শনিবার ১০ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৭ ১৪৩২, ২১ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

রাশিয়ার বোমা হামলায় ইউক্রেনে হতাহত ১৬ আলেপ্পোয় সংঘর্ষের পর সিরিয়ার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ইরানে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তেহরানের সড়কে মানুষের ঢল ২৯৫টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম বেঁধে দেবে সরকার গাজীপুরে এনসিপি নেতাকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তির অধিকার রয়েছে, অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি রংপুরে শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্ন ‘ফাঁসচক্রের দুই সদস্য’ গ্রেপ্তার প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা: ৮ আসামি দুই দিনের রিমান্ডে দিনভর ভুগিয়ে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার বন্ডাই বিচে বন্দুক হামলা : রয়েল কমিশন গঠনের ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার সোমালিয়ায় খাদ্য সহায়তা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র তীব্র তাপপ্রবাহে অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ‘কর্তন নিষিদ্ধ’ গাছ কাটলে এক লাখ টাকা জরিমানা, অধ্যাদেশ জারি সাগরে গভীর নিম্নচাপ, অব্যাহত থাকবে শৈত্যপ্রবাহ দিপু হত্যা: লাশ পোড়ানোয় ‘নেতৃত্ব’ দেওয়া যুবক গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জে ইজিবাইক চালককে হত্যায় ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড মুছাব্বির হত্যায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা পাতানো নির্বাচন হবে না: সিইসি গ্রিনল্যান্ড কেনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিশু

‘তুয়া ও ভয়ঙ্কর বিড়ালেরা’ এল বইমেলায়

 প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

‘তুয়া ও ভয়ঙ্কর বিড়ালেরা’ এল বইমেলায়

তুয়া ছোট্ট মেয়ে, কিন্তু তার মন অনেক বড়। সে ভালোবাসে সব প্রাণীকে, বিশেষ করে বিড়ালদের। আর ভালোবাসবেই বা না কেন? তাদের নরম লোম, উষ্ণ দৃষ্টি আর ছোট্ট ছোট্ট গুটিগুটি পায়ের শব্দে তুয়ার মন ভরে যায়।

কিন্তু তার মা? মা একদমই পছন্দ করেন না বিড়ালদের। বিশেষ করে তখন, যখন তারা বাসার জুতোর র‍্যাক দখল করে নেয়! মা-বিড়ালটি তার তিনটি ছানাসহ জায়গা করে নিয়েছিল ঠিক জুতোর তাকের ভেতর।

সেখানে তারা আরামে গুটিশুটি মেরে থাকত, লাফিয়ে বেড়াত, খেলা করত। আর সেই সঙ্গে তাদের লোম ঝরিয়ে দিত চারদিকে, এমনকি মায়ের দামি জুতোর ওপরেও। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার? ওরা হাগু-পিশু করত ঠিক জুতোর মধ্যেই!

মা বেজায় রেগে গেলেন। তিনি এক মুহূর্তের জন্যও ওদের আর সহ্য করতে রাজি নন। কিন্তু তুয়া? সে তো ওদের খুব ভালোবাসে! সে চায়, বিড়ালগুলোকে ঘরে এনে পোষ মানাবে, আদর করবে, খাওয়াবে, আগলে রাখবে।

মা কিছুতেই রাজি হলেন না। বরং করলেন ভয়ংকর এক কাজ। ড্রাইভার রশিদ আংকেলকে ডেকে মা বললেন, এই বিড়ালগুলোকে নিয়ে যাও! যেন আর না ফেরে। রশিদ আংকেল বিড়ালগুলোকে একটা বস্তায় পুরলেন। মা-বিড়াল আর তার তিনটি ছোট্ট ছানা বস্তার মধ্যে মিউ মিউ করে কাঁদতে লাগল।

তুয়া ফেরাতে পারলো না তাদের। রশিদ আংকেল গাড়িতে চড়ে বিড়ালগুলোকে অনেক দূরে নিয়ে গেলেন। এমন এক জায়গায়, যেখান থেকে তারা আর ফিরে আসতে পারবে না। তুয়ার মন ভেঙে গেল। বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠল কান্না। কত রাত সে ঘুমাতে পারল না, কতদিন সে জানালার পাশে বসে বিড়ালছানাগুলোর জন্য অপেক্ষা করল, তার ঠিক নেই।

তারপর এক রাতে এক অলৌকিক ঘটনা ঘটল। হঠাৎ জানালার কাঁচে খচখচ আওয়াজ। তুয়া ঘুমের ঘোরে বুঝতে পারল না— কী হচ্ছে? এরপর একটা বিশাল ছায়া নেমে এলো ঘরের ভেতর। সে চোখ মেলে তাকাতেই দেখল— এক ইয়াব্বড়ো বিড়াল! তার লোম ঘন, চোখ দুটো ভয়ঙ্কর জ্বলজ্বল করছে। বিশাল থাবায় সে জানালার রেলিং আঁকড়ে ধরে আছে।

তুয়ার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। এরপর যা ঘটল, তা কল্পনাকেও হার মানায়। বিড়ালটি এক ঝটকায় তুয়ার কাঁধ চেপে ধরল, আর পরমুহূর্তে ঝপ করে জানালা ফুঁড়ে উড়ে গেল আকাশে! তুয়া প্রথমে ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু একটু পর সে টের পেল— সে উড়ছে! শীতল বাতাস তার চুল এলোমেলো করে দিচ্ছে। নিচে তাকিয়ে দেখে, তার পরিচিত শহর ছোট হতে হতে মিলিয়ে যাচ্ছে।

কোথায় যাচ্ছে তারা? এ কেমন দেশ? বিড়ালটি তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? সেই জায়গাটি কি বাস্তব, নাকি কোনো জাদুর রাজ্য? সেখানে কি বিড়ালেরা রাজত্ব করে? নাকি এটি কেবল তুয়ারই কল্পনার জগৎ?

এই সব রহস্যের উত্তর মিলবে ‘তুয়া ও ভয়ঙ্কর বিড়ালেরা’ কিশোর উপন্যাসে। লেখক ও সাংবাদিক মশিউল আলমের লেখা এই উপন্যাসটি শিশু-কিশোরদের জন্য এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে। আর এই গল্পকে আরও মোহময় করে তুলেছেন প্রচ্ছদশিল্পী নিয়াজ চৌধুরী তুলি।

‘তুয়া ও ভয়ঙ্কর বিড়ালেরা’ প্রকাশ করেছে মাওলা ব্রাদার্স। পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলায়, প্যাভিলিয়ন ৪-এ। ১০৩ পৃষ্ঠার এই বইটির মুদ্রিত মূল্য ২৭০ টাকা।