সোমবার ১৫ জুন ২০২৬, আষাঢ় ১ ১৪৩৩

ব্রেকিং

অর্থনীতির পুনর্গঠন অন্যতম অগ্রাধিকার: সংসদে মন্ত্রী বাকলিয়ার শিশু ‘ধর্ষণ’: আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ, যুক্তিতর্ক মঙ্গলবার আবু সাঈদ হত্যা: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রসিকিউশনে, ‘প্রয়োজনে আপিল’ বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতির সব নথি গোছাচ্ছে দুদক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা: ভারতীয় দূতকে তলব দিল্লির ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনকও বটে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দিল্লিতে প্রবেশে বাধা: খোঁজ নিচ্ছে ঢাকা কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলির মামলায় রায় ২৮ জুন নারিতা রুটে বিমান ফিরছে আগামী মাসে ফের বাড়লো সোনা-রুপার দাম ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি মানতে ইসরায়েল বাধ্য নয়: বেন-গভির

জাতীয়

বাকলিয়ার শিশু ‘ধর্ষণ’: আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ, যুক্তিতর্ক মঙ্গলবার

 প্রকাশিত: ১৭:৩৬, ১৫ জুন ২০২৬

বাকলিয়ার শিশু ‘ধর্ষণ’: আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ, যুক্তিতর্ক মঙ্গলবার

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের শিশু ‘ধর্ষণের’ মামলার আসামির পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে সোমবার আসামি মনির হোসেন নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেন।

বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালত মামলায় বাদী ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থানের জন্য মঙ্গলবার দিন রেখেছেন বলে ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানিয়েছেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়েছে। শুনানিতে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

“আসামি পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি। কোনো নথিপত্রও উপস্থাপন করা হয়নি। শুনানি শেষে আদালত আগামীকাল যুক্তি তর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন।”

আসামি পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী জি এম জাহেদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসামিকে অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছে। সে আগেও বলেছিল, ঘটনার পর স্থানীয়রা মারধর করে তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নিয়েছিল। আমরা কোন সাফাই সাক্ষী দিইনি।”

এই মামলায় গত বুধবার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে তিন কার্য দিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে রোববার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

মামলার আসামি ৩২ বছর বয়সী মনিরের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। চট্টগ্রামে তিনি থাকতেন নগরীর বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে। চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেটরের দোকানে চাকরি করতেন তিনি।

২১ মে বিকেলে সেখানে সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনিরের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।

পুলিশ মনিরকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধ সাধে। তারা বলে, তারাই ওই যুবকের ‘শাস্তি’ নিশ্চিত করতে চায়।

দুই ঘণ্টা চেষ্টা করেও মনিরকে থানায় নিয়ে যেতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ার শেল ছোড়ে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।

সেদিন শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

সেই মামলায় ২২ মে বিকেলে মনির হোসেনকে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার হলে তিনি ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দেন বলে সে সময় পুলিশের তরফে জানানো হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া সে সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, ঘটনার দিন ওই শিশুটির বাবা ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টেস কারখানায়। সেসময় শিশুটি তার নানির সাথে ছিল।

“এ সুযোগে মনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করেছে। বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

দুই সপ্তাহ তদন্তের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ গত ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখানে আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় মোট ২২ জনকে সাক্ষী করা হয় ।

চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা ৯ জুন আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তার বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।