বুধবার ২৫ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ১১ ১৪৩২, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৭

ব্রেকিং

জ্বালানি সংকট সামলাতে কোভিডকালের নিয়মে ফেরার চিন্তায় এশিয়ার দেশগুলো দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে বাস পদ্মায়, হতাহতের শঙ্কা ২০২৭ সাল থেকে এসএসসির বিষয় কমানোর চিন্তা স্পট মার্কেট থেকে আরো ২ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার মানিকগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে ভাই-বোনের মৃত্যু নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জেনারেল মাসুদকে এবার দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জোর দেওয়ার তাগিদ জোবাইদা রহমানের প্রাথমিকের ‘আটকে যাওয়া’ বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ১৫ এপ্রিল যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ভ্যান্স-রুবিও, ‘শুনতে আগ্রহী’ ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আরও ‘তিন-চার হাজার সেনা পাঠাতে যাচ্ছে’ যুক্তরাষ্ট্র কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নিহত স্বাধীনতা দিবস ঘিরে স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ শর্ত

ফিচার

বকশিশ কম দেওয়ায় অক্সিজেন খুলে দিলেন ওয়ার্ড বয়,মারা গেলেন রোগী!

 প্রকাশিত: ০৯:৫৩, ১০ নভেম্বর ২০২১

বকশিশ কম দেওয়ায় অক্সিজেন খুলে দিলেন ওয়ার্ড বয়,মারা গেলেন রোগী!

 গত ৯ নভেম্বর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়কে তাঁর চাহিদামতো বকশিশের টাকা না দেওয়ায় রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিয়েছেন এবং এতে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগ করেছেন মৃতের স্বজনরা।

 জানা যায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় পলাতক।

রোগীর নাম বিকাশ চন্দ্র দাস (১৮)। তিনি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার শিয়ালকুণ্ডি গ্র্রামের বিশু দাসের ছেলে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

রোগীর  চাচা শচীন চন্দ্র জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাঘাটায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন তাঁর ভাতিজা বিকাশ চন্দ্র। স্থানীয়রা তাঁকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান বিকাশের ক্ষত স্থানগুলো ব্যান্ডেজ করার পর চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল (শজিমেক)  হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী তাঁকে শজিমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ট্রেচারে করে তৃতীয় তলায় অবস্থিত সার্জারি বিভাগে নিয়ে যান ওয়ার্ড বয় দুলু। সেখানে গিয়ে তিনি রোগীর স্বজনদের কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেন। কিন্তু কাছে টাকা না থাকায় বিকাশের বাবা বিশু দাস ১৫০ টাকা দিতে চান। আর ওয়ার্ড বয়ের দাবি অন্তত ২০০ টাকা। ৫০ টাকা ওই মুহূর্তে না পাওয়ায় ওয়ার্ড বয় দুলু রেগে গিয়ে টান দিয়ে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন। এর পরই বিকাশের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
তাঁরা ওয়ার্ড বয়কে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন কিন্তু দুলু ৫০ টাকা না দিলে লাগাবেন না বলে জানিয়ে দেন। একপর্যায়ে নিজেরাই বিকাশের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ভাতিজার নাক দিয়ে শ্লেষ্মা বের হওয়া শুরু হলে ওয়ার্ড বয় পুনরায় অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দেন। একপর্যায়ে তাঁর ভাতিজা আর শ্বাস নিচ্ছেন না দেখে ওয়ার্ড বয় সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে চিকিৎসক এসে রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা  ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'ঘটনার  পরই পুলিশ পাঠানো হয় এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই ওয়ার্ড বয় দুলু পলাতক। তাঁকে খোঁজা হচ্ছে। তাঁদের কাছে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।'

অনলাইন নিউজ পোর্টাল