আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল করে ভুল করিনি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের করে ‘কোনো ভুল কাজ করা হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, অবহেলায় ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটবে আর তাদের কোনো শাস্তি হবে না, তা হতে পারে না।
“প্রথমে আমরা লাইসেন্সটা বাতিল করেছি। আমি মনে করি না কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার সকালে হাম চিকিৎসা-সংক্রান্ত ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “ঈদের মধ্যে বাড়িতে থাকায় তাত্ক্ষণিকভাবে সেখানে যেতে পারিনি। তবে পরে সেখানে গিয়ে দেখি, ওই রুমে কোনো জানালা নেই, একটি মাত্র দরজা। ছয় নবজাতকের সঙ্গে একটি ছোট রুমে ২৫ জনকে রাখা হয়েছে। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেছে। আর বাচ্চারা মারা গেছে।”
হাসপাতালের ‘অবহেলায়’ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সেখানে ওই সময় কোনো ডাক্তার, নার্স ছিল না। যারা ছিল তারাও বাচ্চাদের মায়েদের কথার গুরুত্ব দেয়নি।
কোরবানির ঈদের আগের দিন ২৭ মে সকালে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।
গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সেদিনই বিকালে হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, ৭ জুন বিকাল ৫টার মধ্যে জানাতে বলা হয় নোটিসে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এর পর গেল ১১ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা করা হয়। সোমবার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি
দেশের স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার কথায় কোনো হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অবহেলার কারণে রোগীর মৃত্যু ঘটলে তা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, “দেশে পরিবর্তন আনতে হবে, আর সেই পরিবর্তন আমাদের নিজেদের ভেতর থেকেই শুরু করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা একটি মানবিক ও মহৎ পেশা। রোগীদের প্রতি দায়িত্বশীলতা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতা ছাড়া মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি চিকিৎসকদের রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং মানবিক আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিনিয়োগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।