সোমবার ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২২ ১৪৩২, ১৬ রজব ১৪৪৭

লাইফস্টাইল

শীতকালে শরীর গরম ও সুস্থ রাখার জন্য সেরা খাবার

 আপডেট: ১৮:১১, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

শীতকালে শরীর গরম ও সুস্থ রাখার জন্য সেরা খাবার

শীতকাল এলেই চারপাশে ঠান্ডার পরশ অনুভূত হয়। হালকা কুয়াশা, ঠান্ডা বাতাস আর ছোট হয়ে আসা দিন—সব মিলিয়ে সময়টা যেমন উপভোগ্য, তেমনি শরীরের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জেরও। এই মৌসুমে সর্দি-কাশি, জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তাই শীতকালে শরীর গরম রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস। সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী রাখে এবং শীতকাল সুস্থভাবে পার করতে সহায়তা করে।

কোন কোন খাবার শীতে শরীর গরম রাখে?

শীতকালে পুষ্টিকর ও উপকারী খাবার বেছে নিলে অনেক রোগ সহজেই এড়ানো যায়। নিচে এমন কিছু খাবারের কথা উল্লেখ করা হলো, যা শীতে শরীর উষ্ণ ও সুস্থ রাখতে সহায়ক—

শুষ্ক ফলবাদাম

কাজু, কাঠবাদাম ও আখরোটে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। খেজুর, ডুমুর ও জলপাইও শীতকালে অত্যন্ত উপকারী। খেজুরে প্রচুর আয়রন থাকে এবং গরম পানীয়ের সঙ্গে খেলে দ্রুত শক্তি পাওয়া যায়।

শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সবাই প্রতিদিন অল্প পরিমাণে শুষ্ক ফল খেতে পারেন। দুধ বা সিরিয়ালের সঙ্গে মিশিয়েও এগুলো খাওয়া যায়, যা একটি পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে কাজ করে।

মধু

মধু দীর্ঘদিন ধরে সর্দি-কাশির প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক চামচ মধু কুসুম গরম পানির সঙ্গে সকালে খেলে ঠান্ডা ও কাশিতে বেশ উপকার পাওয়া যায়। এক বছরের বেশি বয়সী শিশুরাও মধু খেতে পারে। এটি শরীর উষ্ণ রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

স্যুপ

শীতকালে স্যুপ একটি আদর্শ খাবার। বিভিন্ন সবজি, ডাল বা শস্য দিয়ে তৈরি স্যুপ শরীরকে ভেতর থেকে গরম রাখে। ডাল, লাউজাতীয় সবজি বা যব দিয়ে তৈরি স্যুপ বেশ পুষ্টিকর।স্যুপে আদা, দারুচিনি বা জিরার মতো মসলা ব্যবহার করলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যগুণও বৃদ্ধি পায়। শিশু ও বয়স্ক—সবাই সহজেই এটি গ্রহণ করতে পারে।

গরম দুধদুধজাত খাবার

শীতকালে গরম দুধ পান করা অত্যন্ত উপকারী। দুধ ও দুধজাত খাবারে থাকা ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন শরীরকে শক্তি জোগায় এবং উষ্ণ রাখে। রাতে ঘুমানোর আগে গরম দুধ পান করলে শরীর আরাম পায়।

এ ছাড়া শীতে ঠান্ডা পানির পরিবর্তে কুসুম গরম পানি ও পানীয় গ্রহণ করা ভালো, যা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সম্পূর্ণ শস্যজাত খাত

ওটস, গম, যবসহ অন্যান্য সম্পূর্ণ শস্যে প্রচুর আঁশ ও প্রোটিন রয়েছে। এগুলো হজমে সহায়ক এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। শীতকালে ওটস দিয়ে নাশতা বা হালকা খাবার তৈরি করা যেতে পারে।এসব শস্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী।