রোববার ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২৬ ১৪৩২, ২০ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

৪৬তম বিসিএসে চাকরি পাচ্ছেন ১ হাজার ৪৫৭ প্রার্থী টানা তিন মাস মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী ১২ তারিখ দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন: তারেক রহমান হাদি হত্যাকাণ্ড তদন্তে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার ভোট ঘিরে মোবাইল ব্যাংকিং সীমিত রাখার নির্দেশ বন্দরে ধর্মঘট নিয়ে হার্ডলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠকের পর হন্ডুরাসের নতুন নেতার প্রশংসায় ট্রাম্প ঋণখেলাপি-ব্যাংকডাকাতদের নিয়ে দুর্নীতি দমন করবেন, হাস্যকর : জামায়াত আমির বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে উদ্যোগ নিতে ৪ ব্যবসায়ী সংগঠনের চিঠি টিআইবির প্রতিবেদন গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে : বলছে সরকার জামায়াতসহ ৩০টি দল কোনো নারীকে প্রার্থিতা দেয়নি: টিআইবি চট্টগ্রাম বন্দর সচল আছে, দাবি চেয়ারম্যানের ফের লাগাতার ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুদানে আরএসএফের ড্রোন হামলায় ২৪ বেসামরিক নিহত

ফিচার

বকশিশ কম দেওয়ায় অক্সিজেন খুলে দিলেন ওয়ার্ড বয়,মারা গেলেন রোগী!

 প্রকাশিত: ০৯:৫৩, ১০ নভেম্বর ২০২১

বকশিশ কম দেওয়ায় অক্সিজেন খুলে দিলেন ওয়ার্ড বয়,মারা গেলেন রোগী!

 গত ৯ নভেম্বর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়কে তাঁর চাহিদামতো বকশিশের টাকা না দেওয়ায় রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিয়েছেন এবং এতে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগ করেছেন মৃতের স্বজনরা।

 জানা যায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় পলাতক।

রোগীর নাম বিকাশ চন্দ্র দাস (১৮)। তিনি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার শিয়ালকুণ্ডি গ্র্রামের বিশু দাসের ছেলে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

রোগীর  চাচা শচীন চন্দ্র জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাঘাটায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন তাঁর ভাতিজা বিকাশ চন্দ্র। স্থানীয়রা তাঁকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান বিকাশের ক্ষত স্থানগুলো ব্যান্ডেজ করার পর চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল (শজিমেক)  হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী তাঁকে শজিমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ট্রেচারে করে তৃতীয় তলায় অবস্থিত সার্জারি বিভাগে নিয়ে যান ওয়ার্ড বয় দুলু। সেখানে গিয়ে তিনি রোগীর স্বজনদের কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেন। কিন্তু কাছে টাকা না থাকায় বিকাশের বাবা বিশু দাস ১৫০ টাকা দিতে চান। আর ওয়ার্ড বয়ের দাবি অন্তত ২০০ টাকা। ৫০ টাকা ওই মুহূর্তে না পাওয়ায় ওয়ার্ড বয় দুলু রেগে গিয়ে টান দিয়ে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন। এর পরই বিকাশের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
তাঁরা ওয়ার্ড বয়কে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন কিন্তু দুলু ৫০ টাকা না দিলে লাগাবেন না বলে জানিয়ে দেন। একপর্যায়ে নিজেরাই বিকাশের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ভাতিজার নাক দিয়ে শ্লেষ্মা বের হওয়া শুরু হলে ওয়ার্ড বয় পুনরায় অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দেন। একপর্যায়ে তাঁর ভাতিজা আর শ্বাস নিচ্ছেন না দেখে ওয়ার্ড বয় সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে চিকিৎসক এসে রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা  ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'ঘটনার  পরই পুলিশ পাঠানো হয় এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই ওয়ার্ড বয় দুলু পলাতক। তাঁকে খোঁজা হচ্ছে। তাঁদের কাছে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।'

অনলাইন নিউজ পোর্টাল