শনিবার ০৬ জুন ২০২৬, জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪৩৩

ব্রেকিং

বিভাজন নয়, ‘উদার গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করতে চাই: ফখরুল আইভীর বাড়ির সামনে পুলিশের নজরদারি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০১ শয্যার সিরাজগঞ্জে বাড়ছে যমুনার পানি, নদীতীরে ভাঙন আতঙ্ক নিম্ন আয়ের মানুষের বিদ্যুতের খরচ বাড়ছে না আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলা’ ছিল, বলছে তদন্ত কমিটি অবসরভাতা বঞ্চিত শিক্ষকদের ভাতা চালু করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ৭ জুন হাম: আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ৬৯ ৩৮ ডিগ্রিতে পারদ, দিনাজপুরে তাপদাহে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের পর মমতার বিরুদ্ধে মামলা ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

ইসলাম

রমজানে রিজিক বৃদ্ধি পায়

 প্রকাশিত: ০৯:৫২, ২ মে ২০২১

রমজানে রিজিক বৃদ্ধি পায়

মহানবী (সা.)-এর অভ্যাস ছিল, বিশেষ ঘটনা, সময় ও মৌসুমে তিনি সাহাবায়ে কিরামকে বিশেষ নির্দেশনা দিতেন। যখন যে কথা বলা প্রয়োজন মনে করতেন, সেটা তিনি বলে দিতেন। একবার যখন রমজানের চাঁদ ওঠার সময় ঘনিয়ে এলো, রমজান সম্পর্কে তিনি এক ভাষণ দিয়েছেন। সেই ভাষণে রমজানের ব্যাপারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা তিনি বলেছেন। ‘রমজান এক-এ সত্তরের মাস’—এ কথা ওই হাদিস থেকেই জানা যায়। সেই নাতিদীর্ঘ ভাষণ হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে এসেছে। যেমন—সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১৮৮৭; বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, হাদিস : ৩৩৩৬; আল-কামেল লি ইবনিল আদি : ৬/৫১২; আত তাকয়িদ লি মারিফাতিস সুনানি ওয়াল মাসানিদ, পৃষ্ঠা ২০৫।

এই হাদিসের একটি টুকরা হলো ‘শাহরুন ইউজাদু ফি রিজকিল মু’মিনি ফিহি’। অর্থাৎ এই পুণ্যময় রমজান মাসে ঈমানদারের রিজিক বাড়ে। এ কথার কয়েকটি ব্যাখ্যা হতে পারে—

এক. রমজানে ঈমান ও আমল বৃদ্ধি পায়। সব মুসলমান কমবেশি ইবাদত-বন্দেগি করে থাকে। এটি আল্লাহর নিয়ামত। এটিও এক ধরনের রিজিক। রমজানে এই রিজিক ও নিয়ামত বৃদ্ধি পায়।

দুই. রমজানে মুসলমানরা বেশি বেশি দান-সদকা করে থাকে, তারা আত্মীয়-স্বজনের অধিকার বিষয়ে সচেষ্ট হয়। এ কাজগুলো রিজিক বাড়ার অন্যতম উপায়। একাধিক হাদিসে এ বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

তিন. বাহ্যিকভাবে রমজানে তুলনামূলক ভালো খাবারের ব্যবস্থা হয়, অনেক দেশে রমজানে শ্রমিকদের বেতনের সঙ্গে বোনাসও দেওয়া হয়, রমজানে বিভিন্ন জায়গা থেকে হাদিয়া-তুহফা আসে, বিত্তবানরা দান করে থাকেন—এসবের দিকে তাকালে মহানবী (সা.)-এর এ কথা খুব সহজেই বুঝে আসে যে রমজানে মুসলমানদের রিজিক বাড়ে। আল্লাহ তাআলা গোটা সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক। তিনি একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও রিজিকদাতা। তিনি সারা বিশ্বের ব্যবস্থাপক। আল্লাহ তাআলা সব প্রাণীকে উত্তম রিজিক দান করেন, এমনকি কখনো কখনো অন্য সৃষ্ট জীবকে মানুষের চেয়ে বেশি রিজিক দিয়ে থাকেন। পৃথিবীতে বিচরণকারী সব প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ তাআলা নিজেই গ্রহণ করেছেন। এটি সৃষ্টিজগতের প্রতি তাঁর করুণা ছাড়া আর কিছুই নয়। কোনো প্রাণীকে যতক্ষণ তিনি জীবিত রাখার ইচ্ছা করেন, ততক্ষণ তার রিজিক যেকোনো উপায়ে তার কাছে পৌঁছতে থাকে। ক্ষুধার কারণে যদি কোনো প্রাণীর মৃত্যু হয়, তার অর্থ এই নয় যে আল্লাহর ভাণ্ডারে রিজিক কমে গেছে। বরং এর অর্থ হলো ওই প্রাণীকে জীবিত রাখা আল্লাহর ইচ্ছা ছিল না। তাই অন্যান্য দুর্ঘটনার মতো অনাহারও কারো মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আল্লাহ রিজিক বৃদ্ধি করেন আর যাকে ইচ্ছা দারিদ্র্যপীড়িত করেন। জীবিকার ক্ষেত্রে সব মানুষ সমান নয়। আল্লাহর ইচ্ছা ও বিশেষ হিকমতে রিজিক বণ্টন করা হয়। একজন বিরাট সম্পদশালী হয়, আরেকজনের জীবন দুর্বিষহ হয় দারিদ্র্যের কশাঘাতে।

রিজিক কমবেশি হওয়ার কারণ কী? এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘যদি আল্লাহ তাঁর সব বান্দাকে প্রচুর রিজিক দিতেন, তাহলে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। কিন্তু তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছা, সেই পরিমাণ (রিজিক) অবতীর্ণ করেন।’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ২৭)

অনলাইন নিউজ পোর্টাল