনিশিয়া বনাম জাপান
২৫ জুন : জাপান বনাম সুইডেন, তিউনিশিয়া বনাম নেদারল্যান্ডস
গ্রুপ-জি : বেলজিয়াম, মিশর, ইরান, নিউজিল্যান্ড
বেলজিয়ামকে এখন আর আগের মতো বড় টুর্নামেন্টের শীর্ষ ফেবারিটদের মধ্যে ধরা হয় না। তবে অভিজ্ঞ তারকা কেভিন ডি ব্রুইনা, থিবো কুর্তোয়া, রোমেলু লুকাকুর উপস্থিতি, সঙ্গে উদীয়মান উইঙ্গার জেরেমি ডকুর প্রতিভা মিলিযয়ে শেষ ষোলোতে পৌঁছাতে না পারা তাদের জন্য ব্যর্থতা হিসেবেই গণ্য হবে।
বেলজিয়াম তাদের অভিযান শুররু করবে মিশরের বিপক্ষে। মোহাম্মদ সালাহ দলে থাকলেও মিশরকে তুলনামূলক সীমাবদ্ধ দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করলেও শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা থাকায় তারা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারে।
ইরানও তাদের আগের ছয়টি বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের কোনোটিতেই গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করতে পারেনি, যদিও সর্বশেষ দুটি আসরে তারা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কাগজে-কলমে নকআউট পর্বে ওঠাই তাদের ন্যূনতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে তাদের অনুশীলন ঘাঁটি শেষ মুহূর্তে স্থানান্তর হওয়ায় অতিরিক্ত একটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তারা।
বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৪৮-এ বাড়ানো এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের জন্য সরাসরি একটি পূর্ণ কোয়ালিফিকেশন স্থান বরাদ্দ হওয়ায় নিউজিল্যান্ড এখন নিয়মিত বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকারী হয়ে ওঠার পথে। ২০২৬ সালে তারা নকআউট পর্বে ওঠার জন্য লড়াই করতে চাইবে, যাতে ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করা যায়।
সূচি :
১৫ জুন : বেলজিয়াম বনাম মিশর, নিউজিল্যান্ড বনাম ইরান
২১ জুন : বেলজিয়াম বনাম ইরান, নিউজিল্যান্ড বনাম মিশর
২৬ জুন : মিশর বনাম ইরান, নিউজিল্যান্ড বনাম বেলজিয়াম
গ্রুপ-এইচ : স্পেন, কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে
স্পেনের এর কাছ থেকে বিশ্বকাপ জয়ের প্রত্যাশা করাই যায়। তবে দুই বছর আগে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দলের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রড্রি কি তার সেরা ছন্দে ফিরতে পারবেন? লামিন ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামস কবে পুরোপুরি খেলতে পারবেন? যদি এসব প্রশ্নের উত্তর ইতিবাচক হয় তাহলে স্পেনই হবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দল।
মার্সেলো বিয়েসলার অধীনে উরুগুয়ের যাত্রা কিছুটা উত্থান-পতনে ভরা ছিল। তবুও তিনি এমন একটি দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন, যাদের উচ্চাকাঙ্খা অনেক বড়। যদিও তিনি এডিনসন কাভানি ও লুইস সুয়ারেজের মতো অভিজ্ঞ তারকাদের ওপর নির্ভর করতে পারবেন না, কারণ দুজনই চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে নেই; তারপরও উরুগুয়ে দলে যথেষ্ট মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে, যা তাদের কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখায়।
সৌদি আরব জানে কীভাবে বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলতে হয়। ২০২২ সালে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে তারা সেটি প্রমাণ করেছিল। তবে এরপর থেকে ‘গ্রিন ফ্যালকনস’ খুব বেশি উন্নতি করতে পারেনি। বিশ^কাপ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগেই তারা কোচও পরিবর্তন করেছে। তাই বড় কোনো অঘটন ঘটানোর সম্ভাবনা কম বলেই মনে হয়। তবুও শেষ ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে জয় পেলে তারা গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দেকে এই কঠিন গ্রুপে স্পষ্টতই আন্ডারডগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য স্মরণীয় একটি মুহূর্ত সৃষ্টি করার বড় সুযোগ হযয়ে উঠতে পারে।
সূচী :
১৫ জুন : স্পেন বনাম কেপা ভার্দে, সৌদি আরব বনাম উরুগুয়ে
২১ জুন : স্পেন বনাম সৌদি আরব, উরুগুয়ে বনাম কেপ ভার্দে
২৬ জুন : কেপ ভার্দে বনাম সৌদি আরব, উরুগুয়ে বনাম স্পেন