বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২৭ ১৪৩২, ২২ রমজান ১৪৪৭

শিক্ষা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর্ষদে এমপিদের ফেরানোর তোড়জোড় শুরু

 প্রকাশিত: ১১:৪৩, ১১ মার্চ ২০২৬

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর্ষদে এমপিদের ফেরানোর তোড়জোড় শুরু

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধানের যোগ্যতা নির্ধারণের পর ছয় মাস না পার হতেই আবার তা পরিবর্তনের আলোচনা শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আগের মতই জনপ্রতিনিধিদের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ চাওয়া হচ্ছে।

এমপিদের ‘আপত্তির মুখে’ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির প্রবিধান মালা সংশোধন করে সভাপতি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘পরির্ব্তনের বিষয়েও’ আলোচন শুরু করেছে শিক্ষা প্রশাসন।

এ প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রবীণ ও বর্তমান শিক্ষকরা। তারা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও ‘অপরাজনৈতিক’ পরিবেশে ফিরে যাবে।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সভায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যমান প্রবিধানমালা সংশোধন নিয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমিক শাখার সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রবিধানমালার কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি উঠেছে। আপত্তির বিষয়গুলোর বিষয়ে কী কী করা যেতে পারে তা নিয়ে সভায় কথা হয়েছে। তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

“আপত্তিগুলো কীভাবে দূর করা যায় সে বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয় শুনেছেন। কিন্তু যাচাই বাছাই করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এমপিদের আপত্তি যে কারণে

২০১৫ সালের ৩১ অগাস্ট বেসরকারি স্কুল-কলেজের সভাপতি পদে মনোনয়ন পেতে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির প্রবিধানমালা সংশোধন করে বেসরকারি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হতে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম চার বছর মেয়াদি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং বেসরকারি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়।

এর আগের প্রবিধানমালায় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মচারী, শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তি বা সমাজসেবকদের মধ্যে থেকে তিনজনের নাম সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর বিধান ছিল।

কিন্তু ৩১ অগাস্ট সংশোধিত প্রবিধানমালায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করে নবম গ্রেডের নিচের নয় এমন সরকারি কর্মকর্তা, পঞ্চম গ্রেডের নিচে নয় এমন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, এমবিবিএস বা প্রকৌশল বা কৃষিসহ যে কোনো কারিগরি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রিসহ নবম গ্রেডের নিচে না এমন কর্মকর্তা বা পঞ্চম গ্রেডের নিচে না এমন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর বিধান সংযোজন করা হয়।

এর ফলে জনপ্রতিনিধি বা সংসদ সদস্যদের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

এমন বাস্তবতায় সদ্য নির্বাচিত এমপিদের কেউ কেউ সভাপতি পদের যোগ্যতা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে অধ্যাপক সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন।

তিনি মঙ্গলবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসলে যখন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ ব্ন্ধ করা হয়েছিল, তখন শিক্ষকদের মধ্যে তা অনেক প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু এমপি মহোদয়রা আগে সভাপতি হওয়ার সুযোগ পেতেন। প্রবিধানমালা সংশোধনের ফলে জনপ্রতিনিধিদের জন্য সভাপতি হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

“এখন এমপি মহোদয়রা এটা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন, তারা সভাপতি হওয়ার সুযোগ চাচ্ছেন। এ আপত্তি কীভাবে দূর করা যায়, মূলত তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে।”

প্রবিধামালা পরিবর্তন নিয়ে যে আলোচনা

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সভায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির প্রবিধানমালা সংশোধন নিয়ে আলোচন হয়েছে।

তবে সভায় নীতিমালার কোন কোন অংশ কীভাবে সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি।

অধ্যাপক ইউনুস মঙ্গলবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে বলেন, “পরিবর্তন নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে; সংশোধন করা নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে–সেগুলো নিয়ে কথা বলায় নিষেধ আছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়টি সেটেল হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে বিস্তারিত জানাবে।”

শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব সোহেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এমপিরা চাইছেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ দেওয়া হোক। এ বিষয়টি কীভাবে সুরহা করা যায় তা নিয়েই সভায় কথা হয়েছে। যদিও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”

এমপিরা যা বলছেন

জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্র্নিং বডির সভাপতি হওয়ার সুযোগ উঠিয়ে দেওয়া নিয়ে সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে আপত্তি জানিয়েছিলেন কুমিল্লা-২ আসনের এমপি ও সরকারপন্থি শিক্ষক সংগঠনের নেতা সেলিম ভূইয়াঁ।

তিনি মঙ্গলবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অন্তবর্তী সরকারের সময় আমরা দেখলাম একের পর এক প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের পদগুলো দখল করা হল। আগের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সে সুযোগ কেন বন্ধ করল, সে বিষয়টা খতিয়ে দেখতে সচিবালয়ে গিয়ে কিছুদিন আগে শিক্ষামন্ত্রীকে বলে এসেছিলাম।

“অন্তর্বর্তী সরকার শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের কেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার সুযোগ দিল, সেটা আমার প্রশ্ন। তারা কৌশলে জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়েছে এখান থেকে। এর পেছনে কী কারণে তা খতিয়ে দেখতে বলেছি মন্ত্রীকে।”

অন্তর্বর্তী সরকারি ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি হতে যে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করেছে তা নিয়ে সংসদসদস্যদের কোনো আপত্তি নেই দাবি করে তিনি বলেন, “শিক্ষাগত যোগ্যতা যেটা করেছে, সেটা আমরা পজেটিভলি নিয়েছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অশিক্ষিত লোকদের জায়গা না।

“কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা যেখানে যুগ যুগ এ দায়িত্ব পালন করেছেন এলাকার অভিভাবক হিসেবে, সেখানে তাদের জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের কী উদ্দেশ্য কাজ করেছে, আমি চাই তা খতিয়ে দেখা হোক।”

শিক্ষায় ‘অপরাজনৈতিক প্রভাবের’ শঙ্কা

আবারও আগের মত জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ দিলে শিক্ষাখাতে ‘অপরাজনৈতিক’ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন প্রবীণ শিক্ষক নেতা ও বেসরকারি শিক্ষকদের পুরোনো সংগঠন বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান। তার মতে, সেটা করা হলে শিক্ষা পেছনে হাঁটবে।

তিনি মঙ্গলবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সভাপতি পদের দায়িত্ব সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছিল গত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায়। ওই সময় জনপ্রতিনিধিরা সভাপতি ও পরিচালনা পর্ষদের পদে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকীকরণ করেছেন। শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলির সৃষ্টি হয়েছে।

“যার ফলে গণঅভ্যুত্থানের পর শত শত শিক্ষক অপমানিত ও লাঞ্ছণার শিকার হয়েছেন। স্কুলে স্কুলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মব হয়েছে।”

মাজহারুল হান্নান বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) সরকারি কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। এটা শিক্ষকদেরই চাওয়া ছিল।

“যদি এখন আবার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, এর অপরাজনৈতিক প্রভাবে শিক্ষা কলুষিত হবে। আবারও শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি দেখা যাবে।”

তিনি বলেন, “আমাদের আশা ছিল, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাধ্যমিক শিক্ষকদের কীভাবে আরও পরিচ্ছন্ন রাখা যায়, সে উদ্যোগ নেবে। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের আবার পরিচালনা পর্ষদে আসার সুযোগ দিলে শিক্ষা পেছনে হাঁটবে।”

সংসদ সদস্যদের মূল কাজ যে আইন প্রণয়ন করা, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান বলেন, “এমপিরা বানাবেন পলিসি, তারা নীতি প্রণয়ন করে সমাজের সমস্য-অসঙ্গতি দূর করায় ভূমিকা রাখবেন। সেখানে কেন তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তদারকি করতে চান?”

বর্তমানের প্রবিধান মালা অনুযায়ী নবম গ্রেডের ওপরের যে কোনো কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্র্নিং বডির সভাপতি হওয়ার সুযোগ পান। সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এমপিদের পদমর্যাদা তো গ্রেড-১ সচিবদের থেকে তিন ধাপ ওপরে। তাহলে কেন তারা নিজেদের নবম গ্রেডভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জায়গায় নিয়ে আসতে চাচ্ছেন সেটি খতিয়ে দেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যে পরিচালনা পর্ষদ ছাড়াও চলে, সে কথা তুলে ধরে এই শিক্ষক বলেন, “সেখানে রাজস্ব খাত থেকে বেতন হয়, আর বেসরকারি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানেরও রাজস্ব খাত থেকে বেতন হয়। সরকার সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিল্ডিং তৈরি করে দেয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান চালতে কোন কমিটি লাগে না, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চালাতে কেন লাগে? কারণ গভর্নিং বডি শিক্ষকদের ওপর ছড়ি ঘোরায়। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান ভালো।

“শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষার ভবিষ্যতের কথা ভেবে, সার্বিক বিষয় যাচাই-বাছাই করে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য নিয়ে শিক্ষার জন্য যেটা ভালো, সে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে প্রত্যাশ করি।”

সভাপতি পদের যোগ্যতা পরিবর্তন নিয়ে শঙ্কিত বর্তমান শিক্ষকরাও।

এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া নবীন শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরামের (বাশিফ) সভাপতি পাবনার সুজানগরের খলিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হাবিবুল্লাহ রাজু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। তাতে আমরা অনেকটা আশাবদী হয়েছিলাম। শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে শিক্ষাঙ্গণকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।

“কিন্তু আগে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যখন পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন, তখন আমরা দেখেছি এর প্রভাব কেমন। তাই বর্তমান সরকার শিক্ষাঙ্গন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার পদক্ষেপ নেবে–সেটাই আশা।”

আক্ষেপ করে শিক্ষক হাবিবুল্লাহ রাজু বলেন, “আগে অশিক্ষিতরা সভাপতি হয়ে শিক্ষিত শিক্ষকদের ওপর ছড়ি ঘোরাতেন। তাই সভাপতি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যাতে শিথিল না করা হয় সে দাবিও রাখছি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে।”