সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২০ ১৪৩২, ১৪ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এলো ৩৮ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে শৈত্যপ্রবাহ, হতে পারে বজ্র ও শিলাবৃষ্টি বিশ্বকাপে খেলবে পাকিস্তান, বয়কট করবে ভারত ম্যাচ পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বোমা ও বন্দুক হামলা, নিহত ১৯৩ যোগ্যতার ভিত্তিতে নারীরা দেশ গড়ার কাজ পাবেন: জামায়াত আমির সহিংসতার কারণ দলগুলোর ‘নিজেদের ভেতরের সমস্যা’, দাবি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কয়েকজন উপদেষ্টা ‘কূটনৈতিক পাসপোর্ট সারেন্ডার’ করেছেন নারীর ‘পরিচালক’ পুরুষ, তাই শীর্ষ পদ ‘মুখ্য নয়’ জামায়াতের নারীদের কাছে আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ট্রাইব্যুনালে রায় ৫ ফেব্রুয়ারি দুদকের ডাকে সাড়া দেননি উত্তর সিটির এজাজ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাহাউদ্দিন নাছিমের ৩৩ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ‘গলা চেপে ধরার’ হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, দমবন্ধ অবস্থায় কিউবানরা

অর্থনীতি

জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এলো ৩৮ হাজার কোটি টাকা

 প্রকাশিত: ১০:৩৮, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এলো ৩৮ হাজার কোটি টাকা

জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৭ কোটি বা ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৮ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩০ টাকা হিসাবে)। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ৪৫.১০ শতাংশ বেশি। গত বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছিল ২১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সাত মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। এ সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ হাজার ৫৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলার।

জানুয়ারি মাসে এযাবৎকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে।

সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল ২০২৫ সালের মে মাসে ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল একই বছরের ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ৪২ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় বাড়ার ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

অতীতে যারা অর্থ পাচার করেছে, তাদের পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার পাশাপাশি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মিডিয়ার ট্রায়াল শুরু হয়। এর ফলে পাচারকারীরা সামাজিকভাবে অপদস্থ হতে শুরু করে। এতে বার্তা যায়, যেই অর্থ পাচার করুক, একসময় তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। এতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অর্থ পাচার কমে আসে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে হুন্ডির ওপর।

হুন্ডি কারবারিরা আর পাচারকারীদের কাছ থেকে বাড়তি দামে প্রবাসীদের কাছ থেকে ডলার কিনছে না। ফলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈধভাবে টাকা পাঠাচ্ছেন।

এ ছাড়া গত সরকারের শেষ দিকে প্রবাসী আয় বাড়ার জন্য বেশ কিছু বাধা-নিষেধ প্রত্যাহার ও প্রবাসী আয়ের প্রণোদনা বাড়ানো হয়। তখন থেকেই প্রবাসী আয় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তবে তার অব্যবহিত পর দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ঢেউ বিদেশে প্রভাব ফেলে। ফলে সম্ভাবনা তৈরি হলেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর প্রবাসী আয়ে সেই সুফল পাওয়া শুরু হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয় বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যথাক্রমে ২১.৬১ বিলিয়ন ও ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় আসে। পরবর্তী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলারে। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সাত মাসেই এসেছে ১৯.৪৩ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয়।

প্রবাসী আয় সংগ্রহকারী ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান অনুকূল পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারাও অব্যাহত থাকবে।