প্লট ‘দুর্নীতি’: হাসিনার ভাগ্নে-ভাগ্নির ভাগ্য জানার অপেক্ষা
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বোন শেখ রেহানা এবং তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির যে ছয়টি মামলা হয়েছিল, তার মধ্যে বাকি থাকা দুই মামলার রায় জানা যাবে সোমবার।
এর একটি আওয়ামী লীগ সভাপতির ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির প্লট দুর্নীতি মামলা, অপর মামলাটি ববির ছোট বোন আজমিনা হক সিদ্দিক রূপন্তীর।
ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম মামলা দুটির রায় ঘোষণা করবেন।
আগে রায় হওয়া চার মামলাতে দণ্ডিত শেখ হাসিনা এ দুই মামলারও আসামি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাগ্নে-ভাগ্নিকে প্লট বরাদ্দে সহায়তা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আর্থিকভাবে পরিবারকে লাভবান করেছেন।
আর মা রেহানার প্লট মামলায় দণ্ডিত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক তার ভাই ববি ও বোন রূপন্তীর দুই প্লট দুর্নীতি মামলারও আসামি। টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পূর্বাচলে ভাই ও বোনের প্লট বরাদ্দে তিনি তার ‘বিশেষ ক্ষমতা’ ব্যবহার করে খালা শেখ হাসিনার ওপর চাপ প্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রাখেন।
ববির প্লট দুর্নীতি মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার ও কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) অবসরপ্রাপ্ত মেজর প্রকৌশলী সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) শেখ শাহিনুল ইসলাম, রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) নায়েব আলী শরীফ, সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম ও ফারিয়া সুলতানা।
রূপন্তীর প্লট দুর্নীতি মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) অবসরপ্রাপ্ত মেজর প্রকৌশলী সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) নায়েব আলী শরীফ, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) কামরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম।
আসামিদের বিরুদ্ধে যে ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, সেই ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
দুদকের কৌঁসুলি তরিকুল ইসলাম বলেন, “আসামিদের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়, সাক্ষ্যের মাধ্যমে আমরা সেই সব প্রমাণে সচেষ্ট হয়েছি। এর মধ্যে ৪০৯ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ সাজাই প্রত্যাশা করছি।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।
এ প্রেক্ষাপটে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে’ রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে হাসিনা পরিবারের ১০ কাঠার ছয়টি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা করে দুদক।
এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়।
গত ৩১ জুলাই ছয় মামলায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা পরিবারের সাত সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠ করেন আদালত। এর মধ্যে হাসিনা পরিবারের তিন মামলার রায় ঘোষণা করা হয় গত ২৭ নভেম্বর। আর ১ ডিসেম্বর দেওয়া রেহানার প্লট দুর্নীতির মামলার রায়।
এ চার মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। জয় ও পুতুলের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়া শেখ রেহানার ৭ বছর এবং তার মেয়ে টিউলিপের ২ বছরের সাজা হয়েছে।
রেহানাপুত্র ববিসহ ১৮ আসামির মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় গত ১৩ জানুয়ারি। এ মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দেন। একই দিন কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি খুরশীদ আলম আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। অপর আসামিরা পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেননি।
এদিকে একই আদালতে ববির ছোট বোন রূপন্তীসহ ১৮ জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে গত ৫ জানুয়ারি। মোট ৩০ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। ৮ জানুয়ারি আসামি খুরশীদ আলম আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।
ববির মামলা যেভাবে রায়ের পর্যায়ে
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। সেদিনই ভারতে পালিয়ে যান তিনি। তার পরিবারের অন্যরাও দেশের বাইরে।
ওই সময় থেকেই একের পর এক মামলা হতে থাকে থানা ও আদালতে। ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পাঁচ স্বজনের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ছয়টি প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
তার আগে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হাসিনার পরিবারের নামে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আসা অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয় হাই কোর্ট। একইসঙ্গে এ কমিটিকে আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরে (২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে) রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত করতে বলা হয়।
বিগত সরকারের আমলে পূর্বাচলের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর সড়কের আশপাশের এলাকায় শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর নামে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ববির প্লট নম্বর ১১, রূপন্তীর প্লট নম্বর ১৯ এবং শেখ রেহানার প্লট নম্বর ১৩। আর শেখ হাসিনার প্লট নম্বর ৯, জয়ের ১৫ নম্বর এবং পুতুলের প্লট নম্বর ১৭।
ববির প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে তাকে প্রধান আসামি করে শেখ হাসিনা, টিউলিপসহ ১৬ জনের নামে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। তিনি তদন্তে নাম আসা সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উদ্দিনসহ ১৮ জনের নামে ১০ মার্চ অভিযোগপত্র জমা দেন।
পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তাতে কাজ না হলে আসামিদের আদালতে হাজির করতে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবুও তারা আদালতে হাজির হননি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ৩১ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
গত ১৩ অগাস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়, সেদিন সাক্ষ্য দেন বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা এস এম রাশেদুল হাসান। এরপর ২৮ অগাস্ট তিনজন, ৪ সেপ্টেম্বর পাঁচজন, ২১ সেপ্টেম্বর একজন এবং ৬ অক্টোবর ৬ জন সাক্ষ্য দেন। এরপর ২ নভেম্বর চারজন এবং ৯ নভেম্বর ৭ জন সাক্ষ্য দেন। ৮ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন, যা শেষ হয় ১৩ জানুয়ারি।
এদিকে শেখ পরিবারের ছয় মামলার আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ২৯ অক্টোবর আত্মসমর্পণ করেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
১৩ জানুয়ারিতেই আসামি খুরশীদ আলমের আত্মপক্ষ শুনানি শেষ হয়। ১৮ জানুয়ারি রাখা হয় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য। ওইদিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের দিন ২ জানুয়ারি রাখা হয়।
ববির প্লট মামলা: কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ
রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি: রাজউকের এখতিয়ারভুক্ত ঢাকাসহ শহরতলীতে নিজের ফ্ল্যাট থাকার পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নেন। তিনি এক্ষেত্রে বোন টিউলিপ, খালা শেখ হাসিনা ও তার দপ্তর, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউক কর্মকর্তাদের সহায়তা নেন।
টিউলিপ সিদ্দিক: তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সর্বোচ্চ কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। ববির প্লট বরাদ্দে টিউলিপ তার ‘বিশেষ ক্ষমতা’ ব্যবহার করে খালা শেখ হাসিনার ওপর চাপ প্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রাখেন।
শেখ হাসিনা: তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ববিকে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজউক আইন লঙ্ঘন করেন। তিনি ও তার দপ্তরে একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন যোগসাজশ করে নিজে ও অপরকে শাস্তি থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সরকারপ্রধানের দপ্তরের একটি নথি বিনষ্ট করেছেন অথবা গায়েব করেছেন।
এছাড়া অপর আসামিরা ববিকে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ দিয়ে নিজেরা লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
রূপন্তীর মামলা যেভাবে রায়ের পর্যায়ে
রূপন্তীর নামে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে তাকে প্রধান আসামি করে শেখ হাসিনা, টিউলিপসহ ১৬ জনের নামে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
তদন্তে পাওয়া সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ ১৮ জনের নামে ১০ মার্চ অভিযোগপত্র জমা দেন কেয়া।
পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তাতে কাজ না হলে আসামিদের আদালতে হাজির করতে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবুও তারা আদালতে হাজির হননি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ৩১ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
গত ১৩ অগাস্ট বাদী আফনান জান্নাত কেয়ার সাক্ষ্যের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ২৮ অগাস্ট তিনজন, ৪ সেপ্টেম্বর পাঁচজন, ২১ সেপ্টেম্বর চারজন এবং ৬ ও ১৬ অক্টোবর তিনজন করে সাক্ষ্য দেন। এরপর ২ নভেম্বর চারজন, ৯ নভেম্বর সাতজন এবং ৫ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে আফনান জান্নাত কেয়ার সাক্ষ্য শেষ হয়।
এ মামলায় কারাগারে থাকা একমাত্র খুরশীদ আলমের পক্ষে গত ৫ জানুয়ারি কয়েকজন সাক্ষীকে জেরা করা হয়। ১৩ জানুয়ারি খুরশীদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। ওইদিনই দুদক ও খুরশীদ আলমের যুক্তিতর্ক শেষ হয়; আদালত রায়ের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করে দেয়।
রূপন্তীর প্লট মামলা: কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ
আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী: নিজ বা পরিবারের সদস্যদের রাজউক এলাকায় আবাসন সুবিধা থাকার কথা হলফনামায় গোপন করে এবং খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে কোনো আবেদন ছাড়াই রূপন্তী ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন।
টিউলিপ সিদ্দিক: মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া গুলশানের একটি ফ্ল্যাট টিউলিপ সিদ্দিক তার বোন রূপন্তীকে ২০১৫ সালে হস্তান্তর করেন। তবে সেই হস্তান্তরে যে নোটারি ব্যবহার করা হয় তা তদন্তে ‘ভুয়া’ প্রমাণিত হওয়ার কথা বলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রূপন্তীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হলে ছোট বোন পূর্বাচলের প্লটের জন্য অযোগ্য হতেন বিবেচনায় কেবল নোটারি করে দেন।
শেখ হাসিনা: ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাগ্নি রূপন্তীকে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ দিয়ে পরিবারকে আর্থিকভাবে লাভবান করেছেন। তিনি ও তার দপ্তরে একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন যোগসাজশ করে নিজে ও অপরকে শাস্তি থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সরকারপ্রধানের দপ্তরের একটি নথি বিনষ্ট করেছেন অথবা গায়েব করেছেন।
এছাড়া অপর আসামিরা রূপন্তীকে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।