প্রচারপত্র বিলি ও কুশল বিনিময়ে ডাকসু নির্বাচনের তৃতীয় দিনের প্রচারণা

কলাভবনের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের নির্বাচনী প্রচারণা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা টানা তৃতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবার প্রচারণা চালিয়েছেন। ক্যাম্পাসে প্রচারপত্র বিতরণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরেন এবং নির্বাচিত হলে কী করবেন, তা জানান।
কার্জন হলের সামনে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমাকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল তাদের ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যানার–ফেস্টুন সরিয়ে নেয়। বিধি অনুযায়ী কেবল সাদা–কালো পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ব্যবহার করা যাবে। পিভিসি বা কাপড়ে লেখা ব্যানার–ফেস্টুন টাঙানো নিষিদ্ধ।
প্রার্থীদের অভিযোগ, শুধু লিফলেট দিয়ে প্রচারণা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। যাঁরা আগে থেকেই পরিচিত, তাঁরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।
বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থীরা দুপুর ও বিকেলে প্রচারণা চালান। ভিপি প্রার্থী আবদুল কাদের ও জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচারপত্র বিলি করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে আবু বাকের বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর নানা বিধিনিষেধ এলেও অনেক প্রার্থী তা মানছেন না, অথচ প্রশাসনও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
এদিন ছাত্র ফেডারেশন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেত্রী উমামা ফাতেমার নেতৃত্বাধীন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য, শিবির–সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটসহ বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও প্রচারে দেখা যায়।
সন্ধ্যায় কলাভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট অভিযোগ তোলে, নির্বাচনের দিনে ক্যাম্পাসে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রার্থীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ডাকসু নির্বাচনে মোট আটটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। একজন ভোটার সর্বোচ্চ আট মিনিটে ভোট দিতে পারবেন। চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মো. জসীম উদ্দিন জানান, স্ক্যানিং মেশিনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা থাকবে।
ডাকসুর রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, “ভোটের মাঠ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। যেখানেই অভিযোগ আসছে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”