শনিবার ০২ জুলাই ২০২২, আষাঢ় ১৭ ১৪২৯, ০২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

খেলা

শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ২৭ মে ২০২২

শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শ্রীলংকার কাছে ঢাকা টেস্টে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারের লজ্জা পেল বাংলাদেশ। এই ম্যাচ হেরে শ্রীলংকার কাছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হারলো টাইগাররা। চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট ড্র করলেও, ঢাকা টেস্টে শ্রীলংকার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রীলংকার কাছে ১০ উইকেটে হারলো টাইগাররা।

বাংলাদেশ-শ্রীলংকার সিরিজটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। এ পর্যন্ত  ৬ ম্যাচে ৩ জয়, ২ হার, ১ ড্রতে ৪০ পয়েন্ট ও শতকরা ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ জয়ে টেবিলের চতুর্থস্থানে শ্রীলংকা।

আর ৮ ম্যাচে ১ জয়, ৬ হার, ১ ড্রতে ১৬ পয়েন্ট ও শতকরা ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ জয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পর টেবিলের নবম ও শেষ দল ইংল্যান্ড। টেবিলের শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। ৮ ম্যাচে ৫ জয়, ৩ ড্রতে ৭২ পয়েন্ট ও শতকরা ৭৫ শতাংশ জয়ে টেবিলে সবার উপরে অসিরা।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের চতুর্থ দিন শেষেই হারের শঙ্কায় পড়েছিলো বাংলাদেশ। কারণ প্রথম ইনিংসে ১৪১ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে চতুর্থ দিন শেষে  টাইগারদের  সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৩৪ রান।

২৩ রানে ৪ উইকেট পতনের পর হাল ধরেছিলেন মুশফিকুর রহিম-লিটন দাস। দিন শেষে মুশফিক ১৪ ও লিটন ১ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাই হার এড়ানোর জন্য ভরসার নাম ছিলো মুশফিক-লিটন। কারন প্রথম ইনিংসে ২৪ রানে ৫ উইকেট পতনের পর জুটি বেঁধে ২৭২ রানের জুটি গড়েছিলেন মুশফিক-লিটন।

আজ পঞ্চম ও শেষ দিনের ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান লিটন। রাজিথার বলে লিটনকে ক্যাচ আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার। পরে রিভিউ নিয়ে নিজের উইকেট বাঁচান ৯ রানে থাকা লিটন।

তবে দিনের অষ্টম ওভারে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। রাজিথার বলে বোল্ড হন মুশফিক। অফ-স্টাম্পের বাইরের বল ভেতরের দিকে ঢুকলে ব্যাট দিয়ে সেটি রুখতে পারেননি মুশি। তাতে স্টাম্প ভাঙ্গে মুশফিকের। ৩৯ বলে ৪টি চারে ২৩ রান করেন মুশফিক। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১৭৫ রান এসেছিলো তার ব্যাট থেকে।

দলীয় ৫৩ রানে মুশফিক ফিরলে, ক্রিজে আসেন সাকিব আল হাসান। শুরুতেই মারমুখী হয়ে উঠেন তিনি। রাজিথার ২৫তম ওভারে তিনটি বাউন্ডারি মারেন সাকিব। লিটনও দু’টি বাউন্ডারি তুলে নিলে, ৩০তম ওভারে বাংলাদেশের স্কোর তিন অংকে পৌঁছায়।

এরপর সাকিব-লিটন জুটি পঞ্চাশ রান পূর্ণ করে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অষ্টম ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ২ হাজার রান ক্লাবে প্রবেশ করেন লিটন। আর মধ্যাহ্ন-বিরতির আগ মুর্হূতে লিড নেয় বাংলাদেশ। আর প্রথম সেশনের শেষ বলে ফ্লিক করে চার মেরে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৭তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব। ৬১ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেন সাকিব। প্রথম সেশনের বিরতির আগে সাকিব দ্রুত
অর্ধশতক করলেও, হাফ-সেঞ্চুরি থেকে ২ রান দূরে ছিলেন লিটন। আর বাংলাদেশের স্কোর ছিলো ৫ উইকেটে ১৪৯ রান।

বিরতির থেকে ফেরার পর প্রথম ওভারেই হাফ-সেঞ্চুরি পুর্ন  লিটন। ১৩তম টেস্ট অর্ধশতকের জন্য ১৩০ বল খেলেন লিটন। তবে পরের ওভরেই লিটনের বিদায় ঘণ্টা বাজান আসিথা।

আসিথার অফ-স্টাম্প ও মিডল স্টাম্পের ডেলিভারি সোজা ড্রাইভ করতে গিয়ে বাতাসে ভাসিয়ে দেন লিটন। অনেকটাই নীচের দিকে ভাসছিলো বলটি। বল ডেলিভারি দেয়ার পর ডান-দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাত দুর্দান্ত ক্যাচে লিটনকে বিদায় দেন আসিথা। ৩টি চারে ১৩৫ বলে ৫২ রান করেন লিটন। প্রথম ইনিংসে ১৪১ রান করেছিলেন তিনি। ষষ্ঠ উইকেটে সাকিব-লিটন ১৬৪ বলে ১০৩ রান
যোগ করেন।

লিটনকে হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে উঠার আগেই সাকিবের বিদায় দেখে বাংলাদেশ। আসিথার বাউন্সার পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সাকিব। গ্লাভসে লেগে শ্রীলংকার উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকবেলার হাতে জমা পড়ে। ৭টি চারে ৭২ বলে ৫৮ রান করেন সাকিব। ফলে সপ্তম ব্যাটার হিসেবে ১৬৩ রানে সাকিবকে হারায় বাংলাদেশ।

এরপর ৬ রানে শেষ ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে শুন্য করা, মোসাদ্দেক এবার ১টি চারে ৯ রান করেন। শিকার হন স্পিনার রমেশ মেন্ডিসের। তাইজুল ইসলামকে ১ রানে শিকার করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন শ্রীলংকার আসিথা। ৫ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি।

আর বাংলাদেশের শেষ ব্যাটার খালেদ আহমেদকে শুন্য হাতে বিদায় দিয়ে ইনিংসে নিজের ষষ্ঠ উইকেট নেন আসিথা। ৫৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাইজুল ও তৃতীয় বলে খালেদকে শিকার করেন আসিথা। এতে ১৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য মাত্র ২৯ রানের টার্গেট পায় শ্রীলংকা। লংকানদের পক্ষে আসিথা ৫১ রানে ৬টি, রাজিথা ৪০ রানে ২টি ও রমেশ ১টি উইকেট নেন।

২৯ রানের সহজ টার্গেটে খেলতে নেমে ৩ ওভারেই জয় তুলে নেয় শ্রীলংকা। তাইজুলের করা প্রথম ওভারেই ১৬ রান তুলেন শ্রীলংকার ওপেনার ওশাদা ফার্নান্দো। ঐ ওভারে ২টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন ওশাদা।

সাকিবের করা দ্বিতীয় ওভারে ৭ রান পায় শ্রীলংকা। আর এবাদতের তৃতীয় ওভার থেকে ৬ রান নিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় লংকানরা। ওশাদা অপরাজিত ২১ ও অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে অপরাজিত ৭ রান করেন।

প্রথম ইনিংসে ৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন লংকান আসিথা। আর সিরিজ সেরা হন শ্রীলংকার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। দু’টি সেঞ্চুরিতে সিরিজে ৩৪৪ রান করেন ম্যাথুজ।

স্কোর কার্ড (টস-বাংলাদেশ) :
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৩৬৫/১০ (মুশফিক ১৭৫*, লিটন ১৩৪১) ।
শ্রীলংকা প্রথম ইনিংস : ৫০৬/১০, ১৬৫.১ ওভার (ম্যাথুজ ১৪৫*, চান্ডিমাল ১২৪) ।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস (আগের দিন ৩৪/৪, ১৩ ওভার, মুশফিকুর ১৪*, লিটন ১*) ।

মাহমুদুল হাসান জয় ক মেন্ডিস ব আসিথা ১৫
তামিম ইকবাল ক মেন্ডিস ব আসিথা ০
নাজমুল হোসেন শান্ত রান আউট (জয়াবিক্রমা) ২
মোমিনুল হক ক ডিকবেলা ব রাজিথা ০
মুশফিকুর রহিম বোল্ড ব রাজিথা ২৩
লিটন দাস ক এন্ড ব আসিথা ৫২
সাকিব ক ডিকবেলা ব আসিথা ৫৮
মোসাদ্দেক এলবিডব্লু ব রমেশ ৯
তাইজুল এলবিডব্লু ব আসিথা ১
এবাদত অপরাজিত ০
খালেদ বোল্ড ব আসিথা ০
অতিরিক্ত (লে বা-১, নো-২, ও-৬) ৯
মোট (অলআউট, ৫৫.৩ ওভার) ১৬৯
উইকেট পতন : ১/১৫ (তামিম), ২/১৫ (শান্ত), ৩/১৯ (মোমিনুল), ৪/২৩
(জয়), ৫/৫৩ (মুশফিকুর), ৬/১৫৬ (লিটন), ৭/১৬৩ (সাকিব), ৮/১৬৯
(মোসাদ্দেক), ৯/১৬৯ (তাইজুল), ১০/১৬৯ (খালেদ)।
শ্রীলংকা বোলিং :
রাজিথা : ১২-৫-৪০-১ (ও-১, নো-১),
আসিথা : ১৭.৩-৫-৫১-২ (ও-১, নো-১),
জয়াবিক্রমা : ১৩-০-৪৭-০,
রমেশ : ১১-২-২০-০,
ধনাঞ্জয়া : ২-০-১০-০।
ফল : শ্রীলংকা ১০ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : আসিথা ফার্নান্দো (শ্রীলংকা)।
সিরিজ সেরা : অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ (শ্রীলংকা)।
সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতলো শ্রীলংকা।

মন্তব্য করুন: